১০ জানুয়ারী, ২০২২ ০৭:০০ পিএম

ফের যানবাহনে গুণতে হবে বর্ধিত ভাড়া!

ফের যানবাহনে গুণতে হবে বর্ধিত ভাড়া!
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারির পর থেকে সব বাহনে অর্ধেক আসন ফাঁকা থাকবে। ফলে যাত্রীদের আবারও গুণতে হবে বর্ধিত ভাড়া।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আগামী ১৩ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে ১১ দফা বিধি-নিধেষ আরোপ করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাসসহ সব রকমের যান বাহনে অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নেওয়া যাবে। অর্থাৎ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারির পর থেকে সব বাহনে অর্ধেক আসন ফাঁকা থাকবে। ফলে যাত্রীদের আবারও গুণতে হতে পারে বর্ধিত ভাড়া।

আজ সোমবার (১০ জানুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জল ও স্থলপথের যানগুলোতে অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী পরিহনের কথা বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। সর্ব প্রকার যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ টিকা সনদধারী হতে হবে।’

অন্যান্য নির্দেশনাগুলো হলো:

১. দোকান, শপিং মল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সকল জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলক সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। অন্যথায় তাকে আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

২. অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যত্যয় রোধে সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।

৩. রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনার টিকা সনদ প্রদর্শন করতে হবে।

৪. ১২ বছরের বেশি বয়সী সব শিক্ষার্থীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

৫. স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পোর্টগুলোতে ক্রুদের জাহাজের বাইরে আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে হবে। স্থলবন্দরগুলোতেও আগত ট্রাকের সঙ্গে শুধু ড্রাইভার থাকতে পারবে। কোনও সহকারী আসতে পারবে না। বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শনার্থীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে।

৬. বিদেশ থেকে আসা যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক কোভিড-১৯ টিকা সনদ প্রদর্শন করতে হবে।

৭. স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরার বিষয়ে সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামরা সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবেন। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

৮. সর্বসাধারণের করোনার টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রচার এবং উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে তারা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহায়তা গ্রহণ করবে।

৯. উন্মুক্ত স্থানে সর্ব সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে।

১০. কোনও এলাকার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনও পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এর আগে রোববার (৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানতে আজ বা আগামীকালের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বাড়ার শুরু থেকেই আমরা সতর্ক বাণী প্রচার করে আসছি যে, আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, মাস্ক পড়তে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে, সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে করতে হবে। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, এসব সতর্কবার্তায় মানুষ খুব একটা কর্ণপাত করছে না। যার ফলে সংক্রমণের হার বাড়ছে, হাসপাতালে রোগী বাড়ছে। এ অবস্থায় আমরা ইতিমধ্যে সরকারিভাবে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। ইতিমধ্যে এসব পদক্ষেপ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি, আজকে বিকেলের মধ্যে কিংবা আগামীকাল এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যে নির্দেশনাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেসব বিষয় বাস্তবায়নের জন্য সারাদেশে বার্তা চলে যাবে। মন্ত্রিপরিষদ থেকে এমনটিই আমরা জানতে পেরেছি। আশা করি, এই কার্যক্রম তাড়াতাড়িই শুরু হয়ে যাবে।’

এ সময় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, সবাইকে মাস্ক পরতে হবে, সভা-সমাবেশ এড়িয়ে চলতে হবে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
চিকিৎসকদের ওপর হামলা স্বাস্থ্যখাতের জন্য কতটা অশনি সংকেত?
ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু নাকি কাঠামোগত দুর্বলতা

চিকিৎসকদের ওপর হামলা স্বাস্থ্যখাতের জন্য কতটা অশনি সংকেত?

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু নাকি কাঠামোগত দুর্বলতা

চিকিৎসকদের ওপর হামলা স্বাস্থ্যখাতের জন্য কতটা অশনি সংকেত?

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক