২৪ মে, ২০২৫ ০৮:৫৮ পিএম

জুলাই যোদ্ধাদের স্বাবলম্বীকরণে রিদমের উদ্যোগ

জুলাই যোদ্ধাদের স্বাবলম্বীকরণে রিদমের উদ্যোগ
ছবি: মেডিভয়েস

মেডিভয়েস রিপোর্ট: জুলাই বিপ্লবে রিদম ব্লাড সেন্টারের সাথে সম্পৃক্ত চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবী সংবর্ধনা এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের স্বাবলম্বীকরণের সহায়তা দিয়েছে রিদম ব্লাড সেন্টার। আজ শনিবার (২৪ মে) শনিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলা মোটরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সংবর্ধনা ও সহায়তা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাবলম্বীকরণ প্রোগ্রামের আওতায় ছয়জনকে ব্যবসা ও পেশার উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুইজনকে মুদি দোকান, এক শহীদ পরিবারকে কাপড়ের দোকান, তিনজনকে ব্যাটাারিচালিত রিকশা প্রদান করে রিদম।

এ ছাড়া ২৭০ জন চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ থিয়েটার অব অ্যারিজোনা ও শিকড় বাংলা স্কুল ফিনিক্স’র সহযোগিতায় রিদমের এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদী বলেন, ‘রিদম ব্লাড সেন্টার শুধু যুদ্ধ করেননি, বরং যোদ্ধাদের বাঁচাতে, তাদের পাশে দাঁড়াতে জেলা পর্যায়েও কাজ করেছেন। আল্লাহ আপনাদের এই আত্মত্যাগ ও উদ্যোগের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন।’

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে ইনকিলাব মঞ্চের আজকের এক সংবাদ সম্মেলনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তার আগেও অনেকগুলো সংবাদ সম্মেলন করেছি। কিন্তু আজকের সংবাদ সম্মেলন ছিল গত ১০ মাসের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। সেনাবাহিনী নিয়ে যে পয়েন্ট ধরে ধরে আমরা বলেছি, এটা বাংলাদেশে এমন কেউ নেই, যে জানে না। বিএনপি, জামায়াতের মতো রাজনৈতিক দলগুলো, ইউটিউবে যাদের ভিডিওতে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ হয়, তারাও জানেন। কিন্তু কেউ এতখানি ঝুঁকি নিতে চায় না।’

তিনি বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে আমরা বলেছি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জুলাইয়ের শহীদদের জীবন বাঁচাতে যদি আমাদের কয়েকজন সাধারণ মানুষের জীবন চলে যায়, আর তাতে যদি বাংলাদেশ বেঁচে যায়, তবে সেটাই আমাদের গর্ব, সেটাই আমাদের সম্মান।’

ওসমান হাদী বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানে আসার আগে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শাপলার শহীদদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে মামুনুল হক সাহেব ছিলেন, শাপলার সন্তানেরা সেখানে বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন। আমি নিশ্চিত, এখানেও অনেকে আছেন, যারা শাপলার রাতে ছিলেন। আমি জানি, সেই রাতেও বিশেষ করে ঢাকা মেডিকেলে আমার অনেক বন্ধুদের টিম ছিল, যারা শেষ পর্যন্ত মানুষের পাশে ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচার এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে গত পাঁচ মাস ধরে ইনকিলাব মঞ্চ সক্রিয় ছিল। তবে তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হলো, গত দুই মাসে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ ও বৃহত্তর জেলাগুলোতে গণসংযোগ করেছি। সেখানে আমরা অন্তত একজন শহীদের কবর জিয়ারত করেছি এবং শহীদ পরিবারের সাথে দেখা করেছি।’

জুলাইয়ের নির্মমতা দেশের মানুষ পুরোপুরি অবগত নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শতবার বলেছি, আবার বলছি, জুলাইয়ে কী ঘটেছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ২০ ভাগ মানুষও তার ভয়াবহতা জানে না। আমাদের তথ্য সম্পূর্ণ নয়। এটা যেন অন্ধের হাতি দেখার মতো। কারও কাছে হাতির পা খাম্বার মতো, কারও কাছে পেট দেয়ালের মতো। আসলে সত্যটা বহুমাতৃক এবং বহু মানুষ জীবন দিয়েছে, জান-মাল বাজি রেখে লড়াই করেছে। এই হিসাব করা সত্যিই কঠিন।’

এ সময় শহীদ পরিবারগুলোর দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। বলেন, ‘এক শহীদ পরিবারে উপার্জনক্ষম একমাত্র ছেলে, চার বোনের মধ্যে ১৮-১৯ বছরের ভাইটি ওয়ার্কশপে কাজ করতো। সেই ছেলেটিই আজ শহীদ। এমন অগণিত পরিবার রয়েছে, যাদের পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীকে হারাতে হয়েছে।’

টিআই/এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত