২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৬:৪৫ পিএম
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা

অতিরিক্ত বেতন নিচ্ছে একাধিক বেসরকারি মেডিকেল

অতিরিক্ত বেতন নিচ্ছে একাধিক বেসরকারি মেডিকেল

মো. মনির উদ্দিন: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও অধিদপ্তরের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে দেশের অনেক মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ষাট মাসের বেশি বেতন আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, গত ডিসেম্বরে সর্বশেষ টিউশন ফি দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের কাছ থেকে এরই মধ্যে মার্চ পর্যন্ত টাকা আদায় করেছে কোনো কোনো মেডিকেল। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত টিউশন ফিসহ করোনায় বন্ধ থাকার পরও হোস্টেল ফি প্রদানেরও নোটিস দেওয়া হয়েছে। তবে তা অস্বীকার করে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি কোনো আইনের ব্যত্যয় ঘটান না তারা। 

সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে না অভিযোগ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা সাপ্লিমেন্টারী পরীক্ষার্থী। পুরো টিউশন ফি দিয়ে ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছিলাম। এক বিষয়ে খারাপ হয়। গত মার্চে রেজাল্টের পর আমাদেরকে নোটিস দিয়েছিল। সেখানে ৫০ হাজার সেশন ফি, ১৬ হাজার টিউশন ফিসহ অন্য চার্জ মিলিয়ে আমাদেরকে ১ লাখ ৭৮ হাজার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর পর কোভিডের সময় হোস্টেল বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণার পর আবারও নোটিস দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এতে আমাদেরকে ১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। করোনায় সব হোস্টেল বন্ধ থাকলে আমাদের কাছ থেকে ৩৩ হাজার টাকা হোস্টেল চার্জ, টিউশন ফি অতিরিক্ত ৪০ হাজার টাকা দিতে বলা হয়েছে। নোটিস অনুযায়ী, চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে এ টাকা প্রদান করতে হবে।’

একই মেডিকেলে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বেতনের জন্য একটি নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। টিউশন ফি, হাফ সেশন ফি, হোস্টেল ফি, পরীক্ষা ফি—সব মিলিয়ে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৫০ টাকা ধরা হয়েছে।’ 

পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য রাজধানীর এম এইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদেরও চলতি মাস পর্যন্ত টিউশন ফি পরিশোধের নোটিস দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. দিলিপ কুমার ধর স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, উল্লেখিত ফি প্রদান না করলে কোনো ছাত্র/ছাত্রী পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারবে না এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজধানীর ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘গত নভেম্বরে আমাদের মেডিকেলের ২৫ জনকে বসতে দেওয়া হয়নি। এখন কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ছয় মাসের বেতন চাচ্ছেন। টাকার জন্য রীতিমতো চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে আমাদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা শুরু হবে। এর আগে বেতন না দিলে আমাদেরকে এবারও ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজীপুরের টঙ্গী ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী মেডিভয়েসকে বলেন, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষাবর্ষ গত বছরের ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে। তবে করোনার কারণে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় তাদের ফাইনাল প্রফ পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। গত ডিসেম্বরে সর্বশেষ টিউশন ফি দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের কাছ থেকে এরই মধ্যে জানুয়ারি-মার্চের বেতন আদায় করা হয়েছে।

ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ছাত্রদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেওয়ার পাশাপাশি প্রফ পরীক্ষায় কিভাবে পাস করে তা দেখিয়ে দেওয়ার হুমকিও প্রদান করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৬০ মাসের অধিক বেতন নেওয়া যাবে না। যারা ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি এবং যারা সময়মতো ফাইনাল পরীক্ষায় বসার ক্লিয়ারেন্স পায়নি, সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম। তবে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের থেকে ৬ মাস অতিরিক্ত টাকা নেওয়া না হলেও যারা ক্লিয়ারেন্স পায়নি, তাদের থেকে বেতন আদায় অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত জানুয়ারি থেকে তিন মাসের বেতন দিতে হয়েছে তাদের।

ইতিমধ্যে আদায় করা ৬০ মাসের অধিক বেতন দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া এবং নিয়ম ভঙ্গকারী কলেজগুলোকে শাস্তির আওতায় আনতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বেসরকারি মেডিকেল শিক্ষার্থীরা।

জানতে চাইলে গাজীপুরের টঙ্গী ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. হাবিব সাদাত চৌধুরী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এ রকম কখনোই হয়নি। আমরা ঘোষণাই দিয়ে দিয়েছি যে, তোমাদেরকে ষাট মাসের বেশি বেতন দিতে হবে না। এ ব্যাপারে সন্দেহের কোনো অবকাশ নাই। কোনো ছাত্র যদি ভুলক্রমে দিয়ে থাকে, সেটা অন্য জিনিস। আমরা সরকারি কোনো আইনের ব্যত্যয় ঘটাই না।’

তবে ছাত্রত্ব বজায় রাখতে হলে বেতন দিতে হবে মন্তব্য করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মাহমুদুল আজিজ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘কিছু ছেলে চতুর্থ বর্ষেই পাস করতে পারে না। কিছু শিক্ষার্থী পঞ্চম বর্ষে পাস করতে পারে না। ছাত্রদের যেহেতু আমরা পড়াচ্ছি, পাঁচ বছর হোক আর ১০ বছর হোক সে যদি আমাদের এখানে ক্লাস করে তাকে তো পড়াতে হচ্ছে। ছাত্রত্ব বজায় রাখার জন্য তাকে একটি ফি দিতে হবে। সেশন চার্জ পাঁচ বছরের বেশি নেওয়া যাবে না, যদিও পরিষ্কার কোনো নির্দেশনা নাই।’

তাহলে করোনার কারণে যারা মে মাসে পরীক্ষায় বসতে পারেনি তাদের কাছ থেকে কেন অতিরিক্ত বেতন নেওয়া হবে জানতে চাইলে ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন তিনি।

মেডিভয়েস এর জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্ট গুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি