‘দ্রুত মাইগ্রেশন, নয়ত কঠোর আন্দোলন’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দ্রুত মাইগ্রেশনের দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে রাজধানীর নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ক্লাস শুরুর পর প্রথম বর্ষ কোনো সমস্যা ছাড়া কাটলেও দ্বিতীয় বর্ষে আমরা জানতে পারি, এই কলেজের বিএমডিসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নেই। এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে উনারা বারবার আশ্বস্ত করেন যে, অতিদ্রুত বিএমডিসি ও ঢাকা ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করবেন। এই অবস্থায় আমরা ১ম প্রফেশনাল পরীক্ষার দুইদিন আগে ঢাকা ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রেশন পাই।’
তারা আরও বলেন, ‘কলেজে ৩য় বর্ষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও ৪র্থ বর্ষে এসে তারা বিভিন্ন দুর্নীতি, কলেজে শিক্ষক সংকট, হাসপাতালে ডাক্তার সংকট, ল্যাব ইকুইপমেন্ট সংকটসহ নানান সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়ে। এমনকি ৪র্থ বর্ষের কোনো ক্লাসের ব্যবস্থা করেননি তারা।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মেডিকেল কলেজ থেকে স্বাস্থ্য শিক্ষা সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয় জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও সুযোগ-সুবিধা না থাকার কারণে এটি একটি রোগীশূন্য হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম বর্ষ পেশেন্ট ওরিয়েন্টেড হলেও পর্যাপ্ত রোগীর অভাবে ৩য় বর্ষে আমরা শুধুমাত্র থিওরি বেইসড ওয়ার্ড ক্লাস করেছি এবং ৪র্থ বর্ষে ওয়ার্ড ক্লাসের কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। বর্তমানে মেডিসিন ও সার্জারি ডিপার্টমেন্টে কোনো চিকিৎসক নেই। নেই কোনো এনেস্থেসিওলজিস্ট, ফলে কোনো ধরণের সার্জারি সম্ভব নয়।’
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘যাবতীয় সমস্যার প্রেক্ষিতে আমরা কলেজ থেকে মাইগ্রেশন চেয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করলে মহাপরিচালক জানান, যেহেতু কলেজটিতে স্টে অর্ডারে চলছে, তাই আদালতের আদেশ ছাড়া মাইগ্রেশন দেওয়া সম্ভব নয়। সে মোতাবেক আমরা ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট করি। ১১ মাস পর চলতি বছরের আগস্টে রিটের আদেশ আসে। কিন্তু আদালতের আদেশ আসার দুই মাস পরও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর মাইগ্রেশন দিতে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে আমাদের শিক্ষাজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।’
দাবি অনাদায়ে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘কোর্টের অর্ডার আসার পরও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আমিরুল মোরশেদ খশরু মাইগ্রেশন দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মাইগ্রেশন পেতে হলে কলেজ বন্ধ করতে হবে। কিন্তু বেসরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা ৯.৬ অনুযায়ী মাইগ্রেশনের জন্য কলেজ বন্ধ করার কোনো নিয়ম নেই। আমরা দ্রুত মাইগ্রেশনের ব্যবস্থা চাই। নয়ত কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’