তামাকবিরোধী কর্মসূচিতে যৌথভাবে কাজ করবে মানস-বাডাস
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস) এবং মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) ডায়বেটিস ও তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করবে। এ লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আজ রোববার (২৪ এপ্রিল) বেলা ১২টায় বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির কনফারেন্স রুমে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এ সময় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান ও মানস’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মুখ্য আলোচক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. অরূপরতন চৌধুরী।
অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, তামাকের কোন ভালো দিক নেই। ধুমপান বা তামাকজাত দ্রব্য সেবন কমে যাবে যদি এর মূলে আঘাত করা যায়। অর্থাৎ- দেশকে তামাকমুক্ত করতে হলে তামাক চাষ নিষিদ্ধ করতে হবে। তামাক চাষীদেরকে বিকল্প খাদ্য শস্য চাষে উৎসাহিত করতে হবে। মানুষকে তামাক ছাড়তে উৎসাহিত করতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আরো বাড়াতে হবে। ধূমপান ত্যাগ করে মানুষ পুনরায় তামাক সেবন শুরু করে সেটি প্রতিরোধ করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে তথ্য তুলে ধরতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
তামাক ও ডায়াবেটিক এখন একটি মহামারী আকার ধারণ করেছে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, ‘করোনাসহ বড় বড় মহামারীর চাইতে তামাকের কারণে মৃত্যুহার অনেক বেশি। বাংলাদেশে মাদক ও তামাক নিয়ন্ত্রণে ‘মানস’ ৩৩ বছরের অধিক সময় ধরে নিরলসভাবে কাজ করে চলছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘদিন থেকে তামাক ও মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি তামাকবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। এটি আমাদের জন্য বিরাট সুযোগ এবং স্বাস্থ্য খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।’
তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে ‘বাডাস’ তামাক নিয়ন্ত্রণ আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। এ ছাড়া বারডেম হাসপাতালসহ বাডাস’র সকল সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানটির সভাপতি ও বাডাসের মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি সকল ভালো কাজের সাথে যুক্ত আছে এবং ভবিষ্যতেও যুক্ত থাকবে। মানস এবং বাডাস যৌথভাবে যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটার সাফল্য কামনা করেন তিনি।
বারডেম জেনারেল হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক মুর্তাজা কে আই কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বারডেম হাসপাতাল ধূমপানমুক্ত করা হয়েছে। হাসপাতালে জর্দা, গুল সেবন এবং পানের পিক ফেলা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) প্রকল্প সমন্বয়কারী সালমা পারভীনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বাডাস’র সহ-সভাপতি আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, মানস’র সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান তালুকদার।