০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:২২ পিএম

বাহ্যিকভাবে পুরুষ হলেও শরীরে জরায়ু-ফ্যালোপিয়ান টিউব, বিরল রোগ শনাক্ত

বাহ্যিকভাবে পুরুষ হলেও শরীরে জরায়ু-ফ্যালোপিয়ান টিউব, বিরল রোগ শনাক্ত
প্রতীকি ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সন্তান না হওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে নিজের শরীর সম্পর্কেই পেলেন অবিশ্বাস্য এক তথ্য পেলেন এক যুবক। বাইরে থেকে সম্পূর্ণ পুরুষ হলেও ভারতের দিল্লির ২৬ বছর বয়সী এক যুবকের শরীরের ভেতরে রয়েছে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব। শুধু তা-ই নয়, অণ্ডকোষও স্বাভাবিক অবস্থানে না থেকে রয়েছে পেটের ভেতরে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত বিরল পারসিস্টেন্ট মুলেরিয়ান ডাক্ট সিনড্রোমে (পিএমডিএস) কারণে এমন শারীরিক গঠন তৈরি হয়েছে।

দিল্লির রাজৌরি গার্ডেন এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে সন্তান না হওয়ার সমস্যার চিকিৎসা নিতে গিয়ে নিজের শরীরে থাকা এই বিরল শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পারেন ওই যুবক। চিকিৎসকদের বরাতে প্রায় দুই বছর আগে তার বিয়ে হয়। এরপর সন্তান না হওয়ায় তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

প্রাথমিকভাবে আলট্রাসোনোগ্রাফি করার সময় চিকিৎসকেরা দেখতে পান, তার অণ্ডকোষ স্বাভাবিক অবস্থানে নেই। পরবর্তী পরীক্ষায় আরও বিস্ময়কর তথ্য সামনে আসে। দেখা যায়, তার শরীরের ভেতরে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব।

চিকিৎসক সুশীল খরবান্দার মতে, বাহ্যিক শারীরিক গঠন এবং যৌনাঙ্গের দিক থেকে ওই যুবকের মধ্যে পুরুষের বৈশিষ্ট্যই রয়েছে। বাইরে থেকে দেখে তার শরীরে এমন কোনো অস্বাভাবিকতা বোঝার উপায় ছিল না। কিন্তু শরীরের ভেতরে অণ্ডকোষের পাশাপাশি নারী প্রজনন অঙ্গের কিছু অংশ রয়ে গেছে।

কী এই পিএমডিএস?

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল অবস্থার নাম পারসিস্টেন্ট মুলেরিয়ান ডাক্ট সিনড্রোম (পিএমডিএস)। সাধারণত ৪৬, এক্সওয়াই ক্রোমোজোমযুক্ত এবং বাহ্যিকভাবে পুরুষ হিসেবে বিকশিত ব্যক্তিদের শরীরে ভ্রূণাবস্থায় থাকা মুলেরিয়ান ডাক্ট ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

ভ্রূণের বিকাশের সময় অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন (এএমএইচ) এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো কারণে এএমএইচ তৈরি বা এর কার্যক্রমে সমস্যা হলে মুলেরিয়ান ডাক্ট পুরোপুরি বিলুপ্ত নাও হতে পারে। তখন পরবর্তী সময়ে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো অঙ্গ শরীরে থেকে যেতে পারে।

অণ্ডকোষও থাকতে পারে পেটের ভেতরে

পিএমডিএসের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষ স্বাভাবিকভাবে অণ্ডথলিতে নামতে ব্যর্থ হতে পারে। ফলে তা পেটের ভেতরে, কুঁচকিতে বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক স্থানে অবস্থান করতে পারে।

অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ছোটবেলাতেই অণ্ডকোষ না নামা বা কুঁচকির হার্নিয়ার মতো সমস্যার চিকিৎসার সময় পিএমডিএস শনাক্ত হয়। তবে সব ক্ষেত্রে শৈশবে রোগটি ধরা পড়ে না। কখনও কখনও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রথমবারের মতো বিষয়টি সামনে আসে।

বন্ধ্যত্বের সঙ্গেও রয়েছে সম্পর্ক

পিএমডিএস আক্রান্ত পুরুষদের মধ্যে বন্ধ্যত্বের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অণ্ডকোষ দীর্ঘদিন পেটের ভেতরে থাকলে তার স্বাভাবিক বিকাশ ও শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি প্রজনননালির গঠনগত অস্বাভাবিকতাও প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

২০২৬ সালে  নেচার রিভিউস ইউরোলজিতে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনাতেও পিএমডিএসকে পুরুষ বন্ধ্যত্বের একটি বিরল কারণ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কেন প্রয়োজন চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ?

দীর্ঘদিন পেটের ভেতরে থাকা অণ্ডকোষের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার ঝুঁকি রয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থানের তুলনায় এমন অণ্ডকোষে ক্ষয় এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই রোগ শনাক্ত হওয়ার পর রোগীর বয়স, অণ্ডকোষের অবস্থা ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতির পরামর্শ দিতে পারেন।

কিছু ক্ষেত্রে অণ্ডকোষকে অণ্ডথলিতে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। আবার পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য ধরনের অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হতে পারে।

পিএমডিএস অত্যন্ত বিরল হওয়ায় অনেক সময় এটি সহজে শনাক্ত হয় না। তবে পুরুষ রোগীর অণ্ডকোষ স্বাভাবিক অবস্থানে না থাকা, বন্ধ্যত্ব বা কুঁচকির হার্নিয়ার মতো সমস্যার সঙ্গে অস্বাভাবিক শারীরিক গঠন পাওয়া গেলে চিকিৎসকেরা এই বিরল অবস্থার কথাও বিবেচনায় নিতে পারেন।

সূত্র: আনন্দবাজার

এমআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও