৩০ জানুয়ারী, ২০২২ ০৭:১৮ পিএম

মির্জা আজমের কটূক্তি ‘নজিরবিহীন’ ঔদ্ধত্য: বিএমএ, বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি

মির্জা আজমের কটূক্তি ‘নজিরবিহীন’ ঔদ্ধত্য: বিএমএ, বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি
এই সংসদ সদস্যের ‘দায়িত্বহীন বক্তব্য’ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানোর পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বিএমএ।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রকৌশলী-চিকিৎসকদের কটূক্তি করে মির্জা আজমের দেওয়া বক্তব্যকে ‘নজিরবিহীন ঔদ্ধত্য’ বলে অভিহিত করেছে চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। সভামঞ্চে অসত্য তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াসে সংসদ সদস্য হিসাবে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন বলেও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। এই সংসদ সদস্যের ‘দায়িত্বহীন বক্তব্য’ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানোর পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বিএমএ।

আজ রোববার (৩০ জানুয়ারি) সংগঠনের সভাপতি ডা. জালাল উদ্দিন মহিউদ্দিন এবং মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করেন তারা। 

চিকিৎসকদের হেয় প্রতিপন্ন করে জনপ্রতিনিধির বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ শীর্ষক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গত ১৯ জানুয়ারি জামালপুরের একটি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামালপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মির্জা আজম এমপির বক্তব্য চিকিৎসক সমাজের গোচরীভূত হয়েছে। উক্ত সভায় তিনি বাংলাদেশের চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের চোর আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর এ বক্তব্য অশালীন, আপত্তিকর, মানহানিকর, কল্পনাপ্রসূত ও অবমাননাকর। আমরা এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য ওই যুদ্ধে সম্মুখ সমরে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক সমাজকে হেয় করেছে।’

বিএমএ বলেছে, ‘এ দেশের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ, ভোট ও ভাতের অধিকার আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে চিকিৎসক সমাজের অবদান সর্বজনবিদিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এ যাবৎ যত অর্জন, সবই সম্ভব হয়েছে দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অসাধারণ কৃতিত্বে। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় দশটি প্রশংসামূলক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।’

চলমান বৈশ্বিক মহামারীসহ জাতীয় সকল স্বাস্থ্য দুর্যোগে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরে সংগঠনটি বলেছে, ‘সমসাময়িক সময়ে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে প্রায় ১২ জন চিকিৎসক বৈশ্বিক মহামামারী করোনা নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসায় ১৯০ জন চিকিৎসক শহীদ হয়েছেন এবং তিনি হাজারেরও অধিক চিকিৎসকসহ প্রায় ৯ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের প্রায় সকলের  পরিবারের সদস্য তাদের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন।’

‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক্তন মহাসচিব মি. বান কি-মুন, নোবেলজয়ী লরিয়েট অমর্ত্য সেন কিংবা আন্তর্জাতিক জার্নাল ল্যান্সেট যখন তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন, সেখানে একজন রাজনীতিবিদ অর্বাচীনের মতোই চিকিৎসকদের সব অর্জনকে খাটো করে তাদের চোর বলে বক্তৃতার মঞ্চে শিহরণ সৃষ্টি করেন। এটি কেবল অসৎ রাজনীতিবিদদের পক্ষে সম্ভব। আমরা মনে করি, এভাবে উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে ওই রাজনীতিবিদ নিশ্চয়ই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চান’, যোগ করা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। 

এতে আরও বলা হয়, ‘অর্থনৈতিক ও উন্নয়নের চাকাকে ক্রমাগতভাবে এমনকি মহামারীর সময়েও সচল রাখতে এদেশের প্রকৌশলীগণ দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রকৌশলী-চিকিৎসকদের কটূক্তি করে যে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন, তা নজিরবিহীন। অসত্য তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াসে তিনি সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ ভঙ্গ করেছেন।’

বিএমএ বলেছে, ‘আমরা মাননীয় সংসদ সদস্যের এই দায়িত্বহীন বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি এবং আমরা সরকারপ্রধান তথা এদেশের সকল মানুষের আস্থার জায়গা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক