১১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৩:৫১ পিএম

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে আন্তর্জাতিক প্যাথলজি দিবস উদযাপন

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে আন্তর্জাতিক প্যাথলজি দিবস উদযাপন
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ‘বিশ্বব্যাপী প্যাথলজি কর্মশক্তি’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আন্তর্জাতিক প্যাথলজি দিবস উদযাপন করেছে। সম্প্রতি কলেজ অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলম এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) প্যাথলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ফরহাদ মাহমুদ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন নিটোরের ডা.শাহরিন আফরোজ, নিউরোসাইন্সের ডা.সিফাত শামস এবং রেফারেল ল্যাবরেটরির ডা. কানিজ

এ সময়  উপস্থিত ছিলেন এনেস্থেসিয়া বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. রেহান উদ্দিন খান, শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. আঈনুল ইসলাম খান, সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. এস. এম. কামরুল আক্তার, কোলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. মো. রশিদুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ডা. ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ, মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাফেজ মোহাম্মদ নাজমুল আহসান, অধ্যাপক নন্দিতা পাল, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ যায়েদ হোসেন, ডা. আখলাক আহমদ, গাইনি বিভাগের অধ্যাপক নীলুফার ইয়াসমিন, ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আসমা খান, ডেন্টাল ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আযম ও ডা. এনায়েত হোসেন, পাশাপাশি কলেজ ও হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, টেকনোলজিস্ট এবং কর্মচারীবৃন্দ।

সেমিনারে বাংলাদেশের প্যাথলজির অগ্রযাত্রা এবং রোগীর চিকিৎসায় প্যাথলজিস্টদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহনাজ পারভীন।

তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের পর ১৯৭৩ সালে অধ্যাপক কে. এম. নজরুল ইসলাম তৎকালীন পিজি হাসপাতালে যোগদানের পর ধীরে ধীরে দেশে হিস্টোপ্যাথলজি শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ কাঠামো গড়ে তোলেন। তাঁর উদ্যোগেই শিক্ষার্থীরা প্যাথলজির উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পান। অধ্যাপক নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে পঞ্চাশজনেরও বেশি দক্ষ প্যাথলজিস্ট তৈরি হয়েছে, যারা পরবর্তীতে এ ধারাকে অব্যাহত রেখেছেন।

ডা. শাহনাজ বাংলাদেশের প্যাথলজির অগ্রযাত্রায় অবদানের জন্য অধ্যাপক নজরুল ইসলামের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রফেসর মোহাম্মদ কামাল, প্রফেসর এ. জে. নাহার, প্রফেসর এম. বি. জামান ও প্রফেসর মোকাররম আলী প্রমুখের নাম উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, রোগ প্রতিরোধে প্যাথলজির ভূমিকার অন্যতম উদাহরণ হলো জরায়ুমুখের ক্যান্সার স্ক্রিনিং প্রোগ্রামে প্যাপ স্মেয়ার টেস্টের প্রয়োগ, যার মাধ্যমে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং রোগী ভয়াবহ কষ্ট থেকে রক্ষা পান।

এছাড়া তিনি সার্জনদের উদ্দেশে বলেন, অপারেশনের এক ঘণ্টার মধ্যে সংগৃহীত স্পেসিমেন ১০% ফরমালিনে সংরক্ষণ করা অপরিহার্য, অন্যথায় টিস্যুতে পচন ধরে এবং সঠিক রোগ নির্ণয় কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে তিনি ইনভেস্টিগেশন ফর্মে রোগীর ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিস ও লক্ষণসমূহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে রয়্যাল কলেজ অব প্যাথলজিস্টস, ইংল্যান্ডের উদ্যোগে প্রথম আন্তর্জাতিক প্যাথলজি দিবস উদযাপিত হয়।

অধ্যাপক ডা. সাকি সকল ফ্যাকাল্টি সদস্যকে রোগ নির্ণয়ে প্যাথলজি বিভাগকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানান এবং উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। পরে সবার অংশগ্রহণে নানা রঙের বেলুন উড়িয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে  আনন্দ শোভাযাত্রা  অনুষ্ঠিত হয়।

টিআই/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী

‘হামের টিকা নিয়ে গাফিলতির ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজন নেই’

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী

‘হামের টিকা নিয়ে গাফিলতির ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজন নেই’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত