০৮ মার্চ, ২০২৬ ০৬:৪৪ পিএম

স্ক্রিন নির্ভরতার প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যে, বাজারে ডা. তুরাবের সমাধানমূলক বই

স্ক্রিন নির্ভরতার প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যে, বাজারে ডা. তুরাবের সমাধানমূলক বই
ডিজিটাল যুগে মনোযোগ সংকট: সমাধানের পথ দেখায় ‘ডিজিটাল সুস্বাস্থ্য’।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডিজিটাল প্রযুক্তি মানুষের জীবন যেমন সহজ, দ্রুত ও সংযুক্ত করেছে, তেমনি মনোযোগ, অভ্যাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ফেলেছে গভীর প্রভাব। স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর কনটেন্টের অবিরাম প্রবাহের ভেতরে আজ অনেকে অজান্তেই আটকে পড়ছে এক ধরনের মনোযোগ সংকটে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় মানুষের মস্তিষ্ক, আচরণ এবং ডিজিটাল পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন করে বোঝার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটেই ডা. সাদী মাসুদ আল তুরাব বই মেলায় নিয়ে এসেছেন ‘ডিজিটাল সুস্বাস্থ্য (ডোপামিন নিয়ন্ত্রণ কৌশল)’ শীর্ষক বই। সময়োপযোগী এই বইয়ে ডিজিটাল যুগের মনোযোগ সংকট, ডোপামিন-নির্ভর আচরণ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সচেতন কৌশল নিয়ে সহজ ও গবেষণাভিত্তিক আলোচনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ডা. সাদী মাসুদ আল তুরাব মেডিভয়েসকে বলেন, ডিজিটাল যুগ মানুষের জীবনকে যেমন দ্রুততর ও সংযুক্ত করেছে, তেমনি সৃষ্টি করেছে নতুন এক মানসিক ও আচরণগত সংকট—মনোযোগের ভাঙন, অতিরিক্ত স্ক্রিন নির্ভরতা এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল আসক্তি। স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া ও অ্যালগরিদম-নির্ভর কনটেন্ট মানুষের মস্তিষ্কের পুরস্কার ব্যবস্থা (ডোপামিন চক্র) এমনভাবে প্রভাবিত করছে যে অনেক সময় মানুষ অজান্তেই দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের মধ্যে নিমগ্ন হয়ে পড়ে। 

বইটিতে লেখক মানুষের মস্তিষ্কে ডোপামিনের ভূমিকা, অভ্যাস গঠনের স্নায়ুবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদমিক নকশা কীভাবে মানুষের মনোযোগকে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখে—এসব বিষয় সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন। 

তিনি দেখিয়েছেন কেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শর্ট ভিডিও বা নোটিফিকেশন-নির্ভর ডিজিটাল পরিবেশ মানুষের মস্তিষ্কে ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনার চক্র তৈরি করে এবং কীভাবে সেই চক্র ধীরে ধীরে আসক্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

গ্রন্থটি মোট ৩৪টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত। প্রতিটি অধ্যায়ে মনোযোগের ভাঙন, অভ্যাসের মনোবিজ্ঞান, ডিজিটাল ট্রিগার, সময় ব্যবস্থাপনা, মনোযোগ পুনর্গঠন এবং প্রযুক্তির সচেতন ব্যবহারের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়েছে কীভাবে একঘেয়েমি, চাপ, মানসিক ক্লান্তি বা একাকিত্বের মতো অনুভূতিগুলো মানুষকে অজান্তেই বারবার ফোনের দিকে টেনে নেয় এবং কীভাবে পরিকল্পিত কৌশলের মাধ্যমে সেই অভ্যাসের চক্র ভাঙা সম্ভব।

বইটিতে কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং বাস্তবধর্মী কিছু কৌশলও তুলে ধরা হয়েছে—যেমন সময়কে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিকল্পনা করা, মনোযোগের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা, ডিজিটাল ট্রিগার শনাক্ত করা এবং প্রযুক্তিকে সচেতনভাবে ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তোলা। 

লেখক দেখিয়েছেন, সমস্যাটি কেবল ব্যক্তিগত দুর্বলতার নয়; বরং আধুনিক ডিজিটাল পরিবেশ নিজেই এমনভাবে নির্মিত যে, মানুষের মনোযোগকে বারবার আকর্ষণ করে। ফলে সমাধানও হতে হবে সচেতন ও কাঠামোগত।

ডা. সাদী মাসুদ আল তুরাব বলেন, বাংলা ভাষায় ডিজিটাল মনোবিজ্ঞান, ডোপামিন-নির্ভর আচরণ এবং মনোযোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বই খুব বেশি নেই। সে দিক থেকে “ডিজিটাল সুস্বাস্থ্য (ডোপামিন নিয়ন্ত্রণ কৌশল)” একটি সময়োপযোগী ও চিন্তাপ্রসূত সংযোজন। বর্তমান প্রজন্ম, অভিভাবক, শিক্ষক এবং পেশাজীবীদের জন্য বইটি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

বইটি এবারের অমর একুশে বইমেলায় ছায়াবীথি প্রকাশনী (স্টল নম্বর: ৪৯৯–৫০২)-এ পাওয়া যাচ্ছে। ডিজিটাল যুগে মনোযোগ, মানসিক ভারসাম্য ও সচেতন প্রযুক্তি ব্যবহারের আলোচনায় এই বই পাঠকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হয়ে উঠতে পারে।

লেখক ডা. সাদী মাসুদ আল তুরাব ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগের একজন চিকিৎসক। স্নায়ুবিজ্ঞানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কারণে মানুষের মনোযোগ, আচরণ এবং মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালীর ওপর ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ বইটিকে একটি শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দিয়েছে। 

চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি তিনি মনোযোগ, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন বিষয়ক লেখালেখির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত