২০ অগাস্ট, ২০২১ ১০:৩৮ পিএম

বিএসএমএমইউ ফিল্ড হাসপাতালের শয্যা বাড়ানো নিয়ে যা বললেন পরিচালক

বিএসএমএমইউ ফিল্ড হাসপাতালের শয্যা বাড়ানো নিয়ে যা বললেন পরিচালক
বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা মুজিব কোভিড ফিল্ড হাসপাতাল। ছবি: মজিবুর রহমান।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: গত বছরের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর কিছু দিন পর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কেবিন ব্লকে সংক্রমিতদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া শুরু হয়। চলতি বছরের শুরুতে ভাইরাসটিতে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার ভয়াবহ আকার ধারণ করলে আরও বড় পরিসরে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার প্রস্তুতি নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এরই অংশ হিসেবে গত ৭ আগস্ট বিএসএমএমইউতে বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা মুজিব কোভিড ফিল্ড হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে ৩৫৭ শয্যা নিয়ে যাত্রা করলেও পর্যায়ক্রমে এটি এক হাজার শয্যায় রূপান্তরের পরিকল্পনা ছিল। তবে আপাতত এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে কর্তৃপক্ষ। 

জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. নজরুল ইসলাম খান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে হাজার শয্যার হাসপাতাল করার পরিকল্পনা ছিল। পরবর্তীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেয় যে, এই অবকাঠামোতে হয় তো হাজার শয্যার করা যাবে। তবে সেখানে মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে কমিটি ৫০৪ শয্যা করার বিষয়ে সম্মত হয়। গত সপ্তাহ থেকে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে এসেছে। এ ছাড়া গুরুতর রোগীর সংখ্যা পর্যায়ক্রমে কমছে। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে নতুন করে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না। বিদ্যমান সংখ্যা দিয়ে রোগীদের সেবা প্রদান করা সম্ভব। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হাসপাতাল হাজার শয্যায় উন্নীত করতে সক্ষম হবো।’

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে অত্যাধুনিক প্রায় সকল সুবিধাই বিদ্যমান। যেমন: আইসিইউ ও এইচডিও মানের ৪০টি শয্যা আছে। সেখানে ভেন্টিলেটর, হাইফ্লোনেজাল থেকে শুরু করে সব ধরনের সুবিধা আছে। তবে সাধারণত হাইফ্লোনেজাল ব্যবহার করা হয় না। এ দিকে কেবিন ব্লকে কিছু শয্যা সব সময় খালি থাকে, যাতে ফিল্ড হাসপাতালে জটিল কোনো রোগীর প্রয়োজন হলে তাকে দ্রুততম সময়ে সেখানে স্থানান্তর করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।

হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ৪০ জন করে চিকিৎসকদের সমন্বয়ে তিনটি গ্রুপ করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন শিফটে ডিউটি করছেন। এখানে বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত মেডিকেল অফিসারগণ দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদেরকে আলাদা গাড়িতে করে আনা হয়। এর পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসগণ নিয়মিত রাউন্ড দিচ্ছেন। এছাড়াও কারো প্রয়োজন হলে সিনিয়র চিকিৎসকদের কল করলে তারা উপস্থিত হয়ে যান। সে ক্ষেত্রে তারা রেফার্ড করলে রোগীদের কেবিন ব্লকে এনে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ারেন্টাইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সাত দিন ডিউটি করার পর সাত দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকেন। ডিউটির পর পরই তাদের নমুনা পরীক্ষা করানো হয়। নেগেটিভ এলেও তাঁকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। কোয়ারেন্টাইন শেষে তিনি পরবর্তী গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। একইভাবে নার্স, ব্রাদার ও আয়ারা দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সংকটের কারণে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। 

যা বললেন চিকিৎসকরা 

এ ছাড়া স্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ আন্তরিকতার কথা জানিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নিয়মতান্ত্রিকভাবে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউর প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আশিকুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় কেবিন ব্লকে আমাদের একটি ইউনিট করোনার সেবা দিয়ে যাচ্ছে। রোগীর পরিমাণ বাড়তে থাকায় এই ফিল্ড হাসপাতালের উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিকভাবে তিন শতাধিক শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি আইসিইউ ও ২০টি এইচডিও শয্যা আছে। পর্যবেক্ষণে আছে ৪০টি শয্যা। উপরতলায় ১৫৮টি বেড আছে। প্রতিদিনই ২০/৩০ জন রোগী ভর্তি নেওয়া হয়। ভর্তি উপযোগী সকল রোগীকে ভর্তি করে সেবা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। ভর্তির প্রয়োজন নেই এমন রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।’

হাসপাতাল চালুর পর থেকে সেবার মান নিয়ে কোনো আপোস করেননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা থাকে, রোগীরা যেন সর্বোচ্চ সেবা পান। এখানে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন থাকায় অক্সিজেনের কোনো ঘাটতি নাই। ১৫ লিটারের বেশি অক্সিজেন দরকার, এমন রোগীদের আইসিইউ ও এইচডিইউতে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করি। পর্যাপ্ত পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম আছে। রোগীদের সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত আছে। রোগীরাও যথেষ্ট উপকৃত হচ্ছে এবং তারাও আমাদের সেবায় সন্তুষ্ট।’

ডা. আশিকুর রহমান বলেন, ‘মেডিকেল অফিসাররা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে আছেন। বিশেষজ্ঞ স্যারগণ সার্বক্ষণিকভাবে তত্ত্বাবধানে আছেন। এ ক্ষেত্রে কোনো সংকটের মুখোমুখি হচ্ছি না।’

করোনায় ভয় না পাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আক্রান্ত অনেকেই সুস্থ হচ্ছেন। মৃত্যুর হার খুবই কম। ডায়াবেটিস, হাইপার টেনশনসহ ক্রনিক রোগীদের ক্ষেত্রে খানিক ঝুঁকি থাকে। তাই তাদের করোনার সিমটম থাকলে চিকিৎসকের পরমার্শ নিবেন। বাড়িতে পালস অক্সিমিটার রাখুন। অক্সিজেনের মাত্রা ৯২ এর কম হলে হাসপাতালে চলে আসুন।’

এদিকে স্বাস্থ্য সেবাসহ হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে রোগীর স্বজনরা বলেন, খাবার ও ওষুধ সরবরাহ থেকে শুরু সক কিছুই চমৎকার। চিকিৎসকসহ সকল পর্যায়ের কর্মীদের সেবা-আন্তরিকতা প্রশংসাযোগ্য। তবে ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাকসহ জটিল রোগীদের সুবিধার্থে চিকিৎসকদের রাউন্ডের পরিমাণ বাড়ালে ভালো হয়।

এ প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউর মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আশিকুর রহমান বলেন, সবেমাত্র উদ্বোধন হয়েছে। এখনো সুসংগঠিতভাবে সব কিছু করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। প্রতিদিন সকালে একজন কার্ডিওলোজিস্ট রাউন্ডে আসেন। একজন মেডিসিনের অধ্যাপক রাউন্ডে আসছেন। এর পরও গুরুতর কোনো রোগী হলে আমরা রেফার্ড করি। তখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসে দেখেন। এর পরও প্রয়োজন দেখা দিলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিশেষজ্ঞদের স্যারদের রাউন্ডের ব্যবস্থা করা যাবে।  

 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
হাসপাতালে শয্যার সঙ্গে জনবল, অবকাঠামো, প্রশাসনিক সক্ষমতাও বাড়াতে হবে
হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলনে আহ্বান

হাসপাতালে শয্যার সঙ্গে জনবল, অবকাঠামো, প্রশাসনিক সক্ষমতাও বাড়াতে হবে

হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলনে আহ্বান

হাসপাতালে শয্যার সঙ্গে জনবল, অবকাঠামো, প্রশাসনিক সক্ষমতাও বাড়াতে হবে

মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক