স্বাস্থ্যসেবায় বাস্তবায়ন হবে ১১ প্রকল্প
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যখাতে ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, যা আগের বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়ে ৩ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা বেশি।
এই খাতে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩০ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। আর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য ১১ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বাজেট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে অন্তত ১১টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এরমধ্যে প্রাধান্য পেয়েছে, ক্যান্সার ও কিডনিজনিত রোগীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা, বেড সংখ্যা বৃদ্ধি, ভ্যাক্সিন প্ল্যান্ট স্থাপন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।
স্বাস্থ্যসেবার ১১ প্রকল্প
১. বিভাগীয় শহরের সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন। এছাড়া মেডিকেল কলেজগুলোতে বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন।
২. সিলেট, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী এবং ফরিদপুর- এই পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপন।
৩. চীন সরকারের সহায়তায় চট্টগ্রাম বার্ন ইউনিট স্থাপন এবং স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাপনা চালু করা।
৪. ১৫টি সরকারি হাসপাতালে হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপন।
৫. এসেনসিয়াল বায়ো-ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাসিলিটি অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, গোপালগঞ্জ এবং স্ট্রেংদেনিং রেগুলেটরি সিস্টেম ফর ভ্যাকসিনস ডায়াগণস্টিক অ্যান্ড থেরাপিউটিকস স্থাপন।
৬. দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কার্যক্রম পরিচালনা করে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য, পুষ্টিসহ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং বিভিন্ন স্তরে এসেন্সিয়াল সার্ভিস প্যাকেজ (ইএসপি) বাস্তবায়ন।
৭. ৯০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ, ৬০টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র/রুরাল ডিসপেনসারী পুনঃনির্মাণ, দুইটি নতুন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ, একটি নতুন ১০০ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল নির্মাণ, ছয়টি ১০ শয্যা বিশিষ্ট এবং দুইটি ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ, ৯০০টি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অবকাঠামো মেরামত ও সংস্কার।
৮. চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১-৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং ১০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সকে ৫০-১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ।
৯. সারাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কার্যক্রম, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, পোলিও ক্যাম্পেইন অব্যাহত রাখা এবং কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে ইপিআই হিমাগার সম্প্রসারণ।
১০. নতুন ১০টি উপজেলার মধ্যে ১২টি মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম সম্প্রসারণ।
১১. দেশের সকল জেলা ও তদুর্ধ্ব হাসপাতালগুলোকে রাজস্ব বরাদ্দের বাইরে চাহিদা অনুযায়ী যন্ত্রপাতি, এম এস আর, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিতকরণ।
এনএএন/