হলের ছাদ থেকে পড়ে রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু, রামেকে ভাঙচুর
মেডিভয়েস রিপোর্ট: আবাসিক হলের ছাদ থেকে পড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এমজিএম শাহরিয়ার নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) মারা যান। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মারধর ও মেডিকেলে ব্যাপক ভাঙচুর করে রাবির শিক্ষার্থীরা।
শাহরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি শহীদ হবিবুর রহমান হলের ৩৫৪ নম্বর রুমের আবাসিক ছাত্র ছিলেন।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ড. নওশাদ আলি মেভিয়েসকে বলেন, শাহরিয়ার নামের ওই শিক্ষার্থী হলের চার তলার ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। সেখান থেকে তাকে প্রায় মৃত্যু অবস্থায় নিয়ে আসা হয় মেডিকেলে। ওয়ার্ডে পাঠানো হলে সঙ্গে সঙ্গে মারা যায় সে। চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগই পাওয়া যায়নি।’
চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিলো না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে মেডিকেল নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসা দেওয়ার জন্য যে সময়টুকু দরকার, তা আমরা পাইনি। অবহেলার প্রশ্নই উঠে না।’
রামেক অধ্যক্ষ বলেন, ‘এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ন্যক্কারজনকভাবে মেডিকেল ভাঙচুর ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মারধর করা হয়েছে। এটি খুবই দুঃখজনক।’
তদন্ত কমিটি গঠন
ড. নওশাদ আলি বলেন, ঘটনা তদন্তের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ প্রশাসন যৌথভাবে আলোচনায় বসে এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন তাঁরা।
পাঁচ সদস্য তদন্ত কমিটি সদস্যরা হলেন-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর, রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পুলিশ কমিশনার ক্রাইম, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ড. নওশাদ আলি ও মেডিকেল কলেজের একজন সিনিয়র ডাক্তার।
তিনি বলেন, মেডিকেল কলেজের সিসি ক্যামেরা ও ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে রিপোর্ট পেশ করা হলে মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
এদিকে আজ সকাল আটটার দিকে পরিবারের কাছে শাহরিয়ারের লাশ হস্তান্তর করে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়েরর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সকাল নয়টায় জানাজা শেষে শাহরিয়ার বাড়ির উদ্দেশে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স রওনা হয়েছে। সঙ্গে যাচ্ছেন তার সহপাঠীরা।