ডা. সাদীর মুক্তির দাবিতে চিকিৎসকদের ৫ দফা দাবি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: পুলিশের গুলিতে শহীদ রিকশাচালক ইসমাইলকে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ডেল্টা হেলথকেয়ারের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদী বিন শামসের মুক্তির দাবিতে ৫ দফা দাবি ঘোষণা করেছেন চিকিৎসকরা।
আজ মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় জজকোর্ট প্রাঙ্গণে ‘মার্চ ফর ডা. সাদী ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ টু জজকোর্ট’ কর্মসূচিতে এ দাবি জানানো হয়।
চিকিৎসকদের ঘোষিত পাঁচ দফা হলো—
১. ডা. সাদীর নিঃশর্ত মুক্তি এবং মামলা থেকে তাকে প্রত্যাহার,
২. ডা. সাদীর সাথে গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্য নিরপরাধ কর্মচারীদের নিঃশর্ত মুক্তি,
৩. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে তানভীন হোসেন জোহাকে প্রত্যাহার,
৪. মামলার দ্বিতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা ও হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বদলি পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং
৫. অনতিবিলম্বে স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করতে হবে।
এ সম ডেল্টা হেলথকেয়ারের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদী বিন শামসসহ পাঁচজনের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের চিকিৎসকবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের পুলিশবাহিনী শহীদ রিকশাচালক ইসমাইলকে গুলি করে হত্যা করে। সে ঘটনায় জড়িত পুলিশকে গ্রেপ্তার না করে ডা. সাদী বিন শামস ও তার সহকর্মীদের চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা চরম বৈষম্য ও অন্যায় কাজ। ডা. সাদীর মুক্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
চিকিৎসকরা বলেন, নিরাপরাধ সহকর্মীর মুক্তির জন্য তাদের আদালতে দাঁড়ানো খুবই দুঃখজনক। ডা. সাদীসহ যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটা এই দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য যে, পুলিশ ছাড়া আরও দোষী আছে, তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এইভাবে হয় তো আরও কিছু নিরাপদ মানুষকে গ্রেপ্তার করে আসল দোষীদেরকে দৃষ্টির আড়াল করা হবে। এর মাধ্যমে নিরাপরাধ নাগরিকদের শাস্তি দেওয়া হবে।
জুলাই আন্দোলনের কারণে চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হলে প্রতিটি ঘরে একজন করে গ্রেপ্তার করা লাগবে বলে মন্তব্য করেন তারা। বলেন, এই মামলায় যার সাক্ষী হওয়ার কথা ছিল, আজকে তিনি জেলে।
এ সময় জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, ‘নিরপরাধ সহকর্মীর মুক্তির জন্য আদালতে দাঁড়ানো খুবই দুঃখজনক। ডা. সাদীসহ যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ তিনি বলেন, ‘পুলিশ ছাড়া আরও দোষী আছে, এমন দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এভাবে হয়তো আরও কিছু নিরাপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার করে আসল দোষীদের দৃষ্টির আড়াল করা হবে। এর মাধ্যমে নিরপরাধ নাগরিকদের শাস্তি দেওয়া হবে।’ মামলায় যার সাক্ষী হওয়ার কথা ছিল, তিনি আজকে জেলে—উল্লেখ করে ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, জুলাই আন্দোলনের কারণে চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হলে প্রতিটি ঘরে একজন করে গ্রেপ্তার করা লাগবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে এটি ইচ্ছে করেই তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ বা অপরাধীদের সরিয়ে দিতে সাধারণ মানুষদের হয়রানি শুরু করা হয়েছে। যেসব ক্লিনিকের সামনে আন্দোলন হয়েছে, প্রত্যেকটি ক্লিনিক থেকে তারা রেজিস্ট্রার খাতা নিয়ে গেছে, খাতার পাতা ছিড়ে ফেলছে। সুতরাং যারা চিকিৎসা দিয়েছে, তাদেরকে উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমাদের দাবি, ডা. সাদীসহ অন্যান্যদের দ্রুত মুক্তি চাই।’
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের (নিন্স) ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. আসিফ-উর-রহমান সৈকত বলেন, ‘ডা. সাদীকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৩০২ ধারা অর্থাৎ হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে এবং তাকে এক নম্বর আসামী করা হয়েছে। ডা. সাদী রামপুরার ডেল্টা হেলথ কেয়ারে কর্মরত ছিলেন, জুলাই-আগস্টে পরিচালিত গণহত্যার সময় হাসপাতালটির সামনে পুলিশের গুলিতে একজন রিকশাচালক আহত হয়েছিলেন। সে রিকশাচালক মারা যান। পরবর্তী সময়ে দায়ের করা মামলায় যারা গুলি করেছে তাদেরকে বাদ দিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে ডা. সাদীর মতো একজন নিরীহ চিকিৎসককে আসামী করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নিরীহ দুইজন দারোয়ানকেও অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিকশাচালক ইসমাইল হত্যার বিচার অবশ্যই করতে হবে। কিন্তু একজন নিরীহ মানুষকে মামলা দিয়ে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা ডা. সাদীসহ সকল নিরীহ মানুষের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।’
ডা. আসিফ-উর-রহমান সৈকত আরও বলেন, ‘আমাদের অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র বিচলিত হবো না। ডা. সাদীকে যদি মুক্তি দেওয়া না হয়, তাহলে আমাদের আন্দোলন দূর্বার গতিতে এগোবে। যে কোনো সময় সর্বস্তরের চিকিৎসদের পক্ষ থেকে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা আসতে পারে। আমরা আশা করছি ডা. সাদীর বিরুদ্ধে আনিত সকল মামলা থেকে তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হবে। একই সাথে যারা পরিকল্পিতভাবে ডা. সাদীর মত একজন নিরীহ মানুষকে হত্যা মামলার প্রধান আসামী করেছে, তাদের উদ্দেশ্য বের করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’
এমইউ/