এফসিপিএস ট্রেনিং অ্যালোকেশন পদ্ধতি স্থগিত, আন্দোলনের মুখে বিসিপিএসের সিদ্ধান্ত
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস্ অ্যান্ড সার্জন্স (বিসিপিএস) এফসিপিএস পার্ট-১ পাস করা বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের জন্য ট্রেনিং অ্যালোকেশন (পদায়ন) পদ্ধতি স্থগিত করেছে। আজ সোমবার (২৮ জুলাই) বিসিপিএস কাউন্সিলের বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
বিসিপিএস সচিব অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. জামালের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘২০২৫ সালের জুলাই সেশন থেকে এই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। প্রশিক্ষণার্থীরা এখন পূর্বের নিয়ম অনুসারে বিসিপিএস অনুমোদিত যে কোনো স্বীকৃত মেডিকেল কলেজ বা প্রতিষ্ঠানে নিজের পছন্দ অনুযায়ী সরাসরি যোগ দিতে পারবেন।
এই সিদ্ধান্ত এসেছে একদিন আগে রোববার (২৭ জুলাই) বিসিপিএস প্রশাসনিক ভবনে চিকিৎসকদের বিক্ষোভ ও তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পরপরই। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে শতাধিক এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। এক পর্যায়ে তারা বিসিপিএস সি-ব্লকের প্রশাসনিক ভবনের সব প্রবেশমুখে তালা লাগিয়ে দেন।
বিক্ষোভের কারণ ও চিকিৎসকদের অভিযোগ
আন্দোলনরত চিকিৎসকরা জানান, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে চালু হওয়া নতুন ট্রেনিং এলোকেশন পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের এমন কিছু হাসপাতালে পদায়ন করা হচ্ছিল যেখানে নেই পর্যাপ্ত অবকাঠামো, মানসম্মত ট্রেইনার বা পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণের সুযোগ। এছাড়া, এলোকেশন অনুযায়ী ২৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চয়েস দিতে হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের পছন্দ বিবেচনা করা হচ্ছিল না।
তারা অভিযোগ করেন, এই এলোকেশন পদ্ধতির ফলে অনেক দম্পতি চিকিৎসককে আলাদা শহরে পদায়ন করা হচ্ছিল, যা পারিবারিক ও মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।
আন্দোলনরত এক চিকিৎসক বলেন, ‘একই ডিগ্রির জন্য ভিন্ন সেশনে ভিন্ন নিয়ম মানা অনৈতিক। সকল সেশনের জন্য একক নিয়মে ট্রেনিং পোস্ট বরাদ্দ দিতে হবে।’
আরেকজন বলেন, ‘সদর হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিংয়ের পরিবেশ নেই, অথচ সেখানে পদায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে ট্রেনিংয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।’
চিকিৎসকদের দাবি পূরণে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে আন্দোলনকারীরা ‘আংশিক বিজয়’ হিসেবে দেখছেন। আন্দোলনকারীরা মেডিভয়েসকে বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের অ্যালোকেশন পদ্ধতি স্থায়ীভাবে বাতিল করে পছন্দভিত্তিক ট্রেনিংয়ের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক করতে হবে।
এসএইচবি/