এবার সাহাবউদ্দিন মেডিকেলের এমডি গ্রেপ্তার
মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনাভাইরাসের ভুয়া সনদ বাণিজ্য ও চিকিৎসা প্রতারণায় কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার স্বাস্থ্যখাতের সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে সরকার। ইতিমধ্যেই এসব অভিযোগ উঠায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ও জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা-আরিফ দম্পত্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
এ তালিকায় এবার যোগ হয়েছেন রাজধানীর গুলশানের সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল আল ইসলাম। বনানীর একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার রাত ১১টা ৫১ মিনিটে র্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইং থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ক্ষুদে বার্তায় র্যাব জানায়, সাহাবউদ্দিন হাসপাতালের বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়া করোনা পরীক্ষা এবং ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল আল ইসলাম এজহারভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন। রাজধানীর একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে, সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করে র্যাব। ওই মামলায় এজহারভুক্ত দুই আসামি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. আবুল হাসনাত (৫২) এবং ইনভেন্টরি অফিসার শাহরিজ কবির সাদিরকে (৩৩) আগেই গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগে আনা হয়েছে, নেগেটিভ রোগীকে করোনা পজিটিভ রোগী বলে চিকিৎসা দেওয়া, পরীক্ষা না করে ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়া এবং অনুমোদন না নিয়েই র্যাপিড কিট দিয়ে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করিয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া আবুল হাসনাত নন–কোভিড ও কোভিড রোগীদের এক পরীক্ষা চারবার দেখিয়ে বিল করেছেন। একাধিকবার করোনা পরীক্ষার সনদ রোগীর ফাইলে সংযোজিত পাওয়া যায়নি। মামলায় আরও চার-পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, হাসপাতালটি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করে আসছিল রোগীদের কাছে। এ ঘটনায় সারওয়ার আলম প্রতিষ্ঠাটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। হাসপাতালের পাঁচটি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে। একটিতে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি মেয়াদোত্তীর্ণ সার্জিক্যাল টিউব পান । এগুলোর একটি ২০০৯ সালে, দুটি ২০১১ সালে এবং একটি ২০২০ সালের এপ্রিলে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। এসব টিউব সাধারণত অপারেশনে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার সময় রোগীর শ্বাসনালিতে ঢোকানো হয়। এ ছাড়া হাসপাতালের লাইসেন্স গত বছর শেষ হয়ে যায়। এসবের সঙ্গে সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ফয়সাল, সহকারী পরিচালক আবুল হাসনাত ও শাহরিজ কবির জড়িত।
প্রসঙ্গত, রবিবার (১৯ জুলাই) বিকালে রাজধানীর গুলশানে সাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। করোনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে। নেগেটিভ রোগীকে করোনা পজিটিভ বলে হাসপাতালে ভর্তি রেখে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি পেয়েছে র্যাব।