স্পেশালাইজড লিভার সেন্টারে এক ব্যক্তির ডায়ালাইসিস সম্পন্ন
আসাদুল ইসলাম দুলাল : স্পেশালাইজড লিভার সেন্টার ধানমন্ডিতে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির লিভার ডায়ালাইসিস করা হয়েছে। তিনি একিউট হেপাটাইটিস বি-ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। সেখান থেকে তার লিভারটি খারাপ হয়েছে।
রোববার (২২ মে) আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লিভার বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল ওই ব্যক্তির লিভার ডায়ালাইসিস করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বিকেলে অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা একিউট লিভার ফেইলিওর রোগীদেরকে লিভার ডায়ালাইসিস করি থাকি। বিশেষ করে যাদের লিভার ড্যামেজ বা খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছে, এই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করি। এটা এখন পর্যন্ত পরীক্ষামূলক চিকিৎসা। এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা বাংলাদেশসহ আরও অনেক দেশে করা হয়। এটা চায়নাতে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়। এ ছাড়া দিল্লিতে লিভার ডায়ালাইসিস করা হয়।’
রোগীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে এই লিভার বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আমাদের এই রোগীর একিউট লিভার ফেইলিওর ছিল। এই রোগীর এক সেশন লিভার ডায়ালাইসিস করার পর রোগীর বিলিরুবিন ১০ এর মতো কমে এসেছে। বর্তমানে রোগী ভাল আছেন, কথা বলছেন। তাকে আরও দুইদিন পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবো যে, তার ডায়ালাইসিস কমলো নাকি বাড়লো। যদি লিভার ফেইল করে,তখন চিকিৎসা হচ্ছে লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন। যেসব দেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন করা হয়, সে সকল দেশে লিভার ডায়ালাইসিস করা হয়।’
কখন থেকে দেশে ডায়ালাইসিস শুরু হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে লিভার ডায়ালাইসিস শুরু করেছি। তখন একাধিক রোগীকে ডায়ালাইসিস করেছিলাম। এটির চিকিৎসা ব্যয়বহুল। তাই সবমিলিয়ে ব্যাপক চাহিদা বা প্রচারণা শুরু হয়নি। এটি হচ্ছে পঞ্চম কিংবা ষষ্ঠতম লিভার ডায়ালাইসিস রোগী।’
এই লিভার ডায়ালাইসিস চিকিৎসার জন্য সব মিলিয়ে দেড় লাখ টাকা খরচ হয় বলে জানানা এই চিকিৎসক।
কোন পর্যায়ে গেলে ডায়ালাইসিস করা হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যখন আমরা মনে করি এই প্রচলিত পদ্ধতিতে রোগীকে রক্ষা করতে পারবো না, তখন এই লিভার ডায়ালাইসিস করা হয়। যেমন: আমাদের এই রোগীর এস বিলিরুবিন ১৬ থেকে পর্যায়ক্রমে ১৭-৩০ পর্যন্ত হয়। এভাবে বেড়ে যখন ৪২ হয় অর্থাৎ তার লিভার ফেইলিওর হয়েছে, তখন এই ডায়ালাইসিস করা হয়।