ডা. মো. আরমান হোসেন রনি

ডা. মো. আরমান হোসেন রনি

চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।


২৫ এপ্রিল, ২০২৪ ১০:৩৬ এএম

ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে গিয়ে চোখের রোগ?

ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে গিয়ে চোখের রোগ?
প্রতীকী ছবি

ত্বক উজ্জ্বল করার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের ক্রিম ব্যবহার করে থাকি। এসব ক্রিমে স্টেরয়েডসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে; যা আমাদের ত্বকের পাশাপাশি চোখের রেটিনার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় চোখের এই রোগকে বলে সেন্ট্রাল সেরাস রেটিনোপ্যাথি (সিএসআর)। সেন্ট্রাল সেরাস রেটিনোপ্যাথি হলো চোখের একটি অবস্থা যেখানে রেটিনার পেছনে তরল জমা হয় এবং দৃষ্টিকে প্রভাবিত করে। রেটিনা হলো চোখের পিছনে একটি পাতলা সংবেদনশীল পর্দা, যা আমাদের দেখতে সাহায্য করে। তরল জমা হওয়ার ফলে রেটিনা আংশিক বিচ্ছিন্ন হতে পারে। এটি সাধারণত এক বা উভয় চোখকে প্রভাবিত করে। নারীর তুলনায় অল্পবয়সী কিংবা মধ্যবয়সী পুরুষদের এটি বেশি হয়।

লক্ষণসমূহ

প্রথমে যে লক্ষণটি দেখা যায় তা হলো আক্রান্ত চোখে ঝাপসা দেখা। অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে রয়েছে, যেমন—

কেন্দ্রীয় দৃষ্টিতে অন্ধকার থাকে। 
সরলরেখাগুলো আঁকাবাঁকা দেখায়। 
বস্তু মূল আকারের চেয়ে ছোট দেখায়।

কারণ

অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা সিএসআর’র জন্য একটি প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়। মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা মানুষের শরীরের কর্টিসল নামক হরমোন নিঃসরণ করে, যা চোখের প্রদাহ করতে পারে এবং এর ফলে রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যান্য ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, যেমন—

স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম ওষুধ সেবন,
অটো ইমিউন রোগ, যেমন—লুপাস এবং রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস,
হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ,
অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্ব, অর্থাৎ লাজুক ব্যক্তি, যাদের অন্যের সঙ্গে সহজে মিশতে বা কথা বলতে সমস্যা হয় এবং সে জন্য মানসিক চাপে ভোগে,
ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণ,
ঘুমের সমস্যা, যেমন—স্লিপ অ্যাপনিয়া এবং অনিদ্রা,

চিকিৎসা

সেন্ট্রাল সেরাস রেটিনোপ্যাথি শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যেই নিজেই ঠিক হয়ে যায়। যদি কয়েক মাসের মধ্যে তরল নিজ থেকে কমে না যায়, তাহলে নিম্নলিখিত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

ওষুধ

এ ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ সাহায্য করতে পারে, যেমন—

অ্যান্টি ভিইজিএফ: দুশ্চিন্তা কমানোর ওষুধ।
ফটো ডাইনামিক থেরাপি: রোগটি দীর্ঘস্থায়ী হলে ফটো ডায়নামিক থেরাপি ব্যবহার করা হয়। 
লেজার চিকিৎসা: রোগের ধরনের উপর নির্ভর করে লেজার চিকিৎসা করা হয়।

প্রতিরোধ

প্রতিদিন রাতে অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে,
ক্যাফেইন, অ্যালকোহল এবং স্টেরয়েড সীমিত ব্যবহার করতে হবে,
স্টেরয়েডযুক্ত ত্বকের রং ফর্সা হওয়ার ক্রিম ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, 
নিয়মিত ব্যয়াম করতে হবে,
প্রিয়জনের সাথে সময় কাটাতে হবে এবং
দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করতে হবে। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত