ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন
হাম-রুবেলার টিকা পাবে ৩ কোটি ৪০ লাখ শিশু
মেডিভয়েস রিপোর্ট: হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন ২০২০ এর উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্য জাহিদ মালেক। আজ বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জন্স (বিসিপিএস) মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে আগত কয়েকজন শিশুকে টিকা প্রদানের মাধ্যমে এ ক্যাম্পেইনের সূচনা করা হয়।
আগামী ১২ ডিসেম্বর হতে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশব্যাপী শুরু হতে যাওয়া এ ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশব্যাপী নয় মাস থেকে ১০ বছরের নিচের প্রায় তিন কোটি ৪০ লাখ শিশুকে এক ডোজ এমআর টিকা দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীপ আলমের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মানান, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর।
আরও ছিলেন বিসিপিএসের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএনসিঅ্যান্ডএএইচ অপারেশনাল প্ল্যানের লাইন ডাইরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মওলা বকস চৌধুরীসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিগণ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে সরকার কর্তৃক বেশ কয়েকবার দেশব্যাপী হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও বিগত কয়েক বছরে দেশে হাম ও রুবেলা রোগের প্রকোপ ও আক্রান্তের সংখ্যা দুটিই বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি হতে উত্তোরণকল্পে এবং ২০২৩ সাল নাগাদ দেশ হতে হাম-রুবেলা দূরীকরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নিমিত্তে সরকার আগামী ১২ ডিসেম্বর হতে আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে আরও একটি হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন ২০২০ পরিচালনা করতে যাচ্ছে।
জাহিদ মালেক জানান, আসন্ন হাম-রুবেলা ২০২০ টিকাদান ক্যাম্পেইন সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের নিমিত্তে সরকার ইতিমধ্যেই যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এছাড়া চলমান কোভিড-১৯ মহামারী বিবেচনা করে জনগণ ও স্বাস্থ্যকর্মী উভয়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষার্থেও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এখন জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই পারে ক্যাম্পেইনটিকে সফল করতে।
২০২৩ সাল নাগাদ দেশ থেকে হাম-রুবেলা দূরীকরণের লক্ষ্যে এ ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন ও এর সার্বিক সফলতা নিশ্চিতকল্পে অনুষ্ঠানে আগত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
এই ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ‘নয় মাস থেকে ১০ বছরের শতকরা ৯৫ ভাগের বেশি শিশুকে এক ডোজ এমআর টিকা প্রদান এবং চলমান কোভিড-১৯ মহামারী বিবেচনা করে নিরাপদ পরিবেশে জনগণ বা স্বাস্থ্যকর্মী কারও ক্ষতি সাধন না করে গুণগত মানসম্পন্ন একটি টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা নিশ্চিতকরণ।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ক্যাম্পেইনটি গত ১৮ মার্চ হতে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে তা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ক্যাম্পেইনটি পরিচালনার জন্য নতুন একটি কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন কর্ম কৌশল অনুযায়ী:
১. ক্যাম্পেইনটি সারাদেশে কমিউনিটি পর্যায়ে পরিচালিত হবে,
২. ক্যাম্পেইন চলাকালীন নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমও চালু থাকবে,
৩. পূর্বে পরিকল্পিত তিন সপ্তাহের পরিবর্তে ক্যাম্পেইনের সময়কাল বাড়িয়ে ছয় সপ্তাহ করা হয়েছে,
৪. ভিড় এড়াতে টিকাকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে,
৫. প্রতিটি ইউনিয়নের একেকটি ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইন টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করতে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে (সপ্তাহে দুই দিন নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে),
৬. সারাদেশের স্থায়ী, আউটরিচ তথা অস্থায়ী এবং সৃষ্ট অতিরিক্ত নতুন ক্যাম্পেইন টিকাদান কেন্দ্রসমূহের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন টিকা প্রদান করা হবে,
৭. দুই বছরের নিচের কোনো শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির কোনো টিকা না পেয়ে থাকলে ক্যাম্পেইন চলাকালে তাদেরকে শনাক্ত করে উক্ত টিকা প্রদানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যা নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমকেও জোরদার করবে,
৮. ক্যাম্পেইন চলাকালে টিকাদান কেন্দ্রসমূহ শুক্রবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটি ব্যতীত একযোগে সকাল আটটা হতে বিকাল চারটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
৯. দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য অতিরিক্ত টিকা দলের ব্যবস্থা থাকবে এবং প্রয়োজনে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য গঠিত টিকা দল সান্ধ্যঃকালীন সেশন পরিচালনা করবে,
১০. প্রাত্যহিক ক্যাম্পেইন কার্যক্রম ও টিকা পরবর্তী বিরূপ প্রতিক্রিয়া (AEFI) ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের নিমিত্ত স্বাস্থ্য ও এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল প্রশাসনিক স্তরে যথাক্রমে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু ও এইএফআই ব্যবস্থাপনা দল নিয়োজিত থাকবে,
১১. বাজার-হাটে বসবাসরত শিশু কারখানায় কর্মরত মায়েদের শিশু, বেদেবহরসহ অন্যান্য ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠীর শিশু, রেলস্টেশন/বাস টার্মিনালে বসবাসকারী সুবিধাবঞ্চিত শিশু, হাসপাতাল ও জেলখানায় অবস্থানরত মায়েদের শিশু, পতিতালয়ে বসবাসরত শিশু, বস্তিতে বসবাসরত শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে সরকার অতিরিক্ত টিকাদান কেন্দ্রের ব্যবস্থা করেছে।