তামাকজাত পণ্যে কর বৃদ্ধি ও তামাক নিয়ন্ত্রণে স্পিকারের সঙ্গে পিপিআরসির বৈঠক
মেডিভয়েস রিপোর্ট: তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি এবং তামাক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রমের সঙ্গে বৈঠক করেছে অলাভজনক সামাজিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার’ (পিপিআরসি)। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, তামাক ব্যবহার হ্রাস, তরুণ প্রজন্মকে তামাকাসক্তি থেকে রক্ষা এবং তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুর বোঝা কমাতে কার্যকর করনীতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ী তামাকজাত পণ্যের ওপর উচ্চতর কর আরোপ তামাক ব্যবহার কমানোর অন্যতম কার্যকর জনস্বাস্থ্য কৌশল। একই সঙ্গে একটি সুস্থ, উৎপাদনশীল ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে শক্তিশালী তামাক করনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিনিধি দল জানায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বারোপ, ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস ব্যবস্থা প্রস্তাব এবং তামাকজাত পণ্যের উপকরণ যেমন—অ্যাসিটেট টো ও ফিল্টার রডের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।তবে তামাক কর কাঠামোকে আরও কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে বলেও মনে করেন তারা।
প্রতিনিধি দলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম তুলনামূলকভাবে কম বাড়ানো হয়েছে, যদিও এই শ্রেণির সিগারেট তরুণ ও নিম্ন-আয়ের মানুষের মধ্যে বেশি ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি চার-স্তরবিশিষ্ট মূল্য কাঠামো বহাল থাকায় ভোক্তাদের অপেক্ষাকৃত সস্তা সিগারেটে স্থানান্তরের সুযোগ রয়ে গেছে, যা জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যকে আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
বৈঠকে নিকোটিন পাউচ ও ই-সিগারেটের মতো উদীয়মান নিকোটিনজাত পণ্যের বিষয়ে সুস্পষ্ট আইনি ও নিয়ন্ত্রক অবস্থান গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। প্রতিনিধি দলের মতে, এসব পণ্যের ওপর কর আরোপের আগে তাদের নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার নীতিমালা থাকা জরুরি, যাতে তরুণদের মধ্যে এসব পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি না পায়।
এ সময় প্রতিনিধি দল তামাক কর ব্যবস্থার উন্নয়নে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে—নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করা, প্রতি ১০টি সিগারেটের জন্য নির্দিষ্ট আবগারি শুল্ক চালু, মূল্যস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর কর সমন্বয় এবং ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস ব্যবস্থার স্বচ্ছ ও স্বাধীন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. শফিউল নাহিন শিমুলসহ পিপিআরসির প্রতিনিধিরা।
এমআর/