১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৫:০৫ পিএম

নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হতে চান ঢাবির ফাইনাল প্রফে সেরা হওয়া ডা. দিশা

নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হতে চান ঢাবির ফাইনাল প্রফে সেরা হওয়া ডা. দিশা
ডা. সামিহা জামান আখতার দিশা। ছবি: আবু সাঈদ

ছোটবেলা থেকে অদম্য মেধার অধিকারী ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৭৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. সামিহা জামান আখতার দিশা। সফলতার সঙ্গে জীবনের একেকটি ধাপ পার করছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর এমবিবিএস চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষায় শীর্ষ স্থান দখল করেছেন তিনি।

বাবা-মা ও ছোট ভাই নিয়ে ডা. দিশার পরিবার। তাঁর বাবা ডা. মো. খালেকুজ্জামান আখতার ও মা ডা. শামীমা আখতার। দুজনই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। বাবা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং মা গাইনি বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেলের গাইনি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তাঁরাও ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। ডা. দিশার বাবা-মা ছিলেন ঢাকা মেডিকেলের যথাক্রমে ৩১ ও ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

ডা. দিশা বেড়ে ওঠা ঢাকা শহরে। সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে রাজধানী মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসি ও ভিকারুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসএস পাস করেছেন তিনি। ২০১৬-১৭ সেশনে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় সারাদেশে ২২তম হয়েছিলেন তিনি। ছোট বেলা থেকে কঠোর অধ্যাবসায় ও নিয়মিত প্রচেষ্টায় সব শ্রেণিতে ফলাফলে শীর্ষে ছিলেন ডা. দিশা। 

সব কিছু ছাপিয়ে ঢাবির প্রকাশিত ফলাফলে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন ডা. দিশা। গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে নবীন এ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা হয় মেডিভয়েস প্রতিবেদকের। জানান, চিকিৎসা পেশা ঘিরে তার পরিকল্পনা, সেই সঙ্গে উঠে আসে ঈর্ষণীয় সাফল্যের নেপথ্য কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: সাখাওয়াত হোসাইন।

মেডিভয়েস: আপনার অনুভূতি জানতে চাই।

ডা. দিশা: আমি খুবই আনন্দিত। চাপের মধ্যে থেকে পরীক্ষাটা দিয়েছি। আমাদের সময় পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সময় খুব কম পেয়েছি। সব মিলিয়ে গুছিয়ে যতটা ভালো প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল ততটা ভালো করে নিতে পারিনি। পরীক্ষাগুলোও আশানুরূপ হয়নি। প্রস্তুতিতে কিছুটা ঘাটতি ছিল, এ জন্য অনেক ভয়ে ছিলাম। পরীক্ষার ফলাফল কেমন হবে না হবে, আজকে সকালে ফলাফল দেখে অবাক হয়েছি। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা। তাঁর অসীম করুণা ছাড়া আমার এত ভালো ফলাফল সম্ভব ছিল না। আমার মা-বাবার প্রতিও কৃতজ্ঞতা। তাঁরা আমাকে সবসময় সহযোগিতা করেছেন। সবমিলিয়ে আমি আনন্দিত এবং সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।

মেডিভয়েস: কোন অনুপ্রেরণায় এ পর্যন্ত আসা?

ডা. দিশা: আমার আব্বু এবং আম্মুর অনুপেরণায় এ পর্যন্ত আসা। তাঁরা দুজনই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তাঁরাও এক সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। ছোটবেলা থেকে আব্বু-আম্মুর সাথে বিভিন্ন গেট-টুগেদারে যেতাম। এরপর থেকে ঢাকা মেডিকেলের প্রতি একটা আগ্রহ জন্মায়। এরপর যখন নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ নিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে বায়োলজি ভালো পারবো এবং আনন্দের সাথে পড়তাম। আব্বু-আম্মুকে দেখে এবং ভায়োলজির প্রতি ভালো লাগা সবমিলিয়ে মেডিকেলটা পারফেক্ট মনে হয়েছে।

মেডিভয়েস: এমবিবিএসের পাঁচ বছরের পথ-পরিক্রমা কেমন ছিল? দিনগুলো কিভাবে কাটিয়েছেন?

ডা. দিশা: আমি খুবই ভাগ্যবান। বাসায় থেকে ক্লাস করেছি। হলে মজাও হয়। সবকিছু নিজের করে নেয়াও একটা কষ্ট। বাসায় আব্বু-আম্মুর সাথে দিনগুলো কাটাতাম। আমার বন্ধুরাও অনেক ভালো ছিল। এমবিবিএসের লাইফটা কিভাবে চলে গেছে আমি আসলে টের পাইনি। সবমিলিয়ে দেখা যেত। ক্লাস তারপর আইডেম, ওয়ার্ড ও বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি। সবমিলিয়ে ভালোভাবে গিয়েছে। বড় ধরনের কোনো সমস্যা ছাড়াই এমবিবিএসের সময়টা কেটে গেছে। আর ফাইনাল প্রফটা নিয়ে ভয় ছিল। এত দিন খুব ভালো গেছে। এটাতে না জানি, কি হয়ে যায়! ফাইনাল প্রফটাও খুব ভালোভাবে কেটেছে।

মেডিভয়েস: কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে চান এবং কেন?

ডা. দিশা: কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হবো, এখন পুরোপুরি নির্ধারণ করিনি। তবে ছোটবেলা থেকে নিউরোলজি ভালো লাগে। নিউরো এনাটমি, নিউরো ফিজিওলজি, নিউরো মেডিসিন--এসব বিষয় খুবই ভালো লাগে। নিউরো মেডিসিন নিয়ে পড়ার ইচ্ছা আছে। নিউরো মেডিসিনটা আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। এখানে অনেক কিছু জানার ও করার আছে। নিউরোলজির কেসগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে মনে হয়েছে এখানে আমি কিছু করতে পারবো। নিউরোলজির রোগীরা খুবই অসুস্থ থাকেন। তাদের জন্য কিছু করতে পারবো। নিউরো অনেক কিছুই আমাদের অজানা। নতুন নতুন গবেষণা হচ্ছে। এসব বিষয়গুলো খুবই ভালো লাগে। নতুন কিছু করার ইচ্ছা থেকেই নিউরোলজির প্রতি আগ্রহ।

মেডিভয়েস: যারা অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ জানতে চাই?

ডা. দিশা: মেডিকেলের পরীক্ষাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবাই কষ্ট করে, তবে কষ্ট অনুযায়ী সবার ফলাফল হয় না। যতই চেষ্টা করুক, দুর্ভাগ্যক্রমে প্রত্যাশা অনুযায়ী সবার ফলাফল হয় না। তাদেরকে বলবো, ভেঙে পড়া যাবে না। অনেক অনেক উদাহরণ আছে, যারা এক বা দুইটা পরীক্ষায় খারাপ করেছে, কিন্তু পোস্ট গ্রাজুয়েশনে ভালো করেছে। এমবিবিএসে খারাপ হওয়াটাও স্বাভাবিক, এতে ভেঙে পড়া যাবে না। আর এমবিবিএস যত তাড়াতাড়ি শেষ করা যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মেডিভয়েস: পরীক্ষার প্রস্তুতি ও কৌশল সম্পর্কে জানতে চাই।

ডা. দিশা: যারা প্রফ দিয়েছে, তারা সবাই বলবে পরীক্ষার প্রস্তুতি এক বা দুদিনের নয়। পুরো ফেইজ জুড়ে প্রস্তুতি নিতে হয়। শুরু থেকে নিয়মিত পড়ার চেষ্টা করেছি। যে ওয়ার্ডে বা ক্লাসে পড়ালো। পড়াটা দিনেরটা দিনে পড়তে না পারলেও ওই সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করেছি। পরীক্ষার আগে যদিও বেশি একটা সময় পাইনি। তবে অনেক কিছুই আমার গুছালো ছিল। এটা আমাকে খুব সহযোগিতা করেছে।

মেডিভয়েস: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাই।

ডা. দিশা: ওভাবে দেশে থাকার ইচ্ছা নেই। বিসিএসের প্রতি খুব একটা আগ্রহ নেই। তবে ইন্টার্নশিপের সময় মতের পরিবর্তন আসতেও পারে। আর চিকিৎসকদের জন্য ইংল্যান্ড সবচেয়ে ভালো। এই দেশের জন্য চেষ্টা করার ইচ্ছা। ইংল্যান্ডে বিদেশি চিকিৎসকদের চাহিদাও অনেক। অন্যান্য দেশের তুলনায় ইংল্যান্ডে যাওয়া একটু সহজ। আপাতত, বিদেশে চলে যাওয়ার ইচ্ছা আছে।

মেডিভয়েস: অনেকেই বলেন, মেডিকেলে যে যত বেশি মুখস্ত করতে পারবে, সে তত বেশি ভালো করতে পারবে? এ বিষয়ে আপনার মতামত?

ডা. দিশা: মেডিকেলে মুখস্ত করার কিছু বিষয় রয়েছে। কিন্তু মুখস্ত বিদ্যাই যে সবকিছু তা নয়। আমার ব্যক্তিগত অভিমত, মুখস্ত করলে বুঝে মুখস্ত করতে হবে। আবার মুখস্ত না করলে টার্মগুলো মনেও থাকবে না। ভাইভাতে স্যাররা, মুখস্ত উত্তরের চেয়ে জ্ঞানগত দক্ষতাকে গুরুত্ব দেন। ফাইনালসহ অন্যান্য প্রফেও শুধু মুখস্ত বিদ্যা দিয়ে ভালো করা সম্ভব নয়। মুখস্ত করবো, তবে অবশ্যই বুঝে করতে হবে।

মেডিভয়েস: এমবিবিএস লাইফে অনেকে নানা কারণে বিপথগামী হয়ে যায়, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

ডা. দিশা: এমবিবিএস শেষ করা মানেই আমাদের পথচলা শেষ নয়। এটা কেবল শুরু। পাস করেছি, মানে আমি একজন এমবিবিএস ডাক্তার। এখনও অনেক পথ বাকি। আর যারা মেডিকেলে ঢুকেই বিপথগামী হয়ে যায়, তাদেরকে বলবো, এটা শুরু। শুরুটা ভালো না করলে ফিরে আসা কঠিন হয়ে যাবে। শুরুটাতে যেন নিয়মিত হয়। প্রতিটা প্রফে সময় মতো পড়াশোনা ইত্যাদি শেষ করতে হবে। পরিবার থেকে দূরে এসে পড়াশোনা করতে হয়। নিজের কাছে খারাপ লাগবেই। তাতে মন খারাপ করা যাবে না। অসৎ সঙ্গকে সময় দেওয়া যাবে না। মেডিকেলের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। এমবিবিএসের শুরু থেকে নিজেকে গুছিয়ে নিতে হয়। আর আমাদের ক্লাসে আইডেম কার্ড থাকে। আমি আইডেমের পড়াটা ভালোভাবে পড়লে নিয়মিত পড়াটা হয়ে যায়। আজকে যেটা পড়া হলো, আগামীকাল তার উপর আইটেম। আইটেমের ওপর ভিত্তিকরে পড়লেনিয়মিত পড়ার বড় একটা অংশ শেষ হয়ে যায়।

মেডিভয়েস: ঢাবির অধীনে অকৃতকার্য অধিকাংশ শিক্ষার্থীই সার্জারিতে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

ডা. দিশা: তিনটা বিষয়ের মধ্যে সার্জারি খুবই কঠিন। সার্জারি মূল বইটা যে কারও পড়তে কঠিন লাগবে। খুব একটা গোছানো না। যেগুলো গাইড বা সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করি, সেগুলোও যে খুব গোছানো, তাও নয়। সার্জারি পড়াও কঠিন। সার্জারি রিটেনের প্রশ্নগুলো খুবই কঠিন এসেছে। আর সার্জারির ভাইভাতেও খুব গভীরের প্রশ্নগুলো করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন ধরতে কঠিন হয়ে যায়। সার্জারির সিলেবাসটাও অনেক বড়। পড়াগুলো কম সময়ের রিভিউ দেওয়াটাও কঠিন ছিল। এসব কারণেই অনেকে খারাপ করেছেন। চেষ্টা অব্যাহত রাখলে তারাও পরবর্তীতে ভালো করবেন।

মেডিভয়েস: মেডিকেল শিক্ষার্থীরা মাঝে হীনমন্যতায় ভোগেন এবং নিজেকে একা ভাবেন। এতে মাঝে মাঝে আত্মঘাতীমূলক সিদ্ধান্ত নেন তারা। এ বিষয়টা কিভাবে দেখছেন?

ডা. দিশা: আমাদের মূল কাজ হলো মানুষের সঙ্গে। সুস্থতার জন্য আমাদের কাছে আসে। শিক্ষা জীবনে এ রকম চিন্তা আসতে পারে, পুঁথিগত যে পড়া পড়ছি, এটা দিয়ে মানুষের কতটা সহযোগিতা করতে পারবো এবং সুস্থ করে তুলতে পারবো? আমি যে মেডিকেলে পড়ছি। আমি কি এটার মান রাখতে পারবো? আমি কি মানুষের জীবন বাঁচাতে সহযোগিতা করতে পারবো? এ রকম চিন্তা চলে আসে। এ জন্য পুঁথিগত পড়াটা কিছুটা কমিয়ে প্র্যাক্টিক্যাল চর্চাটা বাড়ালে ভালো হবে।

আর মেডিকেল জীবনের শুরুতেই কিছু ভালো বন্ধু বানিয়ে নিতে হবে। এ সময়ে রিডিং পার্টনার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একা একা পড়ে যতটা ভালো করা যায়, আর অনেকে মিলে পড়লে তার চেয়েও বেশি বোঝা যায়। আর সবাই এক রকম হয়ও না। মেডিকেল জীবনের শুরুতেই দুই-তিনজন মিলে একটা রিডিং সার্কেল করে ফেললে অনেক কিছুই সহজ হয়ে যায়। আর সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে। আর মেডিকেলে একাকিত্বে ভোগাটাও স্বাভাবিক। কারণ মেডিকেলে অনেক চাপ থাকে। শুরু থেকে কিছু ক্লাসমেটের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে। নিঃস্বার্থভাবে সম্পর্ক রাখতে হবে। এতে সবকিছু একটু সহজ হবে।

আর তাদেরই মেডিকেলে আসা উচিত, এই পেশার প্রতি যাদের শখ এবং আগ্রহ রয়েছে। এটা একটা কঠিন জায়গা। পুরো রাস্তাটা খুবই কঠিন। এখানে যারা পরিবারে চাপে পড়তে আসে, তারা খুবই হতাশায় পড়ে যায়। আর এখানে রোগী ছাড়া ভালো করা খুব কঠিন। কারণ অনেক সময় দেওয়া লাগে। আমি যদি মেডিকেল জীবনকে উপভোগ না করি, তাহলে হতাশায় পড়ে যাবো। মেডিকেল যারা পছন্দ করেন, তাদের এখানে আসা উচিত।

মেডিভয়েস: মেডিকেল ক্যারিঅন বাতিল করা হয়েছে। সেইসাথে জিপিএ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?

ডা. দিশা: আমি খুবই ছোট। নীতি নির্ধারকরা ভালো বুঝেন এবং জানেন। বিশেষ করে ক্যারিঅন সিস্টেমটা বাতিল করা কোনোভাবেই সাপোর্ট করছি না। কারণ যেকোনো শিক্ষার্থীর একটা প্রফে খারাপ আসতেই পারে। কোনো কারণে একজন অসুস্থ থাকলো বা ওইদিনটা তাঁর ভাগ্য সহায় ছিল না। ওই বিষয়ে তার খারাপ রেজাল্ট আসতেই পারে। সে অলরেজি পিছিয়ে গিয়েছে। ক্যারিঅন বাতিল করার মধ্য দিয়ে তাকে আরও পিছিয়ে দেওয়ার কোনো মানে হয় না। ক্যারিঅন বাতিল করা হলে শিক্ষার্থীদের হতাশা বহুগুণ বাড়বে। এতে বেশি লাভ হবে না।

আর সিজিপিএ কর্তৃপক্ষ আনুক। কোনো সমস্যা নেই। সেইসাথে আরও কিছু পরিবর্তন আনা উচিত। যেমন: আমাদের লিখিত পরীক্ষা একেকজন একেক মেডিকেলে দিই, ভাইভা একেকজন একেকজনের কাছে। আর একেক শিক্ষক একেক রকমের মার্ক দেন, একেক শিক্ষক একেক রকমের প্রশ্ন করেন। মার্কটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটাতে আরও আদর্শমান তৈরি করতে হবে। একেক সিজিপিএ দিয়ে একেক মেডিকেলের স্টুডেন্টকে কীভাবে বিচার করবো? ধরুন, ঢাকা মেডিকেলের শিক্ষকদের একটা ধারণা থাকে, ঢাকা মেডিকেলের স্টুডেন্টরা ভালো করবে। সবাইকে ৭০ বা ৮০ দেন। এতে আমাদের সিজিপিএটা ভালো থাকবে। অন্যান্য মেডিকেলে খুব ভালো করলেও ৭০ দিবে। আর ৮০ টিচাররা হয়তো দিতে চান না। আর যেহেতু আদর্শ কোনো মান নেই, এতে খুব একটা পার্থক্য তৈরি হবে। সিজিপিএ আসুক, কোনো সমস্যা নেই। তবে আমাদের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। পরিবর্তন না এনে সিপিজিএটা দিয়ে দিলে অনেকের জন্য ক্ষতির কারণ হবে।

মেডিভয়েস: নতুন কারিকুলামে প্যাথলজির আগে ফার্মাকোলজি পড়ানো হবে। বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

ডা. দিশা: আমরা পড়ে আসছি। সেকেন্ড ফেইজে ফরেনসিক ও কমিউনিটি মেডিসিন। এখন ফার্মাকোলজি আগে আনা হয়েছে। এটা ভালো হয়েছে। তার সাথে জেনারেল প্যাথলজিটা আনলে ভালো হতো। মানে প্যাথলজিটা তৃতীয় বর্ষে দিয়ে চতুর্থ বর্ষে ফার্মাকোলজি দিলে ভালো হতো। প্যাথলজিতে আমরা রোগের বেসিসটা জানি। প্যাথলজি না জেনে ফার্মাকোলজি পড়া খুবই কঠিন। প্যাথলজি তৃতীয় বর্ষে দিয়ে চতুর্থ বর্ষে ফার্মাকোলজি দিলে ভালো হতো। মানে তৃতীয় বর্ষে কমিউনিটি মেডিসিন আর ফরেনসিক মেডিসিনের সাথে প্যাথলজি বা জেনারেল প্যাথলজি থাকলে ভালো হয়। আর চতুর্থ বর্ষে গিয়ে সিস্টেমিক প্যাথলজি, ফার্মাকোলজি আর বায়োলজি। এ রকম হলে ভালো হতো।

এমইউ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি