৫০৫৪ নার্স নিয়োগের বৈধতা জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল
মেডিভয়েসি রিপোর্ট: করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ করা ৫ হাজার ৫৪ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে রিটাকারী ৫১ জনেকে কেন নিয়োগ দেওয়া হবেনা তাও জানাতে চেয়েছে আদালত।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক ও ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জেসমিন সুলতানা সামসাদ।
সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে ৫০৫৪ জনকে নিয়োগের জন্য গত ৩০ এপ্রিল সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) করা সুপারিশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ সময় রুলে আবেদনকারী ৫১ জনকে নিয়োগ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। এতে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পিএসসির চেয়ারম্যানসহ ৫ জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে রিটকারীর আইনজীবি ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার গণমাধ্যমকে বলেন, চার হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের জন্য ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির আলোকে ১৬ হাজারের বেশি আবেদনকারী পরীক্ষায় অংশ নেন। পিএসসি ২০১৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে। এতে উত্তীর্ণ হন ১১ হাজার ৩৫৭ জন। এরপর সংশ্লিষ্টদের সনদ যাচাই শেষে ২০১৮ সালের ১১ জুন এক হাজার ১৭ জনের ফল বাতিল করে নোটিশ দেয় পিএসসি। ফলে চূড়ান্তভাবে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখানো হয় ১০ হাজার ৩৪০ জনকে। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে মেধা তালিকা অনুসারে পাঁচ হাজার ১০০ জনকে নিয়োগ দিতে পিএসসি ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট সরকারকে সুপারিশ করে। ওই সুপারিশ অনুযায়ী সরকার তাদের নিয়োগ দেয়।
পরবর্তীতে গত মার্চে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে সরকার ছয় হাজার নার্স নিয়োগের জন্য পিএসসির কাছে চাহিদাপত্র দেয়। এর আলোকে ২০১৭ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৫০৫৪ জনকে নিয়োগের জন্য গত ৩০ এপ্রিল সরকারের কাছে সুপারিশ করে পিএসসি। এরপর সরকার তাদের সকলকে নিয়োগ দেয়। নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে অযোগ্যতার কারণে পাঁচজনের আবেদনপত্র ২০১৮ সালের ১১ জুন বাতিল করে পিএসসি। এ অবস্থায় ২০১৭ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে নিয়োগ বঞ্চিত ৫১ জন রিট আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।