ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় ডা. বুলবুলকে হত্যা: ডিবি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় ডা. আহমেদ মাহী বুলবুলকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এই ডেন্টাল সার্জনকে হত্যায় জড়িত অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানাতে আজ বুধবার (৩০ মার্চ) বিকেল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পুলিশ।
তিনি জানান, ওই ঘটনায় আরও এক ছিনতাইকারী জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাকে আজ বিকেল পর্যন্ত গ্রেপ্তার যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার চারজন পেশাদার ছিনতাইকারী। তাঁরা হলেন: রায়হান ওরফে সোহেল, রাসেল হাওলাদার, আরিয়ান খান হৃদয় ও সোলায়মান।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তার বলেন, ডা. বুলবুল পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসা থেকে নোয়াখালী যেতে ভোর সোয়া পাঁচটায় বের হন। রিকশায় বাসস্ট্যান্ডে যাচ্ছিলেন তিনি। কাজীপাড়ায় নির্মাণাধীন মেট্রোরেলের স্টেশনের নিচে আসার পর ছিনতাইকারীরা রিকশার গতি রোধ করে। ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর তাঁর কাছ থেকে একটি মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তাঁরা।
ছিনতাইয়ের অভিযোগে পুলিশ রায়হান ও রাসেলকে আগেও গ্রেপ্তার করেছিল উল্লেখ করে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, কিছুদিন আগে জামিনে বেরিয়ে আবার ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ে তারা।
এর আগে ডা. বুলবুল ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন নাকি এটি পরিকল্পিত ‘হত্যাকাণ্ড’ তা তদন্তের দাবি জানিয়েছে ডেন্টাল চিকিৎসকদের সংগঠনটি বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি।
এদিকে সোমবার (২৮ মার্চ) ডেন্টাল সার্জন আহমেদ মাহি বুলবুলের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৭ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান মামলার এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।
প্রসঙ্গত, গত রোববার ভোরে রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়ায় মেট্রোরেলের নির্মাণাধীন স্টেশনের নিচে ছুরিকাঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে খুন হন দন্তচিকিৎসক আহমেদ মাহী বুলবুল। তাঁকে ছুরিকাঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যান ছিনতাইকারীরা। সকাল আটটার দিকে মিরপুরের কাজীপাড়া থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর কাছ থেকে একটি মুঠোফোন খোয়া গেলেও সঙ্গে থাকা ১২ হাজার টাকা, অন্য একটি মুঠোফোন ও আঙুলে থাকা সোনার আংটি উদ্ধার করে তারা।
ডা. বুলবুলের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। চাকরিকালীন ১৯৯৯ সালে মারা যান। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন বুলবুল। ১৯৯৭ সালে রংপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকার মগবাজারে ইউডিসিতে ভর্তি হন। সেখান থেকে বিডিএস পড়াশোনা শেষ করে প্র্যাকটিস শুরু করেন।
দিনাজপুর জেলায় বিয়ে করেছিলেন ডা. বুলবুল। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। দেড় বছর বয়সী ছেলে ও সাত বছরের মেয়ে রয়েছে নিহত বুলবুলের।