৪৯তম বিসিএসে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি, নাম নেই উত্তীর্ণ ৫৭ জনের
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ৪৯তম বিসিএসে (বিশেষ) ৬১১ জনকে শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই প্রজ্ঞাপন জারি করে।
এই বিসিএস পরীক্ষায় পিএসসির চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ৬৬৮ জন। সেই হিসাবে উত্তীর্ণ ৫৭ জনের নাম প্রজ্ঞাপনে নেই। কী কারণে তাঁরা বাদ পড়েছেন, তা জানা যায়নি।
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা ২০২৫-এ মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের বিভিন্ন পদে ৬৮৩টি শূন্য পদের মধ্যে ৬৬৮ জনকে নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পক্ষ থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী সাময়িকভাবে মনোনয়ন করা হয়েছিল। সে সময় পিএসসি জানায়, কয়েকটি ক্যাডার পদে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ১৫টি পদে প্রার্থী মনোনয়ন করা হয়নি।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের সুপারিশক্রমে এ প্রজ্ঞাপনের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত ৬১১ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের প্রবেশ পদে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বেতনক্রম অনুসারে নিম্নবর্ণিত শর্তে নিয়োগ করা হলো।
নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে তারা চাকরিতে যোগদানে সম্মত নন বলে ধরে নেওয়া হবে এবং নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
নিয়োগের শর্তে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এরপর চাকরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরকার নির্ধারিত পেশাগত ও বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তরা দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করবেন। প্রয়োজনে সরকার এ শিক্ষানবীশকাল অনূর্ধ্ব দুই বছর বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবিশকালে কোনো প্রার্থীকে চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী মনে হলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে।
বুনিয়াদি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং শিক্ষানবীশকাল সন্তোষজনকভাবে শেষ হলে সংশ্লিষ্টদের চাকরিতে স্থায়ী করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণে যাওয়ার আগে নিয়োগপ্রাপ্তদের কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের কাছে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। পাশাপাশি একজন জামিনদারসহ ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বন্ড দিতে হবে। শিক্ষানবীশকালে অথবা শিক্ষানবীশকাল শেষ হওয়ার পর তিন বছরের মধ্যে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে প্রশিক্ষণকালে পাওয়া বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণের জন্য নেওয়া অগ্রিম, ভ্রমণভাতা ও অন্যান্য অর্থ এবং প্রশিক্ষণের পেছনে সরকারের ব্যয় করা অর্থ ফেরত দিতে হবে।
চাকরিতে যোগদানের সময় নিয়োগপ্রাপ্তদের ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে আরো একটি বন্ড দিতে হবে। এতে নিজে বা পরিবারের কোনো সদস্য যৌতুক গ্রহণ কিংবা যৌতুক প্রদান করবেন না; এ মর্মে অঙ্গীকার করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করে থাকলে বা বিয়ের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ থাকলে তার নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
নিয়োগের পর কোনো কর্মকর্তার বিষয়ে বিরূপ বা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা নিয়োগ বাতিলের অধিকারও কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে।
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ১৩(১) উপবিধি অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন বা দখলে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণসংবলিত ঘোষণাপত্র চাকরিতে যোগদানের সময় সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এছাড়া ১৩(২) উপবিধি অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর ডিসেম্বর মাসে সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধির হিসাব সংবলিত বিবরণী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।
গেজেটে প্রভাষক পদে বাংলা বিভাগে ৬১ জন, ইংরেজিতে ৪৪, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৪৯, দর্শনে ২৭, অর্থনীতিতে ৩৬, প্রাণিবিদ্যায় ১২, ইতিহাসে ২৭, সমাজকল্যাণে ২২, রসায়নে ২৯, ইসলাম শিক্ষায় ১১, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ৩০, পদার্থবিদ্যায় ২২, উদ্ভিদবিদ্যায় ২২ জনকে মনোনীত করা হয়েছে।
এ ছাড়া সমাজবিজ্ঞানে ১৫ জন, গণিতে ৩০, ভূগোলে ১৫, হিসাববিজ্ঞানে ২৬, মার্কেটিংয়ে ১০, ব্যবস্থাপনায় ৩১, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ে ১৭, মনোবিজ্ঞানে ৯, কৃষিবিজ্ঞানে ৪, পরিসংখ্যানে ১২, সংস্কৃতে ৩, গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে ৬, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ২৪ এবং খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের জন্য দুজনকে ক্যাডার পদে নিয়োগে মনোনীত করা হয়েছে।
এই বিসিএসে মোট ৩ লাখ ১২ হাজারের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছিলেন।
এমইউ/