১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:১৮ পিএম

‘নারীর স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ মানেই জাতির ভবিষ্যতে বিনিয়োগ’

‘নারীর স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ মানেই জাতির ভবিষ্যতে বিনিয়োগ’
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নারীর স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগকে কেবল স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নয়, বরং মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) সঙ্গে ২৫ কোটি ইউরো রেয়াতি ঋণ অর্থায়নের চুক্তি হয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) অতিরিক্ত ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) জার্মানির বার্লিনে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের হল-২ এ ইউএনএফপিএ আয়োজিত ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কিশোরী ও নারীদের স্বাস্থ্যসেবাকে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার সরকারি অঙ্গীকার তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, নারীর স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগকে শুধু সামাজিক বা স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ।

কিশোরী ও নারীর স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব

বাংলাদেশে নারীর স্বাস্থ্য ও ক্ষমতায়নের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা, জনগণের অংশগ্রহণ ও নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়া নারীশিক্ষা ও ক্ষমতায়ন এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে কিশোরীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারিত হয়।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এই ধারাবাহিকতা এগিয়ে নিয়ে নারীর স্বাস্থ্য খাতে নতুন প্রজন্মের রূপান্তরমূলক বিনিয়োগ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য শুধু মাতৃস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সীমাবদ্ধ নয়। কিশোরীদের পুষ্টি, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ, যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসহ নারীর জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

স্বাস্থ্যকর্মী ও মিডওয়াইফ নিয়োগ

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশে এক লাখ কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং কর্মী এবং অতিরিক্ত ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে কমিউনিটি পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসব উৎসাহিত করা এবং প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার নির্ভরযোগ্য কেন্দ্রে পরিণত করতে চায়। সেখানে স্বাভাবিক প্রসবের পাশাপাশি জরুরি প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসাসেবাও নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, ‘সমন্বিত ও অপরিহার্য মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য কোনো নারীকে যেন তাঁর উপজেলা হাসপাতালের বাইরে যেতে না হয়—এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

তবে জটিল পরিস্থিতিতে বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, সাধারণ ও অপরিহার্য মাতৃস্বাস্থ্যসেবা নারীদের নিজ নিজ এলাকার কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়া শুধু স্বাস্থ্য অবকাঠামো সম্প্রসারণের বিষয় নয়; এটি সমতা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।

ইআইবির সঙ্গে ২৫ কোটি ইউরোর অর্থায়ন চুক্তি

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ওইউএনএফপিএর সহযোগিতায় বাংলাদেশের নারীর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে নতুন উদ্যোগের উপস্থাপনা।

ডা. জুবাইদা রহমান জানান, বাংলাদেশের জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের সঙ্গে ২৫ কোটি ইউরো রেয়াতি ঋণ অর্থায়নের চুক্তি হয়েছে। এর পাশাপাশি ইউএনএফপিএর অতিরিক্ত দুই কোটি ৫০ লাখ ইউরো অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেবে।

এই অর্থায়ন ও সহযোগিতার মাধ্যমে নারীর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইউএনএফপিএর চিফ অব স্টাফ ড. নিগিনা মুনতিয়ান। মূল বক্তব্য দেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক ড. দিয়েন কেইতা।

উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার, জার্মানির ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি স্টেট সেক্রেটারি ড. বারবেল কফলার, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিন্টাহ আকানদোহ এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক