২৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৩:০২ পিএম

মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে পরিকল্পনা প্রণয়ন

মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে পরিকল্পনা প্রণয়ন
সচিব বলেন, দেশের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা উন্নয়ন করে দেশের আর্থ সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক সমৃদ্ধি দরকার, যা অনেকাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে কর্মকৌশল পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের সামগ্রিক বিষয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য রিপোর্ট ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কর্মকৌশল পরিকল্পনা ২০২০-২৩ এর অবহিতকরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

সচিব বলেন, ‘কোভিড-১৯ চলাকালে সাধারণ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য খুব খারাপ পর্যায়ে ছিল। তখন আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা যাওয়ার রোগী সংখ্যা এতো বেশি ছিল যে, অনেকে মানসিক শক্তি হারিয়ে ছিল। ওই সময় যদি মানসিক শক্তি সংরক্ষণ করতে পারতো, তাহলে এই পরিস্থিতি হতো না। বিশ্বের অনেক দেশে আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সে তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে আছে।’

তিনি বলেন, ‘সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের জন্য একটি দিক নির্দেশনা তৈরি করেছে। তিনি যে বিষয় নিয়ে কাজ করছেন, সে বিষয়টা নিয়ে আমরা ওই পর্যায়ে চিন্তা করি নাই।’

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাত দিয়ে সচিব বলেন, ‘আগে আমাদের অটিজম সম্পর্কে ধারণা ছিল না। তাই মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে বুঝতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্যে সমস্যার কারণে অনেক পরিবার, সমাজ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা করা সম্ভব হলে, মানসিক রোগীর প্রবণতা কমানো যাবে। আর মানসিক রোগীদের যদি প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া যায়, তাহলে তাদের পরিবারে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’ 

ড. মু. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সাতক্ষীরাতে ডিসি হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে ইতালিয়ান একটি সংস্থাকে কাজ করতে দেখেছিলাম। ওই সংস্থার বাচ্চাগুলো অনেক মেধাবী। শুধু আমাদের সাথে তাদের পার্থক্য হচ্ছে- আমরা অনেক বেশি মাত্রায় চিন্তা করতে পারি, তারা পারে না। কিন্তু তারা যে মাত্রায় চিন্তা করে, সেই চিন্তার মাত্রা অনেক নিখুঁত ও সঠিক, যেটা আমাদের চিন্তার মধ্যে থাকে না।’

তিনি বলেন, ‘সংস্থাটি শিশুদের প্রশিক্ষিত করেছে ও বিভিন্ন কাজ শিখিয়েছে। ফলে তারা অনেক উচ্চ মানের জিনিস তৈরি করতে সক্ষম এবং এসব জিনিসের গুণগত মান অনেক ভালো। এগুলো বাজারে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়। তারা আমাদের সম্পদ। তাদেরকেও যে কাজে লাগানো যাবে, সেটা আমরা বুঝতে পারি না। আমাদের এই চিন্তার মাত্রাটুকু উন্মোচিত হয়েছে। এটা একটি ইতিবাচক দিক।’

মন্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আগামীতে আমাদের করণীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই আমাদের কিড সেক্টর প্রোগ্রাম হবে, সেটাকে চলমান ধারায় নিয়ে আসা হবে।’

সচিব বলেন, ‘জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে একটি কর্মকৌশল পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের সামগ্রিক বিষয় রয়েছে। যেখানে সকল ব্যক্তির দায়িত্ব সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। কাজেই এটা ব্যবহার করলে আমাদের কিড সেক্টর প্রোগ্রামকে চলমান ধারায় অব্যাহত রেখে মানসিক স্বাস্থ্যকে সঠিক মাত্রায় আনা সম্ভব। দেশের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা উন্নয়ন করে দেশের আর্থ সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক সমৃদ্ধি দরকার, যা অনেকাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক