বিএমজে ওপেন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা
অবসাদে দেশের ৭০ ভাগ প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক, পেশাগত অর্জনে অসন্তুষ্ট ৯৫ ভাগ
মো. মনির উদ্দিন: দীর্ঘ সময় হাসপাতালে দায়িত্ব পালন আর রাত জেগে অন্যের জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ের মধ্যে নিজের ঘুম, বিশ্রাম আর মানসিক স্বস্তি খোয়াচ্ছেন দেশের অনেক তরুণ চিকিৎসক। বিশেষজ্ঞ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যাঁরা স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণে আছেন, তাঁদেরই বড় একটি অংশ এখন পেশাগত ক্লান্তি ও অবসাদের ভারে ন্যুব্জ।
দেশের তিনটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭০৩ জন প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসককে নিয়ে ছয় মাস ধরে পরিচালিত এক গবেষণায় এমন চিত্র ফুটে ওঠেছে। গবেষণাটি সম্প্রতি ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল সিরিজের একটি জার্নাল বিএমজে ওপেন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
ট্রপিক্যাল ডিজিজ অ্যান্ড হেলথ রিসার্স ফাউন্ডেশন এবং পাই রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের যৌথ পরিচালনায় এই গবেষণায় চিকিৎসকদের ৭০ শতাংশের মধ্যে পেশাগত অবসাদ পাওয়া গেছে। তাঁদের দৈনিক গড় ঘুম ৬ দশমিক ৩ ঘণ্টা আর অর্ধেকের বেশি চিকিৎসক তাঁদের বর্তমান প্রশিক্ষণ নিয়ে অসন্তুষ্ট। আরও উদ্বেগের বিষয়, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক বিশেষায়িত বিষয় পরিবর্তন, চিকিৎসা পেশা ছেড়ে দেওয়া কিংবা বিদেশে চলে যাওয়ার কথাও ভেবেছেন। সামগ্রিকভাবে, ৫২.৯% প্রশিক্ষণার্থী তাঁদের প্রশিক্ষণ নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। প্রায় ৪০.৭% বিশেষায়িত বিষয় পরিবর্তনের, ৩৭.৮% পেশা পরিবর্তনের এবং ৪১.৭% বিদেশে পাড়ি জমানোর কথা বিবেচনা করেছেন।
গবেষণা ফলাফলটি শুধু চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত ক্লান্তি বা হতাশার চিত্র নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, কর্মপরিবেশ ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনে।
গবেষণায় সম্পৃক্তদের শঙ্কা, আগামী দিনে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রস্তুতিতে থাকা চিকিৎসকদের যদি সুস্থ থাকার মতো সময়, পরিবেশ ও সহায়তা না থাকে, তাহলে সেই সংকটের ছায়া শেষ পর্যন্ত পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর পড়তে পারে।
গবেষণায় যুক্ত পাই রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের লিড রিসার্চার ও ট্রপিক্যাল ডিজিজ অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন মেডিভয়েসকে জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের পেশাগত অবসাদ পরিমাপের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত প্রশ্নমালা (Abbreviated Maslach Burnout Inventory) গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে। এতে মূলত তিনটি বিষয় দেখা হয়—কাজ করতে করতে মানসিক ও আবেগীয়ভাবে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া, কাজ বা রোগীর প্রতি মানসিক দূরত্ব তৈরি হওয়া এবং নিজের পেশাগত অর্জন সম্পর্কে নেতিবাচক অনুভূতি তৈরি হওয়া।
২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গবেষণাটি করা হয়েছে। এতে মেডিসিন, সার্জারি এবং স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগে স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণরত ৭০৩ জন চিকিৎসক অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে এফসিপিএস, এমডি, এমএস, ডিপ্লোমা ও এমফিল কোর্সের প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল প্রায় ৩১ বছর, যাদের প্রায় ৫৬ শতাংশ নারী।
অবসাদে প্রতি ১০ জনে ৭ চিকিৎসক
গবেষণায় অংশ নেওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে ৭০ শতাংশের পেশাগত অবসাদ পাওয়া গেছে। ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে ছিল তীব্র মানসিক ও আবেগীয় ক্লান্তি। প্রায় ৫৮ শতাংশের মধ্যে কাজ বা রোগীর প্রতি মানসিক দূরত্ব তৈরির প্রবণতা পাওয়া গেছে। আর ৯৪ দশমিক ৭ শতাংশের মধ্যে নিজের পেশাগত অর্জন নিয়ে সন্তুষ্টির ঘাটতি ছিল।
ঘুম কম, কাজ বেশি
গবেষণায় চিকিৎসকদের কর্মঘণ্টা ও ঘুমেরও একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া গেছে। এতে দেখা গেছে, একজন প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক সপ্তাহে গড়ে প্রায় ৫৭ ঘণ্টা কাজ করেছেন। প্রায় ৬৭ শতাংশ চিকিৎসক সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে তাঁদের দৈনিক গড় ঘুম ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৩ ঘণ্টা। প্রায় ৬৪ শতাংশ চিকিৎসক দিনে সাত ঘণ্টার কম ঘুমাতেন। ঘুমের সঙ্গে পেশাগত অবসাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কও দেখা গেছে।
যাঁরা দিনে সাত ঘণ্টার কম ঘুমাতেন, তাঁদের ৭৪ দশমিক ৯ শতাংশের মধ্যে পেশাগত অবসাদ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সাত ঘণ্টা বা তার বেশি ঘুমানো চিকিৎসকদের মধ্যে এই হার ছিল ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ। বয়স, লিঙ্গ, বৈবাহিক অবস্থা ও আর্থিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও কম ঘুমের সঙ্গে পেশাগত অবসাদের উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
তবে গবেষকেরা বলছেন, এই গবেষণা একই সময়ে চিকিৎসকদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে করা হয়েছে। তাই কম ঘুমের কারণেই পেশাগত অবসাদ হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্ত এ গবেষণা থেকে দেওয়া যাবে না। বরং বলা যায়, কম ঘুম ও পেশাগত অবসাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
সপ্তাহে কত ঘণ্টা কাজ করছেন, তার সঙ্গে পেশাগত অবসাদের কোনো উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যানগত সম্পর্ক পাওয়া যায়নি—একক বা বহুচলক, কোনো বিশ্লেষণেই নয়। গবেষকদের ব্যাখ্যা, প্রায় সব অংশগ্রহণকারীই দীর্ঘ সময় কাজ করায় (৬৭ শতাংশের বেশি সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি) কর্মঘণ্টার তেমন তারতম্য ছিল না, তাই এর সঙ্গে অবসাদের সম্পর্ক আলাদা করে ধরা পড়েনি।
নারী-পুরুষে পার্থক্য
গবেষণায় লিঙ্গভেদেও কিছু পার্থক্য চোখে পড়েছে। পুরুষ চিকিৎসকদের মধ্যে কাজ বা রোগীর প্রতি মানসিক দূরত্ব তৈরির প্রবণতা (ডিপারসোনালাইজেশন) তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে, আর নারী চিকিৎসকদের মধ্যে নিজের পেশাগত অর্জন নিয়ে সন্তুষ্টির ঘাটতি বেশি দেখা গেছে। তবে সার্বিক পেশাগত অবসাদের হারে নারী-পুরুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।
প্রশিক্ষণে অসন্তুষ্ট অর্ধেকের বেশি
গবেষণার আরও কিছু তথ্য দেশের ভবিষ্যৎ চিকিৎসক জনবল নিয়ে ভাবনার কারণ হতে পারে। অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকদের ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ তাঁদের বর্তমান প্রশিক্ষণ নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন।
৪০ দশমিক ৭ শতাংশ কখনো নিজের বিশেষায়িত বিষয় পরিবর্তনের কথা ভেবেছেন। ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ চিকিৎসা পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়ার কথা বিবেচনা করেছেন। আর ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ বিদেশে চলে যাওয়ার কথা ভেবেছেন।
এই সংখ্যাগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্তমানে যাঁরা স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, তাঁদেরই একটি বড় অংশ আগামী দিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
তাঁদের বড় একটি অংশ যদি প্রশিক্ষণ নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকেন, পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবেন কিংবা বিদেশে চলে যাওয়ার কথা বিবেচনা করেন, তাহলে বিষয়টি আর শুধু ব্যক্তিগত অসন্তুষ্টির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। দীর্ঘ মেয়াদে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ধরে রাখার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
খরচ চালাতে না পেরে অন্য কাজে অর্ধেক চিকিৎসক
গবেষণা তথ্য বলছে, স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অনেক চিকিৎসককে বাড়তি আয়ের জন্য অন্য কাজও করতে হচ্ছে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে বাড়তি চাপ তৈরি করে। গবেষণায় অংশ নেওয়া চিকিৎসকদের প্রায় ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ মূল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের জন্য অন্য কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব কাজের মধ্যে ছিল অন্য ক্লিনিক বা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা প্রদান, ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা এবং টিউশনি করা ইত্যাদি।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যাঁরা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর ছিলেন, তাঁদের মানসিক ও আবেগীয় ক্লান্তি তুলনামূলক কম ছিল। একইভাবে দিনে সাত ঘণ্টা বা তার বেশি ঘুমের সঙ্গেও মানসিক ও আবেগীয় ক্লান্তি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
তবে বিষয়টি একমুখি নয়। যাঁদের বাড়তি আয়ের কাজ ছিল না, সার্বিকভাবে তাঁদের মধ্যে পেশাগত অবসাদের হার বেশি পাওয়া গেছে। অথচ যাঁরা বাড়তি কাজ করতেন, তাঁদের মধ্যেই আবার কাজ বা রোগীর প্রতি মানসিক দূরত্ব তৈরির প্রবণতা (ডিপারসোনালাইজেশন) বেশি দেখা গেছে।
গবেষকদের ব্যাখ্যা, বাড়তি আয় হয়তো আর্থিক চাপ কিছুটা কমায়, কিন্তু তার সঙ্গে বাড়তি কর্মচাপ ও মানসিক দূরত্বও বেড়ে যেতে পারে—তাই ফলাফল দুই দিক থেকেই মিশ্র।
এ থেকে বোঝা যায়, চিকিৎসকদের পেশাগত অবসাদকে শুধু ব্যক্তিগতভাবে ‘চাপ সামলাতে না পারার’ সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে কাজের পরিবেশ, ঘুম ও বিশ্রামের সুযোগ, প্রশিক্ষণের ধরন এবং আর্থিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেন কম চিকিৎসক
পেশাগত অবসাদ ও চাপের হার বেশি হলেও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় মাত্র ১১ দশমিক ৯ শতাংশ চিকিৎসক মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা সংশ্লিষ্ট সেবাদাতার পরামর্শ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত ওষুধ ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন ৬ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ, পেশাগতভাবে ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত চিকিৎসকের সংখ্যা অনেক হলেও তাঁদের তুলনায় খুব কম মানুষই পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কাছে যাচ্ছেন।
অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনামূলক চিত্র
গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের মধ্যে পেশাগত অবসাদের হার নিয়ে আগেও একাধিক গবেষণা হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে এই হার ছিল প্রায় ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
অন্যদিকে সৌদি আরবের একটি গবেষণায় ৫৬ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডের একটি গবেষণায় ৪৬ দশমিক ৩ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকের মধ্যে পেশাগত অবসাদ পাওয়া গেছে।
আর বাংলাদেশের বর্তমান গবেষণায় এই হার ৭০ শতাংশ। তবে বিভিন্ন দেশে গবেষণার পদ্ধতি, হাসপাতালের কর্মপরিবেশ, চিকিৎসকদের দায়িত্ব এবং পেশাগত অবসাদ পরিমাপের পদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে। তাই শুধু সংখ্যার ভিত্তিতে এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না।
প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশের পরিবর্তন জরুরি
গবেষকেরা মনে করেন, সমস্যাটির সমাধানে শুধু চিকিৎসকদের ব্যক্তিগতভাবে চাপ সামলানোর পরামর্শ দেওয়া যথেষ্ট নয়। প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশেও পরিবর্তন প্রয়োজন। এর পাশাপাশি চিকিৎসকদের দায়িত্বের সময়সূচি আরও পরিকল্পিতভাবে সাজানো, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া এবং সহায়ক প্রশিক্ষণ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের কাজ ও শেখার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং তাঁদের কাজের যথাযথ মূল্যায়নের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়াও ট্রেইনি চিকিতসকরা পর্যাপ্ত সুভাইভিশন পাচ্ছে কিনা বা স্কিল ডেভেলপ করছে কিনা তারও মুল্যায়ন থাকা উচিত। নিজের পেশাগত অর্জন নিয়ে সন্তুষ্টির ঘাটতি প্রায় ৯৫ শতাংশ চিকিৎসকের মধ্যে পাওয়া যাওয়ায় এই বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে গবেষকেরা মনে করছেন।
চিকিৎসকের ভালো থাকাও স্বাস্থ্যব্যবস্থার অংশ
স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ একজন চিকিৎসকের পেশাগত জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়েই একজন চিকিৎসক ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন। দেশের ভবিষ্যৎ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ এখন এই প্রশিক্ষণব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সেই সময় যদি দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অপর্যাপ্ত ঘুম, আর্থিক চাপ, প্রশিক্ষণ নিয়ে অসন্তুষ্টি এবং পেশাগত অবসাদের মধ্যে কাটে, তাহলে তার প্রভাব শুধু একজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়। তা প্রত্যক্ষভাবে ছড়িয়ে পড়ে তার সংসার, চারপাশ ও কর্ম পরিবেশে।
গবেষণাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তাই হয়তো শুধু ‘৭০ শতাংশ’ সংখ্যাটি নয়, বরং প্রশ্নটি আরও বড়—যাঁদের হাতে দেশের মানুষের চিকিৎসার দায়িত্ব, তাঁদের প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ কতটা সহায়ক এবং তাঁদের সুস্থ থাকার জন্য আমরা কতটা সুযোগ তৈরি করছি, সে ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া জরুরি।
এমইউ/