৩১ মে, ২০২৫ ০৫:০২ পিএম

নিরাপত্তার অভাবে চতুর্থ দিনের মতো চিকিৎসা বন্ধ চক্ষু হাসপাতালে

নিরাপত্তার অভাবে চতুর্থ দিনের মতো চিকিৎসা বন্ধ চক্ষু হাসপাতালে
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসকদের ওপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আহতদের হামলার পর অচল হয়ে পড়েছে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট (এনআইও) হাসপাতাল। নিরাপত্তার অভাবে চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজে না ফেরায় টানা চতুর্থ দিনের মতো বন্ধ রয়েছে চিকিৎসাসেবা। সেবা নিতে আসা শত শত রোগীকে ফিরে যেতে হচ্ছে। 

আজ শনিবার (৩১ মে) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করে এনআইওর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. জানে আলম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা কর্মপরিবেশ পেলে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করব। আমাদের নিরাপত্তার বিষয়ে স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে কথা বলেছি। তারা অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, সেনাবাহিনী ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আমরা এখনও সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলিনি।’

ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বলেন, ‘হাসপাতালে এখন জুলাই যোদ্ধারা রয়েছেন। শুরুর দিকে তাদের খাবার জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে সরবরাহ করা হতো, কিন্তু এখন তা হাসপাতাল থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ওসি খাবার খেয়ে যাচাই না করলে তারা খেতে চান না।’

ডা. জানে আলম বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় হাসপাতালের পরিস্থিতি জানে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় হাসপাতাল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ সেবা চালু করা যাবে নিশ্চিত নই।’

এর আগে গত বুধবার (২৮ মে) বেলা ১১টার দিকে হাসপাতাল পরিচালক অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরীর কক্ষে ভাঙচুরের পর চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলা করে আহতদের একাংশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চিকিৎসকরা কর্মবিরতি শুরু করলে সেখানেও হামলা করা হয়। এ ঘটনায় ৯ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী আহত হন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার পর চোখের জরুরি সেবা নিতে আসা দেড় শতাধিক রোগী হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। এ ছাড়া চিকিৎসক-নার্সদের হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার পর হাসপাতাল কোয়ার্টারে আটকে পড়েছিলেন চার পরিবারের সদস্যরা। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চক্ষু চিকিৎসক মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আহতরা বলছে, আমরা তো পাগল, এখন আমরা যে কোনো কাজ করতে পারি। তারা চিকিৎসকদের বাসা-বাড়িতে হামলার পরিকল্পনাও করছে। তাদের ভয়ে সাধারণ রোগীরাও হাসপাতাল ছেড়েছে। তবে যাওয়ার জায়গা নেই যাদের, এমন কিছু রোগী এখনও অবস্থান করছে। তা ছাড়া কোয়ার্টারে চারটি পরিবার আটকে আছে।’

প্রসঙ্গত, নানা দাবিতে গত ২৫ মে হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষে বিষপান করেন চার আহত তরুণ। এর রেশ না ফুরাতেই মঙ্গলবার (২৭ মে) পরিচালক অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরীকে অবরুদ্ধ করে গায়ে পেট্রোল ও কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান তারা। পরদিন বুধবার চিকিৎসকদের উপর হামলা হয়।

এদিকে এসব ঘটনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালকের দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। পরে তাকে সাত দিনের ছুটি দেওয়া হয়। তার স্থানে ডা. জানে আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

টিআই

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক