১৩ মে, ২০২৪ ০৭:০০ পিএম

ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বারোপ, ৭ বছরের মাস্টারপ্ল্যান মন্ত্রণালয়ের

ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বারোপ, ৭ বছরের মাস্টারপ্ল্যান মন্ত্রণালয়ের
ফাইল ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২০২৩ সালে মারা গিয়েছিলেন এক হাজার ৭০৫ জন। আক্রান্ত হয়েছিলেন তিন লক্ষ ২১ হাজার ১৭৯ জন। যা ছাড়িয়ে গিয়েছিল ২৩ বছরের রেকর্ড। এদিকে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাস পার হওয়ার আগেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন ২৯ জন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর মৌসুম। সে হিসাবে এখনও মৌসুম শুরু হয়নি। ফলে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এ অবস্থায় ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ওপর জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নেওয়া হয়েছে সাত বছরের মাস্টারপ্ল্যান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ডেঙ্গুর টিকা প্রয়োগ করতে ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপের (নিটাগ) পরামর্শ চেয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে এটি ব্যবহারের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং এর বিস্তার মোকাবেলায় প্রতিরোধ ও চিকিৎসার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। কেননা ডেঙ্গুর ভ্যাকসিনের এখনো অনেক ধরনের সীমাবদ্ধতা আছে। সব বয়সীদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না। আবার যাদের একবার ডেঙ্গু হয়েছে, তাদেরও দেওয়া যাবে না। তাই ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভর না করে মশা মারার ওপরেই জোর দিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশিদ আলম বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলায় আমরা প্রিভেনশন, ট্রিটমেন্ট এবং লজিস্টিক সাপ্লাই—এই তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছি। প্রিভেনশন বা প্রতিরোধের জন্য আমরা বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনকে প্রি-মনসুন, মনসুন এবং পোস্ট মনসুন সার্ভে করতে নির্দেশ দিয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিটি হেলথ কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে সব জায়গায় যাতে তথ্যগুলো ঠিকমত প্রচার হয়, সেটি নিশ্চিতে লাইফ স্টাইল হেলথ এডুকেশ ডিপার্টমেন্টকে দিয়ে কাজ করছি।

তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালগুলো প্রস্তুত আছে। কোভিডের সময় যেসব হাসপাতাল আমরা ডেডিকেটেড করেছিলাম, সেগুলো তো আছে–সাথে অতিরক্ত আরো বেড যদি লাগে তাও যোগ করা হবে। এ ছাড়া ডেঙ্গুর চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় ফ্লুইড; এ জন্য আমরা ইতোমধ্যে সমস্ত ওষুধ কোম্পানির সাথে কথা বলেছি। কী পরিমাণ ফ্লুইড লাগবে, তার চাহিদা চেয়েছে তারা, তাদেরকে সেই চাহিদাও দেওয়া হয়েছে। তাই আশা করছি ফ্লুইড নিয়ে সমস্যা হবে না।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতোমধ্যেই সাত বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে মন্ত্রণালয়। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে ডেঙ্গুমুক্ত করতে ‘জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কৌশল (২০২৪-২০৩০)’ নামের এই মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হয়েছে।

এ কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, সময়মতো রোগ শনাক্ত করা, গুরুতর ডেঙ্গু সংক্রমণের সতর্কতা চিহ্ন চিহ্নিত করা এবং উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা হলো মৃত্যুহার ১ শতাংশের কম করার মূল উপাদান। এ ছাড়া চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর দক্ষতা বাড়ানো হবে, যাতে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়। একই সঙ্গে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলা, যাতে কীটনাশক ও অন্যান্য পদ্ধতি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা যায়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে গৃহস্থালি পর্যায়ে কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে মাল্টিসেক্টরাল কো-অর্ডিশেন ব্যবস্থা করা হবে। ব্যাপক গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেওয়াও এই কৌশলের অংশ।

এনএআর/এএনএম

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের তথ্য

দেশের ৫৭% স্বাস্থ্যপেশাজীবী অপ্রয়োজনীয়ভাবে শিশুকে গুঁড়াদুধের পরামর্শ দেন

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের তথ্য

দেশের ৫৭% স্বাস্থ্যপেশাজীবী অপ্রয়োজনীয়ভাবে শিশুকে গুঁড়াদুধের পরামর্শ দেন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত