২০ জুন, ২০২০ ০৬:১৫ পিএম

দেশে কোভিড-১৯ সদৃশ পিএমআইএস’র প্রথম রোগী শনাক্তের দাবি চিকিৎসকদের

দেশে কোভিড-১৯ সদৃশ পিএমআইএস’র প্রথম রোগী শনাক্তের দাবি চিকিৎসকদের

মো. মনির উদ্দিন: দেশে কোভিড-১৯ সদৃশ শিশুদের নতুন ও বিরল রোগ মাল্টিসিস্টেম ইনফ্লেমেটরি সিনড্রোম (এমআইএস-সি) অথবা পেডিয়াট্রিক মাল্টিসিস্টেম ইনফ্লেমেটরি সিনড্রোমে (পিএমআইএস) আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো সফল চিকিৎসা প্রদানের দাবি করেছেন চিকিৎসকরা।  

রাজধানীর এভারকেয়ার হসপিটালের চিকিৎসকরা জানান, এ হাসপাতালে গত ১৫ মে প্রথম এবং ২৭ মে দ্বিতীয় দফায় পিএমআইএস রোগী শনাক্ত হয়। পরে তাদের শিশুরোগ বিষয়ক সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. এম কামরুল হাসান এবং শিশু হৃদরোগ বিষয়ক কনসালটেন্ট ডা. তাহেরা নাজরিন সফলভাবে এর চিকিৎসা করেন। এভারকেয়ারের শিশু বিভাগের চিকিৎসক ও শিশু ইনটেনসিভ কেয়ার টিমের সহযোগিতায় বিরল এ রোগের চিকিৎসা সম্পন্ন হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত দুই শিশুর মধ্যে সাড়ে ৩ মাস বয়সী একটি মেয়ে ও ২ বছর ২ মাস বয়সী একটি ছেলে ছিল। তাদের শরীরে ৫ ও ৭ দিন ধরে ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর ছিল। এ সময় তাদের ডায়রিয়া, চোখ ও ঠোঁট লাল হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পায়ে হালকা ফোলা ভাব ছিল। এছাড়া তাদের হৃদপিন্ডে রক্ত সরবরাহকারী করোনারি রক্তনালীও আক্রান্ত হয়ে ফুলে যায়। 

বড় শিশুটির খিঁচুনির সঙ্গে হার্ট বড় হয়ে যাওয়া ও হার্টের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। এই সময়ে আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় তার কোভিড-১৯ পজিটিভও দেখায়। আর ছোট শিশুটির ফলাফল নেগেটিভ আসে। কিন্তু কিছুদিন পরই তার পরিবারের সকল সদস্যের করোনা শনাক্ত হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বড় শিশুটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। দুজন রাখা হয় শিশুকেই গভীর পর্যবেক্ষণে এবং দেওয়া হয় ইন্ট্রাভেনাস ইমুনোগ্লোবুলিন (আইভিআইজি)। আইভিআইজি হচ্ছে অ্যান্টিবডির মিশ্রণ, যা সুস্থ ডোনারের রক্তের প্লাজমা থেকে তৈরি করা হয়; এটি সংক্রমণ ও প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। চিকিৎসায় তাদের অবস্থা স্থিতিশীল ও ক্রমে উন্নতি হলে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেয়া হয় এবং নিয়মিত ফলোআপে রাখা হয়। 

এমআইএস-সির লক্ষণসমূহ 

১. প্রচণ্ড জ্বর থাকবে, যা ৩-৫ দিনের বেশি স্থায়ী হতে পারে, 
২. পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া ও বমি-ভাব হবে, 
৩. চোখ লাল হয়ে যাওয়া, 
৪. ঠোঁট, জিহ্বা লাল হয়ে যাওয়া, 
৫. চামড়ায় ফুসকুড়ি, 
৬. ত্বকের রং পরিবর্তন, ত্বকের নিচে রক্ত জমার লক্ষণ, 
৭. বুকে ব্যথা অনুভূত হবে, 
৮. শ্বাসকষ্ট, 
৯. ক্লান্ত লাগবে এবং 
১০. শিশুদের ক্ষেত্রে খাওয়াদাওয়ার প্রতি অনীহা। 

এমআইএস-সিতে কারা আক্রান্ত হয়?

শিশুদের মধ্যে এই রোগটি বেশি দেখা গেলেও অল্প বয়স্ক তরুণরাও এতে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ২১ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোররা এতে আক্রান্ত হতে পারে। কোভিড-১৯ এর সাথে সম্পর্কিত হওয়ায় করোনায় আক্রান্তদের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। তবে এমআইএস-সি রোগীদের দেহে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটির উপস্থিতি বা কোভিড-১৯ ডায়াগনোসিস করার মতো কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। 

সংক্রমণ থেকে বাচ্চাদের যেভাবে দূরে রাখবেন

চিকিৎসকরা জানান, এই মহামারী চলাকালীন সময়ে অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের এই ক্ষতিকর ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি এই নতুন ও বিরল রোগের ব্যাপারেও সতর্ক থাকা। রোগটির বেড়ে উঠা, ক্ষতিকর প্রভাব এবং কীভাবে এর সংক্রমণ থেকে অন্যান্য শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব, সে সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।

কোভিড-১৯-এর সাথে সম্পর্কিত হওয়ায় শিশুদের এমআইসিএস-সি থেকে সুরক্ষার সর্বোত্তম উপায় হলো তাদের সার্স-কোভ-২ ভাইরাসে আক্রান্তদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা। এটি নিশ্চিত করতে অভিভাবকগণ যা করতে পারেন: 

১. সন্দেহভাজন বা কোভিড-১৯ এ আক্রান্তদের সংস্পর্শ সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা, 
২. মুখে মাস্ক পরা (২ বৎসর বয়সের বেশি), 
৩. সবার সাথে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং 
৪. কিছুক্ষণ পরপর হাত ধোয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্য সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) বরাত দিয়ে চিকিৎসকরা জানান, কোভিড-১৯ ও এমআইএস-সি একটি আরেকটির সাথে সম্পর্কিত। পজিটিভ অ্যান্টিবডিগুলো পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, এমআইএস-সিতে আক্রান্ত অসংখ্য শিশু অতীতে কোভিড-১৯ দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল; যাদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ ছিল না।

এই রোগে শরীরের একাধিক অঙ্গে রক্তনালীর প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং তা হয় অসম্ভব দ্রুত গতিতে। এতে রক্তের প্রবাহ কমে গিয়ে হার্ট, কিডনি, ফুসফুস ও যকৃতের মতো একাধিক অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর বৈশিষ্ট্যগুলো অনেকটা কাওয়াসাকি ডিজিজ ও টক্সিক শক সিনড্রোমের মতো।

গত ২৬ এপ্রিল যুক্তরাজ্যে প্রথম এ রোগ ধরা পড়ে এবং পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতেও এটি দেখা যায়।

করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম গুলো মেনে চলুন। সর্দি কাশি জ্বর হলে হাসপাতালে না গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দানকারী হটলাইন গুলোতে ফোন করুন। আইইডিসিআর হটলাইন- 10655, email: [email protected]
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে