১৮ নভেম্বর, ২০২০ ০১:৩৪ পিএম

‘ধূমপান ও দূষণমুক্ত পরিবেশে সিওপিডি রোগ প্রতিরোধ সম্ভব’

‘ধূমপান ও দূষণমুক্ত পরিবেশে সিওপিডি রোগ প্রতিরোধ সম্ভব’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেছেন, ‘ধূমপান পরিহার ও দুষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে সিওপিডি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে বিএসএমএমইউয়ের বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে বক্ষব্যধি বিভাগকে সব ধরণের সহায়তা করা হবে।’ 

আজ বুধবার (১৮ নভেম্বর) সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্ষব্যাধি (রেসপিরেটরি) বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই মহামারীর সময়ে বিশ্ব সিওপিডি দিবস পালন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুখে মাস্ক পড়ার যে নির্দেশ দিয়েছেন আমাদের তা অবশ্যই মেনে চলা উচিত।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি অধ্যাপক ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সিওপিডি রোগ প্রতিরোধে তামাক জাতীয় দ্রব্য সেবন করা থেকে বিরত থাকা, বায়ুদুষণ প্রতিরোধ করাসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। সিওপিডি একবার হয়ে গেলে সহজে নিরাময় হয় না, তাই প্রতিরোধেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান বলেন, ‘সিওপিডি প্রতিরোধে অ্যান্টি টোবাকো ক্যাম্পেইন জোরদার করতে হবে। আমি নিজেও ক্যাম্পেইনে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। আমার চাকরিজীবন শেষ করেও আমি অ্যান্টি টোবাকো সচেতনতায় কাজ করে যাবো।’

বিএসএমএমইউয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম তাঁর বক্তব্যে সিওপিডি উপর গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘সিওপিডি প্রতিরোধের জন্য সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে বায়ুদুষণ সর্বনিন্ম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ‘করোনা মহামারী রোগটির আবির্ভাবে প্রমাণিত হয়েছে রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে কতবেশী গুরুত্বপূর্ণ। এসময় তিনি সিওপিডি ও করেনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য বক্ষব্যধি বিভাগের আরো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

তিনি আরো বলেন,  ‘ধূমপান না করা, কলকারখানা ধোঁয়াসহ সকল ধরণের ধোঁয়া থেকে দূরে থাকা, তামাক চাষ বন্ধ করা এবং তামাক জাতীয় দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে সিওপিডিও রোগ অনেকটাই বিনাস করা সম্ভব। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী তামাক মুক্ত দেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই সিওপিডি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।’

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আরো জানান, ‘শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ সিওপিডি ধূমপায়ীদের বেশি হতে দেখা যায়। এটা ফুসফুসের একটা অসুখ যাতে নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। সিওপিডি-র ফলে কাশি দেখা দেয়, সেই সঙ্গে কফ, নিঃশ্বাসে সাঁ সাঁ শব্দসহ নানা উপসর্গ থাকে। ধূমপানের সঙ্গে এই অসুখটি যুক্ত। যাদের এটা হয়, তাঁদের অনেকেই ধূমপান করেন বা এককালে করতেন। এছাড়া বাতাসের দূষণ, ধুলো, ধোয়া, ইত্যাদি যা আমাদের ফুসফুসে প্রদাহের সৃষ্টি করে তাদের জন্যেও এই রোগটি দেখা দিতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সাল থেকে জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই দিবসটি প্রতিপালিত হয়ে আসছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীতে সিওপিডি রোগীর সংখ্যা ৮০ মিলিয়ন।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০৫ সালে ৩ মিলিয়ন লোক এই রোগে রোগে মারা গেছেন। ২০০২ সালে সেখানে সিওপিডি রোগ মৃত্যুর ৫ম কারণ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল, নিকট ভবিষ্যতে তা ৩য় মৃত্যুরর কারণ হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগরীতে বিএসএমএমইউয়ের বক্ষব্যাধি বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখানকার ৩৫ বছরের উর্ধ্বের জনসংখ্যার ১১.৪ ভাগ সিওপিডি রোগে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে ১১.৭ ভাগ পুরুষ এবং ১০.৬ ভাগ মহিলা। সিওপিডি রোগ প্রতিরোধে তামাকের চাষ ও উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। সিগারেট ও তামাক কোম্পানীগুলো বন্ধ হলে হ্রাস পাবে সিওপিডি-তে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতের ব্যয়ও অনেকটাই কমে আসবে। কারণ ধূমপান ও তামাজাত দ্রব্য সেবনের কারণে শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সারসহ মানুষ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ধূপপান পরিহার ও পরিবেশ দূষণ রোধের মাধ্যমে সিওপিডি রোগ প্রতিরোধ করা যায়। বর্তমানে মহিলা ধূমপায়ীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে-এটাও প্রতিরোধ করতে হবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি