ডা. আশিকুর রহমান রুপম

ডা. আশিকুর রহমান রুপম

এমবিবিএস, 
জেনারেল ফিজিশিয়ান ও স্বাস্থ্য কলামিস্ট। 


২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০৭:৫১ পিএম

কান বন্ধ হয়ে আছে, কি করবেন?

কান বন্ধ হয়ে আছে, কি করবেন?

জীবনের কোনো না কোনো সময় কান বন্ধ হয়ে (ধাপা ধরে) থাকেনি এমন মানুষ পাওয়া ভার। কান বন্ধ হয়ে থাকলে খুবই বিরক্তি লাগে। অনেকের হাসফাস শুরু হয়ে যায়। বাচ্চাদের খুব বেশি হয়ে থাকে এটা। আসুন জেনে নেওয়া যাক কেন এমন হয়? 

আমাদের কানের সাথে নাকের এবং গলার একটা নালী দ্বারা সংযোগ আছে। একে বলে ইউস্টেশিয়ান টিউব বা অডিটরি টিউব। যেহেতু এই টিউব মধ্য কর্ণ থেকে গলবিল বা ফ্যারিঙসের সাথে লেগে থাকে একে ফ্যারিঙ্গো-টিম্প্যানিক টিউবও বলা হয়। লম্বায় মাত্র দেড় ইঞ্চি, ছোট্ট একটা টিউবের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ আছে। 

যেমন: 

১. এরা কানের ভেতরের বাতাসের প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করে। কানের প্রেশার বেড়ে গেলে এই পথে বাতাস নাক দিয়ে বেরিয়ে যায়। 

২. কানের ভেতরের সিলিয়ার সাহায্যে মিউকাস এবং এর সাথে সাথে ময়লা জীবানু এই পথেই বাইরে বের করে দেয়। 

তবে বাচ্চাদের এই নালী আরো ছোট, চিকন এবং আড়াআড়ি থাকে। তাই এটা সহজেই ব্লক হয়ে যায় (সংক্রমণ বা প্রদাহের কারণে)।
 
স্বাভাবিক অবস্থায় এই নালী বন্ধ থাকে। তবে আমরা যখন খাবার চিবাই, গিলি বা ঘুম আসলে হায় তুলি তখন এই নালী খুলে যায়। এই টিউব যখন ময়লা বা জীবানু দ্বারা ব্লক হয়ে যায় বা এর কাজগুলো ঠিক মত করতে পারে না, একে বলে ইউস্টেশিয়ান টিউব ডিসফাংশন (ইটিডি)। আর তখনই কান বন্ধ (ধাপা ধরে) হয়ে যায়। আর আমরা লাফাতে থাকি কিভাবে ধাপা ছুটানো যায়। 

এখন এই টিউব ব্লক হলে শুধু কি ধাপা ধরে, নাকি আরো কিছু হতে পারে?

উত্তর হলো, হ্যা পারে। 
যেমন: 

১. কানের বাইরের ছিদ্র বন্ধ হয়ে আছে মনে হবে।
২. কানের মধ্যে কট কট/শন শন/ভো ভো করতে পারে। একে বলে টিনিটাস।
৩. এক কানে/দুই কানে শুনতে কম বেশি হতে পারে।
৪. কানে ব্যথা হতে পারে।
৫. নাকও বন্ধ হয়ে থাকতে পারে।

কেন হয় এটা?

মূলত এলার্জি এবং ঠাণ্ডাজনিত (কমন কোল্ড) কারণে হয় এটা। এছাড়াও যাদের সাইনাসের অসুখ সাইনুসাইটিস আছে তাদের হতে পারে। বাচ্চাদের এমনিতেই ঘনঘন হয় এটা। এছাড়াও অনেক উপরে উঠলে এমন হতে পারে। যেমন: পাহাড়ে বা উড়ো জাহাজে।

কাদের বেশি হয় এই সমস্যা? 

যে কারো হতে পারে। তবে যাদের ওজন বেশি, ধূমপায়ী এবং কোল্ড বা ডাস্ট এলার্জি আছে তাদের বেশি হয়।

এটা কি মারত্মক কিছু? এ থেকে কি বড় কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে? 

উত্তর: না । এটা খুবই স্বাভাবিক একটা সমস্যা। এ থেকে বড় কোনো ধরনের ক্ষতি হবার আশঙ্কা নাই। তবে বাচ্চাদের বারবার হতে হতে মধ্য কর্ণে সংক্রমণ হয় এবং অনেক সময় পুঁজ জমে, যাকে বলে কান পাকা রোগ। এটা হলে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিতে হবে। নাহলে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হবে।

কিভাবে এটা ডায়াগনোসিস করা হয়?

কানের মধ্যে যে যন্ত্র দিয়ে কানের পর্দা পর্যন্ত দেখা যায় একে বলে অরাল স্পেকুলাম বা অটোস্কোপ। এটা দিয়ে ওই টিউব দেখা যায় না। এটা মূলত ডাক্তারগণ রোগীর ইতিহাস বা সমস্যা শুনে এবং আরো কিছু কানের এবং নাকের পরীক্ষা করে নিশ্চিত হোন। 

এটা কি বাসাতেই সমাধানযোগ্য?

হ্যা সম্ভব। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটা এমনিতেই ভাল হয়ে যায়। বাসায় কিছু কাজ করলে আরো দ্রুত উপসম পাওয়া যায়। এর জন্য আমরা রোগীদের কতগুলো কাজ শিখিয়ে দেই। 

ক. চুইং গাম চিবাতে বলা হয়।
খ. ঢুক গিলতে বলা হয়। শুধু শুধু তো ঢুক গেলা হয় না। গরম পানি, চা অল্প অল্প করে গিলতে থাকতে হবে। 
গ. হাই তোলা অনুশীলন করা।
ঘ. মুখ বন্ধ করে নাক দিয়ে জোরে করে বাতাস ছাড়া।

এর সাথে নাকের কিছু ড্রপ বা স্প্রে ব্যবহার করতে বলা হয়। যেমন: নরসল, নজোমিস্ট, এন্টাজল ও আফরিন ইত্যাদি। 
 
তাহলে কখন আমরা ডাক্তারের কাছে যাবো?

রোগী যদি শিশু হয় এবং বড়দের ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহ ধরে সমস্যা থেকে যায়।

এর কি জটিলতা আছে?

অবশ্যই। যে কোনো অসুখ চিকিৎসা না করালে কিছু জটিলতা দেখা দেয়। এর ক্ষেত্রে কানের দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ হতে পারে, যা সহজে ভাল হতে চাইবে না। কানের পর্দার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়ে যায়, যাকে বলে এয়ার ড্রাম রিট্রাকশন। আর এই টিউব পুরোপুরি অচল হয়ে গেলে কৃত্রিম ডিভাইস (পেট) ব্যবহার করা হয়।

পরিশেষে, কান বন্ধ হয়ে যাওয়া খুবই পরিচিত সমস্যা। ভয় পাওয়ার কিছু নাই। বাসাতে বসেই এর সমাধান করে ফেলতে পারবেন। আর একান্ত না পারলে বাংলাদেশের দক্ষ কান-কান-গলা বিশেষজ্ঞগণ তো আছেই। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
মেডিকেল শিক্ষার্থী-চিকিৎসকদের পরীক্ষা

সংক্রমিতদের মৌখিক পরীক্ষায় নমনীয় মেডিকেলগুলো

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে