চিকিৎসক সেজে চুরি, আটকের পর মুচলেকায় মুক্ত
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসকদের অ্যাপ্রোন ও গলায় স্টেথোস্কোপ নিয়ে হাসপাতালে ঘোরাঘুরি করেন। আর সুযোগ পেলেই জড়িয়ে পড়েন চৌর্যবৃত্তিতে। শুভ (৩৭) নামে এমনই এক চোর ধরা পড়েছে আনসার সদস্যদের হাতে। সোমবার (৭ নভেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তাকে আটক করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢামেক হাসপাতালের ৩য়তলার করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) থেকে আটকের তাকে পুলিশ ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. নাজমুল হক মেডিভয়েসকে বলেন, ‘লোকটি প্রায়ই আমাদের হাসপাতালের বিভিন্ন জিনিস চুরি করতো। ডাক্তারদের বই, ব্যাগসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি করতো। কিন্তু আমরা কোনভাবেই তাকে ধরতে পারছিলাম না। সর্বশেষ নীলক্ষেতে সে যেখানে এসব বিক্রি করতো সেখানকার সিসি টিভি ফুটেজ এবং আমাদের সিসি টিভি ফুটেজ যাচাই করে তাকে আমরা চিহ্নিত করতে পারি এবং গতকাল আমাদের আনসার সদস্যরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।’
তবে তাকে আরেকবার ভালো হওয়ার সুযোগ দিতে চান জানিয়ে পরিচালক বলেন, ‘একজন চোর চুরি করার পেছনে নির্দিষ্ট কিছু কারণ আছে। হয়তো তার আয় করার পথ নেই অথবা সে কোনো সমস্যায় আছে কিংবা সে মাদকাসক্ত। সেজন্য আমরা তার পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। যদি দেখি, তার একটা আয়ের পথ করে দিলে সে চুরি করা ছেড়ে দিবে, তাহলে আমরা একটা ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করবো।’
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ‘মামলার বাদী খুঁজে না পাওয়ায় ওই চোরের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েক মাস আগে তাকে আটক করে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছিল।’
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি নূর মোহাম্মদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নেই, বিষয়টি খোঁজ-খবর নিচ্ছি।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আটক শুভ শরীয়তপুরের জাজিরা থানার কাজীরচর গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে বংশালের মুকিম বাজার ৭৭ নম্বর বাসায় থাকেন। এর আগেও কয়েকবার তাকে ঢাকা মেডিকেল থেকে চুরির সময় হাতেনাতে ধরা হয়েছিল।