ডা. রিফাত আল মাজিদ

ডা. রিফাত আল মাজিদ

সহ-প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালক 
সাইকোট্রামাটোলজি অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ।


১৯ জুলাই, ২০২০ ০৭:৩৭ পিএম

রিলিজিয়াস ও সেক্সুয়াল অবসেশন: একটি মনোসামাজিক পর্যবেক্ষণ

রিলিজিয়াস ও সেক্সুয়াল অবসেশন: একটি মনোসামাজিক পর্যবেক্ষণ

আমি যেইসব রোগী পেয়েছি, তাদের অধিকাংশ রিলিজিয়াস অবসেশনে ভুগছিলো, এবং তা এক সময় সেক্সুয়াল অবশেসনে রুপান্তরিত হয়। এই অবশেসনে আক্রান্ত মানুষ আসলে নিজেকে অপরাধী ভাবেন। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, তার মধ্যে যেই অপ্রত্যাশিত চিন্তাগুলো বারবার আসে তা সে হাজার চেষ্টা করেও তার মন থেকে বের করতে পারেনা।

সে কাউকে এসব শেয়ারও করতে পারেনা। চিন্তাগুলো যে অযৌক্তিক, সে তা বুঝতে পারে তবে তা কাউকে শেয়ার করতে পারেনা। এমন কি সে ২৪ ঘন্টা আতঙ্কের মধ্যে থাকে। সে মনে করে, তার মত দুঃখী মানুষ পৃথিবীতে আর কেউ নেই। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, আরাম, সব তার থেকে হারিয়ে যায়।

তার জীবনটা মনে হয় যেন সে একজন রাখাল, যাকে পিছন থেকে একটি সাপে দৌড়াচ্ছে আর সে দৌড়াতে দৌড়াতে এক জায়গায় আশ্রয় নিলো, আশ্রয় নেওয়ার পরক্ষনেই দেখে, সেখানে একটা সিংহ বসে আছে।  আবার সে দৌড়ায়, এইভাবে সামনে গেলে দেখে একটা বাঘ তার দিকে এগিয়ে আসছে। এইভাবে সে কোনো কুলেই প্রশান্তি পায়না।

এক সময় সে মনে করে, পুরো পৃথিবী তার জন্য সংকীর্ণ হয়ে আসছে, আল্লাহর কাছে সে পৃথিবীর বিনিময়ে কেবল একটা জিনিষই চায়, তা হচ্ছে আল্লাহ যেনো তাকে এর থেকে মুক্তি দেয়।

৯০ ভাগ ওসিডি রোগীর রোগ শুরু হয়েছে কারও মাধ্যমে মানসিক আঘাত পেয়ে, কিংবা কারও প্রতি প্রচণ্ড ক্ষোভ আর ঘৃণা থেকে। সেক্সুয়াল অবশেসন মুলত শুরু হয় স্বপ্নের মাধ্যমে, স্বপ্ন থেকে তা কল্পনাতে রুপ নেয়। এরপর তা অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়তে থাকে। এক সময় ভিকটিম নিজেকে সর্বোচ্চ অপরাধী ভাবে।

রিলিজিয়াস অবশেসন এর অনেকগুলো দিক আছে, মাঝে মধ্যে রোগী নিজেকে আবিষ্কার করে, সে কুরআনের উপর হাঁটছেন। রাস্তাঘাটে তার কাছে মনে হয়, কুরআনের আয়াতের প্রতিচ্ছবি আছে, মাঝে মধ্যে পেশেন্ট টয়লেটে গেলে হঠাৎ কল্পনা আসে এখানে কুরআন পড়ে আছে। সে বুঝে, এখানে কুরআন নেই, তারপরেও এই অপ্রত্যাশিত চিন্তা আসার কারণে তার মন খারাপ হয়ে যায়, মাঝে মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে নবী সম্পর্কে, নবীদের স্ত্রী সম্পর্কে তার মাঝে অপ্রত্যাশিত চিন্তা চলে আসে (নাউজুবিল্লাহ)।

ওসিডিতে যারা ভোগেন, তারা নিজেদের কে পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানুষ হিসাবে কল্পনা করেন। তাদের সারাক্ষণ মন খারাপ থাকে। যে কোনো আনন্দঘন পরিবেশে মুহুর্তে তাদের মন খারাপ হয়ে যায়। আর এই কষ্ট নিয়ে তারা জীবন কাটাতে থাকে, কাউকে বলতেও পারেনা, সইতেও পারেনা।

তাই আপনাদের যারা এমন সমস্যায় আছেন, একজন মানসিক ডাক্তারকে কিংবা আলেম সাহেব কে আপন মনে করে চোখ বন্ধ করে সব শেয়ার করুন। মনে প্রাণে বিশ্বাস রাখুন, সব সমস্যা সাময়িক। সকল অন্ধকারের পর আলোর আবির্ভাব অনিবার্য।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত