যদি সুস্থ না হও ক্ষমা করে দিও, ফিস্টুলা রোগীদের অধ্যাপক সায়েবা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: একুশে পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও ‘সায়েবাস মেথড’ এর আবিষ্কারক অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার রোগীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘ডাক্তার-নার্স যারাই আছি, কেউ ভালো করার মালিক নই। আল্লাহ আমাদেরকে যতটুকু ক্ষমতা দিয়েছেন হাতে-ব্রেনে, আমরা ততটুকুই করতে পারবো, তার একটুও বেশি করতে পারবো না। কাজেই আমরা চেষ্টা করবো, যদি ভালো হও, আলহামদুলিল্লাহ। যদি সুস্থ না হও, আমাদের ক্ষমা করে দিও। আমাদের উপর কেউ কষ্ট রেখো না। তোমাদের ভালো করার জন্য আমরা সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি।’
মঙ্গলবার (২৮ মে) রাজধানীর মগবাজারের ম্যামস ইনস্টিটিউট অব ফিস্টুলা অ্যান্ড উইমেন্স হেলথের আয়োজনে আন্তর্জাতিক প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূল দিবস ও নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফিস্টুলা রোগীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার বলেন, ‘আমি তো মানুষ, শতভাগ সিদ্ধান্ত ঠিক না হতেও পারে। আমি সবসময় কল্পনায় আমার মেয়েকে দাঁড় করাই, এটা যদি আমার মেয়ে হতো, তাহলে কী সিদ্ধান্ত নিতাম। আমার সন্তানকে যে চিকিৎসা করতাম, রোগীকেও তাই করতে হবে। সন্তানের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত, রোগীর ব্যাপারেও একই রকম সিদ্ধান্ত। এটা শতভাগ মেনে চলার চেষ্টা করি। আমি অস্ত্রোপচার করলে অনেক রোগীকে ভালো করতে পারি না। যেগুলোকে ভালো করি, এর চাইতে আনন্দ, আর কিছু নেই। যখন আমার কোনো ফিস্টুলা রোগী ভালো হয় না, তখন রোগী কাঁদেন। আমিও রাতে গিয়ে কাঁদি। অসম্ভব খারাপ লাগে। একটা রোগী ফেইলর হলে আর ফিস্টুলার অস্ত্রোপচার করতে ইচ্ছা করে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোগীরা অনেক আশা নিয়ে আসে। মনে করেন, আমি এখানে আসলেই ভালো হয়ে যাবো। শতভাগ চেষ্টা করার পরও রোগী যখন ভালো হয় না, তখন নিজেকে এতো ছোট এবং অপরাধী মনে হয়, যা বলার মতো নয়।’
অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার আরও বলেন, ‘আমরা নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে আর কোনো রোগীর ফিস্টুলা হবে না। তাই আমাদেরকে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে জোর দিতে হবে।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশের আনুমানিক এক লাখ ২০ হাজার নারী প্রসবজনিত ফিস্টুলায় ভুগছেন। প্রতি এক হাজার বিবাহিত নারীর মধ্যে ১ দশমিক ৬৯ জন এতে আক্রান্ত। ফিস্টুলা রোগীর মধ্যে ৩০ দশমিক ৪ শতাংশের বয়স ছিল ৪০ থেকে ৪৯ বছর, ৫০ বছরের বেশি ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ, ২৬ দশমিক ১ শতাংশের বয়স ৩০ থেকে ৩৯ বছর, ৮ দশমিক ৭ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ২৯ বছর। এসব রোগীর ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই।
প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার দেশের প্রতিথযশা একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০০৬ সালে সরকারি চাকরি জীবন থেকে অবসরে যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার। এরপর মহিলা রোগীদের চিন্তা বিবেচনা করে নিজ হাতে গড়ে তোলেন ম্যামস ইনস্টিটিউট অব ফিস্টুলা অ্যান্ড উইমেন্স হেলথ। কয়েক বছর ধরে নিজ প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার। যেখানে তাঁর মাধ্যমে অসংখ্য রোগী লক্ষাধিক টাকার সেবা বিনামূল্যে পেয়ে থাকেন।
এমইউ/
-
১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২৩ মে, ২০২৪
আন্তর্জাতিক ফিস্টুলা নির্মূল দিবস আজ
হাজারে ১.৬৯ বিবাহিত নারী ফিস্টুলায় আক্রান্ত
-
২৭ এপ্রিল, ২০২৪