১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০৭ পিএম

‘ট্যাক্স বাড়িয়ে তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে’

‘ট্যাক্স বাড়িয়ে তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে’
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: পৃথিবীর কোনো দেশেই তামাক পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা যায়নি, বাংলাদেশেও তামাক পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে সব ক্ষেত্রে ট্যাক্স বাড়িয়ে এর ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। একই সাথে তামাক চাষ বন্ধ করার পদক্ষেপ নিতে পারলে তামাকের ব্যবহার কমে যাবে। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) দুপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংক্রান্ত এক আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এটিএম সাইফুল ইসলাম এসব কথা বলেছেন।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে শক্তিশালী করুন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা করুন’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যের অতিরিক্ত সচিব।

চীন, জাপানসহ ইউরোপীয় দেশগুলোতে প্রকাশ্যে ধুমপানের হার ২০ শতাংশ উল্লেখ করে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তামাক সেবন করে ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ নেই। টোব্যাকো কোম্পানির মূল হাতিয়ার কৃষক। এ জন্য তারা কৃষককে বিনা মূল্যে সার দেয়। বাংলদেশে আমরা ৭০ হাজার একর জমিতে তামাক চাষ করে থাকি। আইন করে যদি তামাক চাষ রহিত করা যায়, তাহলে হয়তো কাজ হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশে তামাক সেবনের চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ (১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব) তামাক ব্যবহার করেন। এর মধ্যে ৪৬ শতাংশ পুরুষ ও ২৫ দশমিক ২ শতাংশ নারী। এ ছাড়া ১৮ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধূমপান করেন এবং ২০ দশমিক ছয় ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন। তবে বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ বিড়ি ব্যবহার করেন। সেই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্কদের (১৩-১৫ বছর) মধ্যে ছয় দশমিক নয় ভাগ কোন না কোন ধরনের তামাক ব্যবহার করে।

নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, পরোক্ষ ধূমপানের কোন নিরাপদ মাত্রা নেই। প্রাপ্তবয়স্কদের ৪২ দশমিক ৭ ভাগ আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্রে, ৪৯ দশমিক ৭ ভাগ রেস্তোঁরায় এবং ৪৪ ভাগ গণপরিবহণে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। অপ্রাপ্তবয়স্কদের (১৩-১৫ বছর) ৫৯ ভাগ পাবলিক প্লেসে এবং ৩১ দশমিক এক ভাগ বাড়িতে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়।

তামাক চাষ বন্ধে গুরুত্বারোপ করে বক্তারা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় তামাক চাষ করা হয়। সেসব এলাকায় কৃষকদের তামাক চাষ করার জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়। এমনকি, তাদের আলাদাভাবে টাকা দেওয়া হয় এটি চাষ করার জন্য। এটি কৃষকরা চাষ করেন, কারণ তারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তাদের সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হলে এবং তামাকের কুফলের বিষয়ে সচেতন করা গেলে এটি চাষ করা কমে আসবে।

সভায় তামাকের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে বক্তারা বলেন, তামাক প্রাণঘাতী পণ্য। তামাক ব্যবহারকারীর প্রায় অর্ধেক মারা যায় তামাকের কারণে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে প্রায় এক লাখ ২৬ হাজার মানুষ মুত্যুবরণ করেছে তামাকের কারণে, যা দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ১৩.৫ ভাগ। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত। ৬১ হাজারেরও বেশি শিশু (১৫ বছরের নিচে) পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সৃষ্ট রোগে ভুগছে।

সমাজে তামাকের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাবের বিষয়ে উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে তামাকজনিত মৃত্যু এবং অসুস্থতার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা, যা ওই বছর জিডিপির এক দশমিক ৪ ভাগ। তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা বাবদ প্রত্যক্ষ ব্যয় আট হাজার চারশ কোটি টাকা এবং তামাক ব্যবহারের ফলে অকালমৃত্যু ও পঙ্গুত্বের কারণে উৎপাদনশীলতা হারানোর ক্ষতি ২২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। পরোক্ষ ধূমপানের আর্থিক ক্ষতি তামাকজনিত মোট আর্থিক ক্ষতির ১৩ দশমিক পাঁচ ভাগ। ২৫-৬৯ বছর বয়সি পুরুষ অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতার সময় তামাকজনিত অসুখে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঝুঁকি ৭০ ভাগ বেশি।

এসআই/এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : তামাক
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক