সংশোধন ছাড়া অংশ না নেওয়ার ঘোষণা
ঢাবির মেডিকেলগুলোর প্রথম পেশাগত পরীক্ষার সূচি পরিবর্তনের দাবি শিক্ষার্থীদের
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মেডিসিন অনুষদের প্রথম পেশাগত পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচিতে পরীক্ষার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় না থাকায় তা পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থীরা। প্রকাশিত সূচিতে প্রস্তুতির সুযোগ নেই উল্লেখ করে উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি যৌক্তিক সংশোধন ছাড়া পরীক্ষায় না বসার কথা জানান তারা।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) নতুন সময়সূচিতে অ্যানাটমি দ্বিতীয়পত্র ও ফিজিওলজি দ্বিতীয়পত্রের আগে মাত্র একদিনের প্রস্তুতির সময় রাখায় তারা এই উদ্বেগ ও বিবৃতি প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজসহ ঢাবির অধিভুক্ত বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা আলাদাভাবে একই উদ্বেগ ও অবস্থান ব্যক্ত করেন।
এত বড় সিলেবাসে একদিনে প্রস্তুতি সম্ভব নয় জানিয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অ্যানাটমি দ্বিতীয়পত্রের থোরাক্স, আপার লিম্ব, লোয়ার লিম্ব, অ্যাবডোমেন, সিস্টেমিক হিস্টোলজি ও এমব্রিওলজি—এমন বিস্তৃত সিলেবাস এক দিনে পুনরায় পড়া অসম্ভব। একইভাবে ফিজিওলজি দ্বিতীয়পত্রের রিনাল ফিজিওলজি, এন্ডোক্রাইন সিস্টেম, নার্ভাস সিস্টেম, রিপ্রডাকটিভ ফিজিওলজি, স্পেশাল সেনসেস ও টেম্পারেচার রেগুলেশন—বছরজুড়ে পড়ানো এই গভীর বিষয়গুলোও এক দিনে প্রস্তুত করা যায় না।
বিবৃতিগুলোতে বলা হয়, ‘পরীক্ষার স্বাভাবিক মানসিক চাপ ও পূর্ববর্তী পরীক্ষার ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে ন্যূনতম সময়টুকু রুটিনে দেওয়া হয়নি। এতে পরীক্ষার ফলাফল ও ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
শিক্ষার্থীরা রুটিন সংশোধনের জন্য প্রধানত তিনটি দাবি জানিয়েছে—
১. অ্যানাটমি দ্বিতীয়পত্র ও ফিজিওলজি দ্বিতীয়পত্রের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় রাখা,
২. সিলেবাসের পরিমাণ অনুযায়ী বাস্তবসম্মত সময়ের ব্যবধান নিশ্চিত করা ও
৩. শিক্ষার্থীদের যুক্তি ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে রুটিন পুনঃপ্রকাশ করা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৮১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা এই আবেদনটি শিক্ষাগত মান, ন্যায়সঙ্গত পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে পেশ করছি। রুটিন যৌক্তিকভাবে সংশোধন না হলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আমাদের জন্য সম্ভব হবে না—এটাই আমাদের সম্মিলিত অবস্থান।’
আলাদা বিবৃতিতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘প্রথম পেশাগত পরীক্ষা মেডিকেল জীবনের একাডেমিক ভিত্তি। এখানে তাড়াহুড়ো বা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।’
একই দাবিতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘মানসিক চাপ, সিলেবাসের বিস্তৃতি এবং পরপর পরীক্ষার ক্লান্তি বিবেচনা না করে রুটিন তৈরি হলে তা ন্যায়সঙ্গত পরীক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’
এর আগে ঢাবি অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর নভেম্বর-২৪ বিভিন্ন পত্রের সংশোধিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। এ সময় ঢাবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাবির মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রথম পেশাগত পরীক্ষা সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এসব পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট মেডিকেলে সকাল দশটা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে।
টিআই/এমইউ