ডেঙ্গু ঝুঁকিতে ঢাকা দক্ষিণের তিনটি ওয়ার্ড: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তিনটি ওয়ার্ড ডেঙ্গু সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ওয়ার্ড তিনিটি হলো ৩৮, ৪০ ও ৪৫। প্রাক মৌসুম এডিস সার্ভের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে উত্তর সিটির কোনো ওয়ার্ড উচ্চ ঝুঁকিতে নেই।
আজ বুধবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ‘প্রাক মৌসুম এডিস সার্ভে-২০২২’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এসময় উত্তর সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে উত্তর সিটির সব খালে গাপ্পি মাছ ছাড়া হবে। আর দক্ষিণ সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দাবি, দক্ষিণ সিটিকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়লে হাসপাতালে স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমরা জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করেছি। কারণ, ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধির বেশিরভাগ কারণই হলো মানুষের তৈরি। ডেঙ্গু প্রকোপের প্রকৃতিগত যেসব কারণ রয়েছে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কষ্টসাধ্য। তবে আমরা মনে করি, সচেতনতা আমাদের অনেকাংশেই মুক্তি দিতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণে আমরা এখন ভালো পরিস্থিতিতে আছি। সেটি আমাদের অবশ্যই ধরে রাখতে হবে। এ মুহূর্তে যদি আবার ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়ে, তাহলে পুনরায় আমাদের স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হতে পারে। তাই এর আগাম প্রতিরোধ করতে হবে।’
অধ্যাপক খুরশীদ আলম বলেন, ‘করোনাকালে অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্তদের সঙ্গত কারণেই বিড়ম্বনায় ভুগতে হয়েছে। অনেকেই সময়মতো সার্জারিসহ নানা চিকিৎসা নিতে পারেননি। ক্যানসার ও প্রসূতি মায়েরা সর্বাধিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। তাই করোনার মতো আরেকটি চ্যালেঞ্জে যেন আমরা না পড়ি, সে বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ প্রমুখ।