মানিকগঞ্জে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা
অভিযুক্ত রুবেল দন্ত চিকিৎসক নন: বিডিএস
মেডিভয়েস রিপোর্ট: মানিকগঞ্জের ঘিওরে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আসাদুর রহমান রুবেল দন্ত চিকিৎসক নন। সংবাদ মাধ্যমে তাকে দন্তচিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করার মাধ্য়মে দন্ত চিকিৎসক সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলে মনে করে বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি (বিডিএস)।
আজ সোমবার (৯ মে) সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবীর বুলবুল সাক্ষরিত গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সংশোধনের জন্য সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
এতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ জাতীয় সংসদে পাসকৃত একটি আইন, যার বিভিন্ন বিধি-ধারা প্রতিপালিত করা হয়। উক্ত আইনে শুধু বিডিএস (ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি) ডিগ্রি প্রাপ্ত ও বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমএন্ডডিসি) থেকে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিজেকে দন্ত চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার আইনগত অধিকার রাখে। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যা মামলার আসামি জনৈক আসাদুর রহমান রুবেল (৪০) কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে বিডিএস ডিগ্রি ধারী নয় এবং বিএমএন্ডডিসি থেকে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত নয়। অথচ গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তাকে দন্ত চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়ছে, যা দন্ত চিকিৎসক সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে। এবং উক্ত পেশাকে আঘাত করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’
বাংলাদেশ দন্ত চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি এ রকম সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তি বিশেষের পেশাগত পরিচয় ভালোভাবে যাচাই করার জন্য অনুরোধ করে। সেই সঙ্গে প্রকাশিত সংবাদের একটি সংশোধনী প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ করা হয়। দন্ত চিকিৎসকদের বিশেষ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইট সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, ঘুমন্ত স্ত্রীকে হত্যার পর একে একে দুই মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করেন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া গ্রামের আসাদুর রহমান রুবেল (৪০)। গতকাল রোববার (৮ মে) ভোরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি। এরপর নিজে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে শুয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।
পুলিশের হাতে আটকের পর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন রুবেল। নিহতরা হলেন, স্ত্রী লাভলী আক্তার (৩৫), বড় মেয়ে বানিয়াজুরি সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছোঁয়া আক্তার (১৬) এবং ছোট মেয়ে কথা আক্তার (১২)।