নিয়ম ভেঙে চাকরি স্থায়ী-পদোন্নতি: স্বাস্থ্য ক্যাডার এসোসিয়েশনের প্রতিবাদ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ক্যাডারের নিয়ম ভঙ্গ করে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের এডহক ও প্রকল্পের দুই হাজার ৩৪৬ চিকিৎসকের চাকরি স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতির উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে স্বাস্থ্য ক্যাডার এসোসিয়েশন।
গতকাল বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুমে এক অনুষ্ঠানে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
অনুষ্ঠান থেকে এসোসিয়েশনের সেন্ট্রাল কনভেইনিং কমিটির এক্সটেনশন ইউনিট হিসেবে ‘মহাখালী ইউনিট’ ঘোষণা করা হয়। ষাট সদস্য বিশিষ্ট এই ইউনিটের আহ্বায়ক করা হয় ডা. আসিফ মাহমুদ ভাস্করকে এবং সদস্য সচিব হন ডা. তৌফিক আহমেদ।
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন (পিএসসি) সচিবালয়ের সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক নোটিসে এডহকের ১ হাজার ৯৮৯ জন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ৩৫৭ জন চিকিৎসক কর্মকর্তার চাকরি স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ, বিভাগীয় পরীক্ষা ও শিক্ষানবিশকাল ছাড়াই তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ প্রদানের উদ্যোগের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানায় বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার এসোসিয়েশন। নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে নিয়োগকৃত চুক্তিভিত্তিক (এডহক ও প্রজেক্ট) এবং বিসিএস ফেল করা চিকিৎসকদের বিসিএস ক্যাডারভুক্তির আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে।’
স্বাস্থ্য ক্যাডার এসোসিয়েশনের আহ্বাবায়ক ডা. নেয়ামত হোসেন রিপন বলেন, বাংলাদেশের নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে পরীক্ষার আয়োজন করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে যারা সুপারিশপ্রাপ্ত হবে, তাদেরকে নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া কোনোভাবেই প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নিয়োগ দেওয়া যাবে না। কোনো কারণে দিতে হলে তা ছয় মাসের কম সময়ের জন্য দিতে পারবে। তারপর সরকার প্রয়োজনবোধ করলে সেটাকে বাড়ানো যেতে পারে। এমন করে করে চলবে। ক্যাডারভুক্ত করতে হলে বিসিএসের মাধ্যমে হতে হবে। কিন্তু এডহক ও প্রকল্পের চিকিৎসকদের বেলায় তা অনুসরণ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ২০১০-১১ সালের দিকে একযোগে চার হাজার ১৩৩ জনকে এডহক ভিত্তিতে সহকারী সার্জন নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ছয় মাস পরপর তাদের চাকরি নবায়ন করতে হচ্ছিল। তাদেরকে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে এনক্যাডারমেন্টে চলে আসতে বলা হয়েছিল। তারা যখন বিসিএস পরীক্ষাতে কোয়ালিফাইড হয় তখন চাকরিতে যোগদানের তারিখ থেকে চাকরির বয়স পাচ্ছিল। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় দুই হাজারের বেশি সংখ্যক চিকিৎসক ক্যাডার হতে পারেননি।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সরকারি চাকরির নিয়ম হচ্ছে, চাকরি হওয়ার পর সে একটা ‘প্রবেশনারি পিরিয়ডে’ থাকে। দুই বছরের সময়ের জন্য মফস্বলে থাকতে হয়। তারপরে দুই মাসের ফাউন্ডেশন ট্রেনিং করতে হয়। এ ছাড়া তিন পত্রের একটা ডিপার্টমেন্টাল পরীক্ষা দিতে হয়। সেখানে চাকরির নিয়ম-কানুনের ধারণা দেওয়া হয়। এরপর চাকরি স্থায়ী হয়। এডহকরা এ ধরনের পরীক্ষা দেননি।
চাকরি স্থায়ী হওয়ার পরে সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা দিতে হয় উল্লেখ করে চিকিৎসকরা বলেন, কারো যদি পোস্ট গ্রাজুয়েশন করা থাকে, তাহলে এ সময়ে কনসালটেন্ট বা সহকারী অধ্যাপক পদের জন্য আবেদন করতে পারেন। কিন্তু এডহকরা চাকরি স্থায়ী হওয়ার জন্য প্রাথমিক তিনটা কাজ সম্পন্ন হয়নি। তারা সিনিয়র স্কেল পরীক্ষাও দেননি। একজন বিসিএস ক্যাডার, যে পরীক্ষা দিয়ে নিজেকে প্রমাণিত করে চাকরি পেলেন, এত কিছু সম্পন্ন করার পর তার চাকরি স্থায়ী হয়। কিন্তু অ্যাডহকরা সরাসরি চায় তাদের চাকরি স্থায়ী করে দেওয়া হোক। অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে যোগ্যতা প্রমাণের এতো বড় বিষয়টি তারা অতিক্রম করেছে।
তাদের অভিযোগ, এডহক ও প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই ছিল আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডার। পরীক্ষা-নিরীক্ষার বাধ্যবাধকতা না থাকায় বহু অযোগ্য লোক এখানে ঢোকার সুযোগ পেয়েছে। এখানে পুনর্বাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিটি স্তরে তাদেরকে বৈধতা দিয়ে গেছে। বিভিন্ন সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ বড় বড় পদগুলোতে থাকার চেষ্টা করেছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন পোস্ট গ্রাজুয়েশনের সার্টিফিকেট দেখিয়ে তারা সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেতে চাচ্ছে। কিন্তু তারা তো তাদের চাকরি স্থায়ী করার জন্য বেসিক কাজগুলোই করেনি।
বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ বলেন, বিসিএসের নিয়মগুলো শুধু চিকিৎসকদের জন্য না। সব ক্যাডারেই একই নিয়ম। কিন্তু স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে তারা নানা অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পিএসসির নিয়ম-কানুন সংশোধন করিয়েছে। স্বাস্থ্য ক্যাডার চিকিৎসকরা অনেকবার প্রতিবাদ জানিয়েছে, কিন্তু পেশিশক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তাদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা চলেছে। কিছুদিন আগেও চিকিৎসকরা আন্দোলন করে একটি আদেশ বাতিল করিয়েছেন। এখন আবার এই আদেশ দেওয়া হলো।
এনএআর/এমইউ
-
০৫ জুলাই, ২০২০