সাপে কাটলে করণীয়
মেডিভয়েস ডেস্ক: গ্রামের রাস্তা দিয়ে হাটতে গিয়ে বা ঝোপের পাশে থাকা বিষাক্ত সাপে কাটার এমন খবর প্রায়ই শোনা যায়। সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে অন্তত পাঁচ লাখ ৮০ হাজার মানুষ সাপে কাটার শিকার হন। এর মধ্যে মারা যান অন্তত ছয় হাজার জন।
দেশে প্রায় ৯৪ প্রজাতির সাপের মধ্যে ২৬টি মারণ বিষের। লোকালয়ের যে বিষধর সাপগুলো দেখা যায়, এদের মধ্যে অন্যতম গোখরা, কেউটে, কালাজ, শঙ্খিনী, খইয়া ও চন্দ্রবোড়া ইত্যাদি। তবে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যান কালকেউটের কামড়ে।
সাপে কাটলে যা করতে হবে:
১. সাপে কামড়ানো ব্যক্তিকে প্রথমে খোলামেলা একটি জায়গায় নিয়ে দ্রুত শুইয়ে দিন। তারপর চারপাশের লোকজন সরিয়ে দিন, যাতে রোগী যথেষ্ট আলো-বাতাস পায়।
২. রোগীর জ্ঞান আছে কিনা—তা যাচাই করুন। জ্ঞান থাকলে কথা বলে তার মনোবল বাড়ান।
৩. শরীরের বর্ণ ও দংশনের স্থান ভালোভাবে পরীক্ষা করে জেনে নিন, সাপটি বিষধর কিনা। সাধারণত বিষধর সাপ হলে এক বা দুই দাঁতের কামড়ের চিহ্ন থাকবে। দুইয়ের অধিক দাঁতের কামড় থাকলে সাপটি বিষধর নয়।
৪. বেশি নড়াচড়া করলে বিষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই রোগীকে নাড়ানো থেকে বিরত রাখুন।
৫. সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে রোগীর ক্ষতস্থানটি ভালোভাবে ধুয়ে দিন।
৬. হাত বা পায়ে কামড় দিলে ক্ষতস্থানে বাঁশ বা কাঠের চটা দিয়ে হালকাভাবে বাঁধুন। এটি বিষ শরীরে ছড়িয়ে যেতে বাধা দিবে।
৭. রোগীর হাতে বা পায়ে কোনো অলঙ্কার থাকলে তা খুলে ফেলুন।
৮. সাপে কাটা ব্যক্তিকে সারাক্ষণ সজাগ রাখার চেষ্টা করুন।
সাপে কাটলে যা করা যাবে না:
১. রোগীর দংশনের স্থান শক্তভাবে না বেঁধে হালকাভাবে বাঁধুন। কোন প্রকার টুর্নিকেট ব্যবহার করবেন না।
২. ক্ষতস্থানে কোনো প্রকার কাঁটা-ছেড়া করবেন না।
৩. ক্ষতস্থান মুখ দিয়ে চুষবেন না।
৪. ক্ষতস্থানটি কোনো প্রকার লতাপাতা, তৈলাক্ত বা ঘি জাতীয় কোনো কিছু লাগাবেন না।
৫. কাউকে সাপে কামড় দিলে ওঝা বা সাপুড়ের জন্য অপেক্ষা করবেন না।
রোগীকে যতদ্রুত সম্ভব নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে যান। কারণ যত তাড়াতাড়ি তাকে সেখানে পাঠানো যাবে, সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও ততই বাড়বে। সর্পদংশন প্রতিষেধক ইনজেকশন জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষধর সাপের কামড়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মৃত্যুর মূল কারণ সচেতনতার অভাব। ওঝা বা বেদের মাধ্যমে অবৈজ্ঞানিক উপায়ে চিকিৎসা করা, রোগীকে হাসপাতালে আনতে বিলম্ব করা এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চিকিৎসা না করানোর ফলে অনেক প্রাণ ঝরে যায়।
►ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন