‘চিকিৎসক হয়রানি যেন স্বৈরাচারের দুঃশাসনের প্রতিচ্ছবি’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসক হয়রানি অতীতের স্বৈরাচার সরকারের দুঃশাসনেরই প্রতিচ্ছবি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর রামপুরার একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক গ্রেপ্তারের ঘটনায় এ নিন্দা জানান তিনি।
জুলাই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ ইসমাইলের চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি ডা. সাদী বিন শামসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
রোববার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে চিকিৎসক হয়রানি কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ কিনা তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকদের কোনো অনিয়ম তদন্ত করার ক্ষেত্রে বিএমডিসি আছে, যারা তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতো। সেখানে কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই চিকিৎসকদের এমন হয়রানি কোনো ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের অংশ কিনা তা খতিয়ে দেখা জরুরি। ’
বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বলেন, ‘বিভিন্ন মিডিয়াতে ছবিতে দেখা যাচ্ছে পুলিশের নির্মমতায় শহীদ ইসমাইলের মাথার একটা অংশ থেতলে গিয়ে সে পড়েছিল। সেই অবস্থায় চিকিৎসক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তার চিকিৎসার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। অথচ সেই চিকিৎসককে আজ হত্যা মামলার আসামি করা হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যে পুলিশ গুলি করে ইসমাইলের মাথার খুলি উড়িয়ে দেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসককে সেবা প্রদানে বাধা দেন, সেই পুলিশই আবার ওই ডাক্তারের হাতে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যান। অথচ হত্যার সাথে জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা এখনও দৃশ্যমান নয়। এসব হত্যাকাণ্ডের পিছন থেকে যারা কলকাঠি নেড়েছেন, নির্দেশদাতা ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কিংবা দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।’
ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী যে চিকিৎসক নিজের জীবন ঝুঁকিতে রেখে চিকিৎসা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, তাকেই এমন হয়রানি আসলে নজিরবিহীন। একই সাথে আমরা যখন দেখতে পাই, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের চিকিৎসকরা যারা শান্তি সমাবেশ করেছে, চিকিৎসা প্রদানে বাধাদান করেছে, তাদের এখনো পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে একটি বিশেষ মহলের সহায়তায় শাস্তির বদলে পুরস্কার দেয়া হয়, তখন সেটি আমাদের ব্যথিত করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রেতাত্মাদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন থেকেই যায়। চিকিৎসক হয়রানির এ ঘটনা তীব্র নিন্দনীয়।
ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অনতিবিলম্বে উক্ত চিকিৎসককে সসম্মানে মুক্তি ও তার সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’
এমইউ/