ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের ওষুধের দাম কমছে
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এবং দেশীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পকে শক্তিশালী করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শুল্ক ও কর ছাড়ের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে সরকার। বিশেষ করে কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ কমানো, ক্যান্সারের আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ দেশে তৈরি এবং চিকিৎসা যন্ত্রাংশের কাঁচামাল আমদানিতে বিশেষ রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সূত্র বলছে, দেশের বিপুল সংখ্যক নাগরিকের জীবন বাঁচাতে এবং চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতেই এই শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
ডায়ালাইসিসের খরচ কমবে ৮০০ টাকা
বাজেটের সবচেয়ে মানবিক সিদ্ধান্ত এসেছে কিডনি রোগীদের জন্য। ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়ার অপরিহার্য উপাদান ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে এতদিন উচ্চ কর ছিল। নতুন বাজেটে ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানির ওপর আরোপিত বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারের এই কর ও ভ্যাট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে কিডনি রোগীদের প্রতিটি ডায়ালাইসিস বাবদ খরচ প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমবে, যা দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসাধীন পরিবারগুলোর জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে প্রায় ৩.৮ কোটি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের কিডনি রোগে ভুগছেন। প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয়ে যায় এবং তাদের ডায়ালাইসিস বা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) একটি সমীক্ষায় দেখানো হয়েছে, বাংলাদেশে ডায়ালাইসিস রোগীদের ৯২% পরিবার চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে মারাত্মক আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়।
হার্টের রিং ও ইন্ট্রাওকুলার লেন্সে ভ্যাট প্রত্যাহার হতে পারে
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় ব্যক্তিগত ব্যয় কমাতে কার্ডিয়াক স্টেন্ট ও ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের সরবরাহ পর্যায়ে বিদ্যমান ১০% ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব বাজেটে করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সূত্রমতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে প্রতিটি কার্ডিয়াক স্টেন্টের দাম ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। একইভাবে কমতে পারে চোখের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রতিটি ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম প্রায় ৫,০০০ টাকা। এ ছাড়া হার্টের রিংয়ের দাম ১০৯৮০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৬২০০০ টাকা করেছে সরকার।
ক্যান্সারের ওষুধে ৯ ধরনের কাঁচামালে কর রেয়াত হচ্ছে
ক্যান্সারের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে প্রতিবছর হাজার হাজার পরিবার পথে বসে যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পকে স্থানীয়ভাবে আন্তর্জাতিক মানের ও কম দামে ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদনে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্যান্সারের ওষুধ তৈরির বিদ্যমান রেয়াতি শুল্ক সুবিধার তালিকায় নতুন করে আরও ৯টি কাঁচামাল যুক্ত করা হয়েছে। এসব কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে দেশে তৈরি ক্যান্সারের ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এইউ/এমইউ