ডিসেম্বরেই শৈত্যপ্রবাহ, করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গের আভাস
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডিসেম্বরের শেষের দিকে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এক থেকে দুইটি মৃদু (৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা মাঝারি (৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি শৈত্য প্রবাহ বাড়ার সাথে সাথে করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গ প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছে সরকার।
বুধবার (২ ডিসেম্বর) ডিসেম্বর মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুইটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তবে এটি বাংলাদেশ উপকূলে আসবে না।
এদিকে গত অক্টোবর ও নভেম্বরেও বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস ছিল। অক্টোবরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলেও তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়নি। নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলেও তার প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়েনি। কেবল তাই নয়, চলতি বছরের অধিকাংশ মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস ছিল।
ডিসেম্বরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, এ মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে পারে। তবে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে।
এছাড়া দেশের নদী অববাহিকায় ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা/মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। এ মাসে দেশে দৈনিক গড় সূর্য কিরণকাল চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা থাকতে পারে। সুতরাং তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে দেশজুড়ে তাপমাত্রার আংশিক পরিবর্তনের ফলে হাসপাতালগুলোতেও ঠাণ্ডাজোনিত রোগীদের চাপ বাড়ছে। ঢাকায় কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শয্যা জোগাড় করতে রোগীর স্বজনদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হাসপাতালগুলোর প্রায় সব আইসিইউ শয্যাই ভর্তি। সাধারণ শয্যাগুলোতেও রোগী বেড়েছে।
শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে আসছে সরকার। এরই মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনা শনাক্ত রোগীর হার ঊর্ধ্বমুখী। গত ১৬ নভেম্বর থেকে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দৈনিক ২ হাজারের ওপরে থাকছে। একই সঙ্গে মৃত্যুও বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় করোনার জন্য নির্ধারিত সরকারি ব্যবস্থাপনার নয়টি হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ১১৩টি। গতকাল মঙ্গলবার ৯৭টি শয্যায় রোগী ভর্তি ছিল। ফাঁকা ছিল ১৭টি শয্যা, অর্থাৎ ৮৬ শতাংশের বেশি আইসিইউতে রোগী ভর্তি ছিল।
করোনার জন্য নির্ধারিত চারটি হাসপাতালগুলোতেও কয়েক দিন ধরে জটিল করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা না থাকায় অনেক রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।