অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ

ভাইস চ্যান্সেলর 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়


২৩ এপ্রিল, ২০২২ ০৮:৪১ পিএম

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবায় আস্থার প্রতীক ১৯ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবায় আস্থার প্রতীক ১৯ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করার প্রকল্প গ্রহণ করেন, যার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়।

দেশ বিদেশের এবং বিশ্ব-স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা আজ একবাক্যে স্বীকার করেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের অভিনব ধারণা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে।

মৌলিক স্বাস্থ্য সেবার সুবিধাসমূহ আজ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমেই দেশের প্রান্তিক ও অন্যান্য তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে, যার ফলে সরাসরি উপকৃত হচ্ছে দেশের গ্রামাঞ্চলের জনগণের বিশাল একটি অংশ।

কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন, টিকা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং পরামর্শ পরিষেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষের মধ্যে সফলভাবে কাজ করছে। 

দীর্ঘকাল ধরে চলমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অনেকটা শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল বা ধনী লোকদের মতো প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের গরিব বা হতদরিদ্র মানুষদের স্বাস্থ্য সেবার নিশ্চয়তা দিতে পারছিল না। তাই ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা’র মতো মানুষের জন্মগত মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্য অর্জন করা আমাদের জন্য সম্ভব ছিল না। এবং বৈপ্লবিক কোনো পদক্ষেপ ছাড়া একশ’ বছরেও এটা অর্জন করা কঠিন হত। 

তখন ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের দুঃস্থ জনগণের জন্য তাঁর হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার এই কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পটি গ্রহণ করেন এবং ১৯৯৮ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করার প্রকল্প গ্রহণ করেন, যার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় আরাধ্য স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়। এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়। 

এখন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকার প্রতি ৬ হাজার লোকের জন্য একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা কার্যক্রম চালু আছে। কিন্তু অত্যন্ত সফল জনসেবামূলক প্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও কমিউনিটি ক্লিনিকের যাত্রাপথ মসৃণ ছিল না। মাত্র তিন বছরের মাথায় সরকার বদলের সাথে সাথে অন্যান্য অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের মতো কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পকেও বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা কেবল ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পরে আবার প্রাণ ফিরে পায়। 

বর্তমানে দেশে প্রায় আঠারো হাজার পাঁচশ’ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে দেশব্যাপী বিস্তৃত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন অনলাইন জরিপ এবং বিবিএসের তথ্য অনুসারে কমিউনিটি ক্লিনিকের ৯৪ শতাংশের বেশি গ্রাহকেরা তাদের পরিষেবা ও সুবিধার ক্ষেত্রে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। 

এই বিকেন্দ্রীভূত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম একটি অবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া এবং সময়ের সাথে সাথে নতুন নতুন সেবা যুক্ত হচ্ছে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আরও অধিকতর সুবিধা নিয়ে আসবে। সরকার ক্লিনিকগুলো থেকে বিনামূল্যে প্রায় ৩০ প্রকারের ওষুধ বিতরণের ব্যবস্থা করেছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিশুদের টিকা ও ভিটামিন ‘এ’ দেওয়ার কার্যক্রম ছাড়াও বিষয়ভিত্তিক পরামর্শ, যেমন পুষ্টির জন্য বা পরিবার পরিকল্পনার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীরা ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের প্রসবের পরিষেবা সরবরাহ করায় ক্লিনিকগুলো মাতৃ এবং শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসে সরাসরি অবদান রাখে। লোকেরা যখনই ডায়রিয়া, কাশি এবং সর্দি দ্বারা আক্রান্ত হয়, তখন তারা ক্লিনিকগুলিতে আস্থা রাখে। 

বর্তমান সরকার দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বিএসএমএমইউ) আরও কয়েকটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছে। এর মধ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক সরকারের সর্বনিম্ন, কিন্তু গ্রাহক হিসাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্রাইভেট স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো, যা এই সরকারের এমডিজি লক্ষ্য অর্জনের প্রধান হাতিয়ার হিসাবে কাজ করেছে, আর ভবিষ্যতে এসডিজির লক্ষ্য অর্জনের জন্যও অপরিহার্য। 

বর্তমানে অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী এই প্রকল্পের স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দেশের আপামর, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দিন-রাত পরিশ্রম করে চলেছেন। আমি তাঁর এই অবদানে অংশীদার হতে পেরে নিজেকে স্বার্থক মনে করি। শুরু থেকে জাতীয় এই প্রকল্পের সঙ্গে এবং অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী স্যারের সাথে আমি জড়িত থাকতে পেরে নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করি।

সাধারণত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং রেফারেল পরিষেবা প্রদান করে থাকে। তবে অবিলম্বে পরিষেবাটি আরও প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবাকে সবার জন্য সহজলভ্য করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র  প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরই পরম্পরায় তাঁর সুযোগ্য কন্যা ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দীর্ঘায়ু হোন। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহতভাবে দুর্বার গতিতে তাঁর নেতৃত্বে এগিয়ে যাক। 

তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প চিরস্থায়ী হোক, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত