শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ 'সিওপিডি' থেকে বাঁচবেন যেভাবে
অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন। সাবেক চেয়ারম্যান, রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। বাংলাদেশে বক্ষব্যাধি চিকিৎসায় একটি সুপরিচিত নাম। যার হাত ধরেই বিএসএমএমইউয়ের রেসপিরেটরি বিভাগের যাত্রা শুরু। দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। সম্প্রতি বিশ্ব সিওপিডি দিবস উপলক্ষে মেডিভয়েসের মুখোমখি হয়েছিলেন এই গুণী চিকিৎসক। কথা বলেছেন সিওপিডি রোগের কারণ, করণীয় ও বিএসএমএমইউতে এর চিকিৎসা সেবা প্রসঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তানভীর সিদ্দিকী।
মেডিভয়েস: স্যার কেমন আছেন?
অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। ধন্যবাদ মেডিভয়েসকে।
মেডিভয়েস: সিওপিডি মানে কী?
অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন: সিওপিডি হচ্ছে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা বাংলায় বলা হয় ফুসফুসে বায়ু প্রবাহের বাধাজনিত একটি রোগ। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ, এ রোগীদের আস্তে আস্তে শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। একবার যদি কারো সিওপিডি হয়, চিকিৎসা করার পরেও তার ফুসফুস আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে না।
মেডিভয়েস: কারা বেশি সিওপিডিতে আক্রান্ত হন?
অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন: সাধারনত এ রোগটি মধ্যবয়সী মানুষদের বেশি হয়ে থাকে, যাদের বয়স চল্লিশের উর্ধ্বে। শতকরা ৮৫ ভাগ সিওপিডি রোগীদের দেখা যায় ধূমপানজনিত বদ অভ্যাস আছে। ধূমপান ছাড়াও এটি হয়ে থাকে, যেমন: বায়ুদূষণ। এটি হচ্ছে সিওপিডি হওয়ার মূল কারণ। শহরের ক্ষেত্রে বলা যায়, যারা বাহিরে কাজ করে, যাদের নিয়মিত রাস্তাঘাটে গাড়ির ধোঁয়ার মুখোমুখি হতে হয় এবং যারা ইটের ভাটায় কাজ করে তাদের ঝুকি বেশি। আর গ্রামের কথা বলতে গেলে, যারা লাকড়ি পুড়িয়ে রান্না করে তারা বেশি ঝুকিতে থাকে। এক কথায় বলা যায়, যারা বায়ু দূষিত জায়গায় বাস করে বা কাজ করে তাদের এই রোগ বেশি হয়ে থাকে।

মেডিভয়েস: লক্ষণ ও উপসর্গ কী?
অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন: ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ যদিও ফুসফুসের রোগ, কিন্তু ফুসফুস ছাড়াও এটি শরীরের যেকোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আক্রান্ত করে থাকে। এটি একটি সিসটেমিক ডিজিজের মতো। অর্থাৎ ডায়বেটিস, হায়পারটেনশন যেমন শরীরের যে কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আক্রান্ত করে থাকে, তেমনি সিওপিডি যে কোন অঙ্গকে আক্রান্ত করতে পারে।
সিওপিডি আক্রান্ত ব্যক্তির মাংশপেশি ও হাড় দূর্বল হয়ে থাকে। তারা অনেক চিকন থাকে, ধিরেধিরে তাদের হাড় ক্ষয় হতে থাকে, যাকে অস্টিওপোরোসিস বলা হয়। সিওপিডির সাধারন লক্ষণগুলো এরকম দেখা যায় যে, একজন মধ্যবয়সী লোক যিনি ধূমপান করতেন, ধীরে ধীরে তার কাশি শুরু হয় এবং কাশিতে মিউকাস(শ্লেষ্মা) যায়। বিশেষ করে দেখা যায়, শীতের সময় কাশি ও মিউকাশ বাড়তে থাকে, তারপর রোগীর শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং সেই শ্বাস কষ্টের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তখন তিনি অল্প একটু হাটাহাটি করলেও হাপিয়ে উঠেন, ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। রোগ বাড়তে বাড়তে একটি সময় এমন হয় যে, তিনি বিছানা থেকে নামতেও পারেন না, বাথরুমেও যেতে পারেন না, হাপিয়ে উঠেন। এরমানে তার শ্বাসকষ্ট তীব্র মাত্রায় চলে গেছে।
এ লক্ষণগুলো যদি কারো দেখা দেয়, তাহলে ধারণা করে নিতে হবে তার সিওপিডি থাকতে পারে। এধরনের রোগীদের কিছু পরীক্ষা নিরিক্ষা দেয়া হয়, তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হচ্ছে স্পাইরোমেট্রি। এটি একটি সাধারণ পরীক্ষা এবং বহুল প্রচলিত। অনেক চিকিৎসকের চেম্বারেও এ পরীক্ষা করা হয়ে থাকে ইসিজির মতো। এ পরীক্ষা করতে খুব কম সময় লাগে, ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই পরীক্ষা করা হয়ে যায়। এ পরীক্ষার মধ্যমে চিকিৎসকরা পরিমাপ করতে পারে যে, শ্বাসনালীতে বায়ু চলাচলের বাধা কী পরিমান আছে। সেটি দেখে ও তার রোগের লক্ষণ মিলিয়ে সিওপিডি নির্নয় করা হয়ে থাকে।
মেডিভয়েস: সিওপিডি ও অ্যাজমার শ্বাসকষ্টে কোন পার্থক্য আছে?
অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন: সিওপিডি ও অ্যাজমার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। অ্যাজমা হচ্ছে ছোটবেলার রোগ আর সিওপিডি হচ্ছে মধ্যবয়সের রোগ। অ্যাজমা পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও থাকে কারন এটি জেনেটিকভাবে আসে, অর্থাৎ বংশে থাকলে অন্যদের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সিওপিডির ক্ষেত্রে এমন ব্যাপার নেই । এজমা হচ্ছে এলার্জি জনিত রোগ, এ রোগীদের অন্যরোগও থাকতে পারে। যেমন: চর্ম রোগও থাকতে পারে। অনেকের রাইনাইটিস (নাকের এলার্জি) থাকতে পারে। এ রোগগুলো সিওপিডির রোগীদের মধ্যে দেখা যায় না। অ্যাজমা রোগীরা বেশিরভাগ ধূমপান করে না, আর যদি করেও থাকে তাহলে তার ওষুধের কার্যকারিতা অনেক কমে যায়। কোন অ্যাজমা রোগী যদি ধূমপায়ী হয়ে থাকে, তাহলে একটা সময় সে সিওপিডি রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
মেডিভয়েস: চিকিৎসা নিলে সিওপিডি ভালো হয়?
অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন: চিকিৎসকরা সিওপিডিকে বলে থাকে একটি প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য রোগ। আপনি যদি ধূমপান করে থাকেন, তাহলে তা ছাড়তে হবে। তাহলে আপনি সিওপিডি থেকে মুক্ত হতে পারবেন। বায়ুদূষিত স্থানে কাজ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করতে হবে। এসব নিয়ম মেনে চললে আপনি সিওপিডি থেকে মুক্ত হতে পারবেন।
মেডিভয়েস: সিওপিডিতে আক্রান্ত হলে কেন সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয় না?
অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন: সিওপিডিতে আক্রান্ত হলে শ্বাসনালীতে বায়ু চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি হয়। শ্বাসনালীর কিছু গঠনগত পরিবর্তন দেখা দেয়। একে রিমডেলিং ফাইব্রোসিস বলে। এই ফাইব্রোসিস হওয়ার ফলে শ্বাসনালী অপরিবর্তনীয়ভাবে চিকন হয় এবং বায়ুপ্রবাহে বাধা । কিন্তু অ্যাজমায় এই পরিবর্তন দেখা যায়না। যদি অ্যাজমা রোগীকে পরিমিত চিকিৎসা দেন, তাহলে চিকিৎসা পেয়ে আবার পূর্বের অবস্থায় তার শ্বাসনালী ফিরে আসবে। কিন্তু সিওপিডি রোগের ক্ষেত্রে এমন হয় না। একবার যদি কারো সিওপিডি হয়, চিকিৎসকরা তাদের বলে থাকেন- COPD is a one-way ticket to the great graves অর্থাৎ সিওপিডি হচ্ছে মৃত্যুতে পতিত হওয়ার একমূখী রাস্তা। কিন্তু এই সিওপিডি রোগকে চিকিৎসা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এতে করে তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে।
সিওপিডির প্রধান কারণ হচ্ছে ধূমপান ও বায়ু দূষিত স্থান। আপনি যদি ধূমপায়ী হয়ে থাকেন, তাহলে তা ছাড়তে হবে। যদি দূষিত বায়ুতে থাকেন, তাহলে তা পরিহার করতে হবে।
মেডিভয়েস: শীতে সিওপিডি রোগীদের প্রতি পরামর্শ কী?
অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন: শীতের সময় সিওপিডি রোগীদের প্রতি পরামর্শ হচ্ছে, তারা যেন ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন নেয়। তাহলে শীতে ভাইরাল ইনফেকশনের জন্য সিওপিডি রোগীদের যে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়, তা কমে যাবে। এছাড়া সিওপিডি রোগীরা একটু ক্ষীণ হয়। তাই তাদের পুষ্টির দিকটায় খেয়াল রাখতে হবে। তারপর তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য দৈনিক প্রচুর ফলমূল খেতে হবে এবং ব্যায়াম করতে হবে।
বাংলাদেশে পূনর্বাসনের পরিপূর্ণ ব্যবস্থা নেই, সে ক্ষেত্রে প্রত্যেক রোগীর জন্য পরামর্শ হলো- ঘরের আশেপাশে, পার্কে, নদীর ধারে বা মাঠে হাটাহাটি বা জগিং করতে হবে। এভাবে যদি ৩০-৪০ মিনিট একটু ব্যায়াম করেন, তাহলে শরীর অনেকটা ভালো থাকবে। একইসঙ্গে পুষ্টির জন্য সঠিক পরিমানে খাবার খেতে হবে।
সিওপিডি শুধু ফুসফুসের রোগ না, তাই এর চিকিৎসাও হওয়া উচিৎ বহুমুখী। কোন রোগী যদি সিওপিডিতে আক্রান্ত থাকেন এবং তিনি যদি খুব ভালো চিকিৎসার মধ্যে না থাকেন, তাহলে একটা পর্যায়ে তার হ্রদপিন্ড আক্রান্ত হবে। পরবর্তীতে হার্ট ফেইলিওর হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের কার্ডিয়োলজিস্টের পরামর্শও নিতে হয়।

মেডিভয়েস: করোনায় সিওপিডি রোগীর কী ধরনের ঝুঁকি/ক্ষতি হতে পারে?
অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন: সিওপিডি রোগটি শীতের শুরুতে বা শীতের সময় বেড়ে যায়। এটি বাড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে- শীতে ফুসফুসে ভাইরাল ইনফেকশন হয়। এই ভাইরাসের মধ্যে করোনাভাইরাস বা অন্য যে কোন ভাইরাস যদি ফুসফুসে যায়, তাহলে সেখানে সিওপিডির প্রভাব পড়বেই। সুতরাং বলা যায়, এই করোনাকালে সিওপিডির সমস্যা বাড়বে, কোন সন্দেহ নাই। এক্ষেত্রে আমার উপদেশ হচ্ছে- যারা আগে থেকে সিওপিডি রোগে ভূগছেন, তারা যেন চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্রতিষেধকগুলো ব্যবহার করেন। এবং শীতের জন্য তারা যেন প্রতিষেধক ও প্রতিরোধক ডায়েট, লাইফ স্টাইল ও ওষুধ শুরু থেকেই পরিমিতভাবে সেবন করেন।
মেডিভয়েস: বিএসএমএমইউতে সিওপিডির চিকিৎসা নিয়ে কিছু বলুন।
অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সিওপিডির রোগীদের যা যা চিকিৎসা করা উচিৎ তা সবই করা হয়। ইনডোরে(অন্তঃ বিভাগে) রোগী দেখা থেকে শুরু করে আউটডোরে রোগী দেখা এবং সিওপিডি রোগীদের অনেক সময় এনআইভি (নন ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন) দিয়ে থাকি। অনেক সময় সিওপিডি রোগীদেরকে ওয়ার্ডে অক্সিজেন দেওয়ার পরও দেখা যায় তাদের অক্সিজেনের স্বল্পতা থেকে যায়, সেক্ষেত্রে আমরা সিওপিডি রোগীকে রেসপিরেটরি সাপোর্ট দেওয়ার জন্য এনআইভি দিয়ে থাকি, যাকে আমরা বাইপ্যাপ( অপারেশন ছাড়াই বাইরে থেকে অধীক চাপে অক্সিজেন সরবরাহ) বলে থাকি। এর পরও যদি রোগীদের আইসিউ সাপোর্ট লাগে সেটিও আমরা এখানে দিয়ে থাকি। এছাড়াও রোগীদের টিকা দেওয়া এবং ধূমপায়ীদের কাউন্সেলিং করে থাকি।
সিওপিডি চিকিৎসার জন্য একটি প্রধান বিষয় হলো সেই রোগী যেন ধূমপান না করে। অনেকসময় শুধুমাত্র কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে রোগীকে ধূমপান মুক্ত করা যায় না। কারণ ধূমপান হচ্ছে একটি রোগ। যিনি ধূমপান করেন, তিনি ধূমপানে আক্রান্ত হয়ে যান। আর সেটা অনেকটা আসক্তির মতো। সেখান থেকে তাকে মুক্ত করার জন্য কাউন্সিলিংয়ের পাশাপাশি কিছু ওষুধ আছে, যেগুলো উন্নত দেশগুলোতে পাওয়া যায়। আমাদের দেশে সেই ওষুধগুলো সহজলভ্য না। আমাদের ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলো সেগুলো উৎপাদন করছেন না। কেউকেউ হয়তো বাইরে থেকে এই ওষুধগুলো এনে ব্যবহার করছেন। এক্ষেত্রে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট মহলের এই বিষয়টিতে নজর দেয়া উচিত। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ধূমপানে সিওপিডি হচ্ছে, আবার এই ধূমপানে সিওপিডির পাশাপাশি ক্যান্সার, হার্ট ডিজিজসহ আরও কিছু অসংক্রামক রোগ হচ্ছে। কাজেই আপনি যদি এই ধূমপান রোগের কোনভাবে চিকিৎসা করতে পারেন বা রোগীদেরকে ধূমপান মুক্ত করতে পারেন, তাহলে সিওপিডি রোগের পাশাপাশি স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, ক্যান্সারসহ আরও অনেকগুলো রোগ থেকে আমরা মুক্ত থাকতে পারবো।
মেডিভয়েস: বিএসএমএমইউতে সিওপিডির চিকিৎসার খরচ কেমন?
অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন: আমাদের বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা খরচ অনেকটা সরকারি হাসপাতালের মতো। আমাদের ইনডোর-আউটডোরগুলোতে প্রায় বিনামূল্যেই চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি। ফ্রি বেড দিয়ে নামমাত্র মূল্যে খাবারের টাকা নেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া পরীক্ষা-নিরিক্ষাগুলোও আমরা নামমাত্র মূল্যে করে থাকি, আবার অনেকগুলো পরীক্ষা আমরা বিনামূল্যেই করে থাকি। সেক্ষেত্রে আমি বলবো, দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা কেন্দ্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে একেবারেই অল্প খরচে বিশ্ব মানের চিকিৎসা দিয়ে থাকি।
মেডিভয়েস: বেসরকারি হাসপাতালে এই রোগের কেমন খরচ?
অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন: বাংলাদেশে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর প্রধান সমস্যা হচ্ছে, এর চিকিৎসা ব্যবস্থা গোছানো না। একই রোগের একেক হাসপাতালে একেকরকম খরচ। এক্ষেত্রে এই প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে আরেকটু নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে খরচটাকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নতুন করে সাজালে ভালো হয়। কারণ এই সিওপিডি রোগীরা যদি ওয়ার্ডে থাকে, আবার ওয়ার্ড থেকে যদি তাদের আইসিইউতে যেতে হয়, আর সেখানে যাওয়ার পর যদি লক্ষ টাকার বিল ধরিয়ে দেয়া হয়, সেটি আসলে রোগীর জন্য অনেক ক্ষেত্রেই বেশ কষ্টকর হয়ে যায়।
মেডিভয়েস: বাংলাদেশে সিওপডি রোগের পরিসংখ্যান কেমন?
অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন: সম্প্রতি বিএসএমএমইউয়ের গবেষণায় জানতে পেরেছি, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি সিওপিডি রোগী আছে। আমার একটি গবেষণা ছিলো এ নিয়ে, ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ৫০০ মানুষের উপর এ গবেষণায় দেখা গেছে- যারা ধূমপায়ী, তাদের মধ্যে সিওপিডিতে আক্রান্ত প্রায় শতকরা ১১ ভাগ। আর যারা অধূমপায়ী বা যারা কোন দিনই ধূমপান করেন না, তাদের মধ্যে সিওপিডিতে আক্রান্তের হার খুবই কম। সেটা শতকরা ৫ ভাগের মতো। কাজেই যারা ধূমপায়ী, তাদের জন্য এটা একটা বিপদ সংকেত হতে পারে। সিওপিডি এমন একটি রোগ, যাতে একবার আক্রান্ত হলে আপনি আর পুরোপুরি আগের অবস্থাতে ফিরে আসবেন না। সুতরাং আমাদের উচিত এই সিওিপিডিকে সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা।