০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০৯ এএম

গাজায় জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশে ইসরাইলের বাধা, ভয়াবহ পরিণতির শঙ্কা ডব্লিউএইচওর

গাজায় জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশে ইসরাইলের বাধা, ভয়াবহ পরিণতির শঙ্কা ডব্লিউএইচওর
গাজা উপত্যকায় প্রবেশের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে মানবিক সহায়তা বোঝাই ট্রাক। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃত্রিম অঙ্গসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী গাজায় প্রবেশে দফায় দফায় বিলম্বের কারণে ফিলিস্তিনিদের ‘ভয়াবহ পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) ডব্লিউএইচও জানায়, বর্তমানে অনুমোদিত ত্রাণসামগ্রী কেবল গাজার দক্ষিণাঞ্চলের কেরেম শ্যালম ক্রসিং দিয়ে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে। অন্যদিকে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে ইচ্ছুক রোগীসহ সীমিতসংখ্যক মানুষের চলাচল হচ্ছে।

গাজায় প্রবেশের অন্য চারটি প্রধান পথ—কিসুফিম, গেট ৯৬, ইরেজ ও পশ্চিম ইরেজ—ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এখনও পুরোপুরি বন্ধ।

ফিলিস্তিনে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি রেইনহিল্ড ভ্যান দে উইয়ার্ড ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের প্রতি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামকে কোনোভাবেই ‘দ্বৈত ব্যবহারের’ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

তিনি জানান, গত ছয় মাসে গাজায় কৃত্রিম অঙ্গ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়ক সরঞ্জামের একটি চালান চারবার আটকে দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। তার ভাষায়, প্রতিটি প্রত্যাখ্যানের অর্থ হলো—যে ব্যক্তি অঙ্গ হারিয়েছেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অপেক্ষায় আছেন, তার সেই সুযোগ আরও পিছিয়ে যাওয়া।

শীত মৌসুম ঘনিয়ে আসায় গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ভ্যান দে উইয়ার্ড বলেন, তীব্র ঠান্ডা ও বন্যার ঝুঁকি থেকে বাঁচতে প্রায় ২০ লাখ মানুষের নিরাপদ আশ্রয় প্রয়োজন।

নিরাপদ আশ্রয় ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় গাজায় রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও সতর্ক করেছে ডব্লিউএইচও।

এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওচা) জানিয়েছে, ভারী যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও জ্বালানির সংকটে গাজা সিটিতে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরাইলি হামলা, সীমান্তপথে বিধিনিষেধ এবং জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে গাজার সামগ্রিক মানবিক পরিস্থিতি এখনও চরম বিপর্যয়কর অবস্থায় রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

এমআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও