১২ মে, ২০২৬ ০৩:৪৭ পিএম

বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাস

বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাস
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ইনফ্লুয়েঞ্জা গোত্রের ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’ নামক নতুন ও অপরিচিত এক ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের মহামারির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সাধারণ সর্দি-কাশির অ্যাডিনোভাইরাসের চেয়েও অধিক সংক্রামক এই ভাইরাসটি দ্রুত তার চারিত্রিক রূপ বদলাতে সক্ষম। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, ইতোপূর্বে পরিচিত ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’ এবং ‘বি’ ভাইরাসের কথা জানলেও, এই নতুন ‘ডি’ ধরনটি বিশ্ববাসীর জন্য চরম আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সম্প্রতি ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ বাড়ার নেপথ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জার আরও এক প্রতিরূপ ‘সাবক্ল্যাড কে’ ভাইরাসের সক্রিয়তা লক্ষ করা গেলেও গবেষকদের মূল দুশ্চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই রহস্যময় ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি মূলত একটি রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (আরএনএ) ভাইরাস যা আগে কেবল গবাদি পশুর শরীরে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি পশুর দেহ থেকে মানুষের শরীরে অনুপ্রবেশ করার ক্ষমতা অর্জন করেছে বলে ধারণা করছেন আমেরিকার হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপি এবং জার্মানির ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বিজ্ঞানীরা।

যদিও এটি এখনও মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েনি, তবে পশু খামারের কর্মীদের শরীরে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি মেলায় এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মানুষের শরীরে এর সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এই ভাইরাসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি উচ্চ তাপমাত্রাতেও টিকে থাকতে পারে এবং অত্যন্ত স্থিতিশীল, ফলে যেকোনো আবহাওয়ায় এটি দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম।

বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের লিভারে তৈরি হওয়া ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন ডি’ নামক একটি প্রোটিন এই ভাইরাসের সংক্রমণকে আরও মারাত্মক করে তোলে। রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে এই প্রোটিন সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং লিভার ও ফুসফুসের কোষ নষ্ট করতে শুরু করে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এটি শরীরের শক্তির উৎস মাইটোকন্ড্রিয়াকে আক্রমণ করে সুস্থ কোষের মৃত্যু ঘটায়, যার ফলে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্রুত ভেঙে পড়ে। সাধারণ জ্বর বা সর্দি-কাশির মতোই প্রাথমিক উপসর্গ থাকলেও এটি শরীরের ভেতরে ভাইরাসের বিভাজন ও বৃদ্ধিতে সহায়তা দেয়।

বর্তমানে এই ভাইরাসটি ঠিক কবে নাগাদ বড় আকারে বিবর্তিত হয়ে মানুষের শরীরে চরম সংক্রামক রূপ নেবে তা অজানা থাকলেও এর বিস্তার রোধে এখন থেকেই কাজ শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও প্রতিষেধক তৈরির উপায় খুঁজছেন গবেষকরা। 

যেহেতু এটি অত্যন্ত অভিযোজনক্ষম, তাই সাধারণ ফ্লু হিসেবে একে অবহেলা না করে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। আগামী দিনে এই ভাইরাস যেন করোনার মতো বৈশ্বিক বিপর্যয় ডেকে আনতে না পারে, সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে।

জেএইচ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও