২৫ এপ্রিল, ২০২২ ১০:২৮ পিএম

সাফল্যের তিন রহস্য জানালেন ডেন্টালে তৃতীয় ফারিয়া মাইশা

সাফল্যের তিন রহস্য জানালেন ডেন্টালে তৃতীয় ফারিয়া মাইশা
ফারিয়া রহমান মাইশা

আলী হোসাইন: ২০২১-২২ সেশনের ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন মোছা. ফারিয়া রহমান মাইশা। ভর্তি পরীক্ষায় তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৯১.২৫ এবং মোট নম্বর ২৯১.২৫।

তুখোর মেধাবী মাইশা পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা ও জেএসসি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছিলেন। বাবার চাকরির সুবাদে মাইশার ছোটবেলা কেটেছে রংপুরে। শহরের রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে তার স্কুল জীবন শুরু।

তিনি রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালে এসএসসি এবং রাজধানীর হলিক্রস কলেজ থেকে ২০২১ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। অতীতের ধারাবাহিকতায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায়ও মেধার স্বাক্ষর রাখেন মাইশা। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই পরীক্ষায় পান গোল্ডেন জিপিএ-৫।

মাইশার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলায়। তার পিতা মো. হাবিবুর রহমান বেসরকারি চাকরিজীবী।

সফলতার অনুভূতি সম্পর্কে মেডিভয়েসকে মাইশা বলেন, ‘অবশ্যই আমার কাছে অনেক ভালো লাগছে। কারণ, আমি ভালো একটা রেজাল্ট করেছি। জাতীয় মেধায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছি।’ 

এই অবস্থানে আসার পেছনে কাদের অবদান রয়েছে—জানতে চাইলে ফারিহা রহমান মাইশা বলেন, ‘পরিবারের ভূমিকা ছাড়া এই অবস্থানে আসা কিছুতেই সম্ভব না। আমার বাবা-মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। আমার পড়াশোনার সময়  যাতে নষ্ট না হয়, এজন্য আমার ছোটখাট কাজগুলো বাবা-মা করে দিয়েছেন।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবদানের বিষয়ে এই কৃতি শিক্ষার্থী বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীর পেছনে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা থাকে। আমার কলেজের প্রতিটি বিভাগের শিক্ষকরা আমাকে ভালোভাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে আমি এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো করতে পারি। শিক্ষকরা অনেক অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। বায়োলজির প্রতি আমার একটা ভালো লাগা কাজ করতো। এটা অবশ্যই আমার কলেজের শিক্ষকদের জন্যই।’

‘একই সঙ্গে কোচিংয়ের শিক্ষকদের কথা অবশ্যই স্মরণ করবো। আমার ব্যাপারে তারা অনেক সহযোগী মনোভাবাপন্ন ছিলেন’, যোগ করেন মাইশা।

সফলতা তিন প্রচেষ্টার গুণফল জানিয়ে মাইশা বলেন, ‘প্রত্যেকটা সফলতা হলো গুণফল। তোমার পরিশ্রম গুণন, ভাগ্য গুণন, বাবা-মা’র দোয়া গুণন একটি সফলতা। তিনটি অংশের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে একটি ভালো অর্জন সম্ভবপর হয়। যে কোনো একটি অংশ শূন্য হলে পুরো ফলাফল শূন্য হয়ে যাবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘একটি সফলতার পেছনে কয়েকটি বিষয় সমন্বিতভাবে জড়িত থাকে। আল্লাহর করুণা, বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা ও নিজের ইচ্ছার সমন্বিত প্রচেষ্টা হলো আজকের এই সফলতা।’

‘পরীক্ষার হলে অবশ্যই শান্ত-স্থির থাকতে হবে। মাথা ঠাণ্ডা রাখা অনেক বড় একটা বিষয়। ওই সময় ঠাণ্ডা রাখা যদিও বেশ চ্যালেঞ্জের। কিন্তু সেটি করতে পারলে পরীক্ষার হলে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে আসা যায়’, যোগ করেন মাইশা।

নিজের সিদ্ধান্তেই ডাক্তারি পড়ায় মনোযোগী হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে ডাক্তারি পড়ার জন্য কেউ জোর করেনি। আমার নিজের ইচ্ছা ছিল, চিকিৎসা পেশায় আসার জন্য। এসএসসি পাস করে কলেজে আসার পর সবাইকে জিজ্ঞেস করা হয়, তুমি কোন দিকে যেতে চাও? আমি চিন্তা-ভাবনা করে দেখলাম, বায়োলজি আমার পছন্দ।’

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা ছিল, কিন্তু জোর ছিলা না জানিয়ে মাইশা বলেন, ‘আমাকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পরিবার থেকে বলা হয়েছে, তুমি যেদিকে যেতে চাও, আমরা তোমার সঙ্গে আছি। যেহেতু আমি নিজে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাই পড়াশোনার সময়টা আমি একঘেঁয়েমি করিনি। পড়তে ইচ্ছে করছে না, এ রকম কখনো হয়নি। আমাকে পড়তেই হবে, কারণ আমার লক্ষ্যই হলো ডাক্তার হওয়া।’

ভবিষ্যতে নিজেকে কোন অবস্থায় দেখতে চান? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘আমি একটি মহান পেশায় নিয়োজিত হওয়ার জন্য প্রথম পদক্ষেপটা পার করতে পেরেছি। আমি সরকারি মেডিকেল এবং একই সঙ্গে ডেন্টালে চান্স পেয়েছি। আমি একজন ভালো ও মানবিক চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই। মেডিকেল জীবনের প্রত্যেকটা পরীক্ষা সাফল্য লাভ করতে চাই। সর্বোপরি আমি একজন ভালো চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে গড়তে পারবো, সেই চেষ্টা করবো।’

এমবিবিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি দিয়েই ডেন্টালে সারাদেশে তৃতীয় হয়েছেন বলে জানান ফারিহা মাইশা। তিনি বলেন, মেডিকেল প্রস্তুতির বাইরে অতিরিক্ত কোনো প্রস্তুতি ছিল না।

নিজের দুর্বলতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুর্বল বিষয় বলতে গেলে আমাদের তো একটা সংশয়ের ব্যাপার ছিল যে, সংক্ষিপ্ত সিলেবাস পরীক্ষা হবে, নাকি পূর্ণ সিলেবাসে? আমরা এইচএসসি সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে দিয়েছিলাম। ভর্তি পরীক্ষা যখন পূর্ণ সিলেবাসে হয়, তখন কাভার করাটা চ্যালেঞ্জ ছিল আমাদের কাছে। আর আমিতো নিজেকে ইংরেজিতে দুর্বল মনে করি। কিন্তু ডেন্টালে পরীক্ষায় ইংরেজি গ্রামার সহজ মনে হয়েছে এবং ইংরেজি আমার ভালো হয়েছে।’ 

সফলতা ধরে রাখতে না পারার বিষয়ে এই কৃতি শিক্ষার্থী বলেন, ‘আসলে এটাতো একটা এক ঘণ্টার পরীক্ষা এবং মুখস্ত বিষয়ের ওপর নির্ভর। অনেকে পরিবারের চাপে মেডিকেলে পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরীক্ষায় হয়তো কোনোভাবে হয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে অনেকে ধৈর্যের অভাবে সফলতা ধরে রাখতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান যুগে একটা লক্ষ্য থেকে সরে যাওয়া খুব একটা কঠিন ব্যাপার না। বন্ধুদের প্ররোচনা, সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত হওয়া ও মাত্রাতিরিক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার সর্বনাশ ডেকে আনে। অনেকে মনে করে, আমি তো ভালো অবস্থানে পৌঁছে গেছি, এখন আমার কোনো অসুবিধা নেই। এভাবে সে পড়াশোনা থেকে দূরে চলে যায়।’

প্রসঙ্গত, এ বছরের ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেছেন ৩৯ হাজার ৩৯৫ জন। পাসের হার ৫৯.৭৭%। এর মধ্যে ছেলে ১৩ হাজার ৭৪৯ জন (৩৪.৯০%), মেয়ে ২৫ হাজার ৬৪৬ জন (৫২.৮৪%)। সরকারি ডেন্টাল কলেজে সুযোগপ্রাপ্ত ছেলের সংখ্যা ২৫৭ জন (৪৭.১৬%), মেয়ে ২৮৮ জন (৫২.৮৪%)। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি ডেন্টাল কলেজে সুযোগপ্রাপ্ত সর্বোচ্চ নম্বর ২৮৫.০, সর্বনিম্ন নম্বর ২৭৯.৫।

এর আগে গত ২ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সারাদেশের ১২টি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২৬টি ভেন্যুতে বিভিন্ন কেন্দ্রে ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় সরকারি ৫৪৫টি আসনের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৬৫ হাজার ৯০৭ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৫৩ হাজার ৮২ জন (৮০.৫৪%)। এবার প্রতি আসনের জন্য ১২১ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা করেন। 

এমইউ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি