২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:২৯ পিএম
বিএমইউতে গোলটেবিল আলোচনা

চিকিৎসকদের ওপর সহিংসতা রোধে আইন ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

চিকিৎসকদের ওপর সহিংসতা রোধে আইন ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) শহীদ ডা. মিল্টন হলে চিকিৎসক সপ্তাহ উপলক্ষে একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন ও চিকিৎসক সপ্তাহ উদযাপন পরিষদ অংশ নেয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সহিংসতা প্রতিরোধের সময় এখনই; চিকিৎসকের উপর সহিংসতাকে না বলুন’।

আলোচনায় চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, যথাযথ স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, সহিংসতার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং নবীন চিকিৎসকদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে ভাস্কুলার সার্জন ডা. সাকলায়েন রাসেলের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি চিকিৎসকদের ওপর সহিংসতা প্রতিরোধে যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ প্রদান, বিশেষ টিম গঠন এবং রোগী ও স্বজনদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি নবীন চিকিৎসকদের ন্যূনতম বেতন ও সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

প্রো-ভিসি (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষায় ‘নিড বেইসড অ্যাসেসমেন্ট’-এর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রায় ৫৫ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে ঝুঁকির মধ্যে কাজ করেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপের পাশাপাশি সহিংসতা ও যৌন হয়রানির ঘটনাও ঘটে, যা চিকিৎসকদের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

বিএমইউ ডিন অধ্যাপক ডা. মো. সাইফ উল্লাহ মুন্সী চিকিৎসকদের নৈতিকতা বজায় রাখা ও রোগীর আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে ডিন ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের কথা বলেন।

ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন সমন্বিতভাবে চিকিৎসক ও রোগীর সুরক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান। রিউমাটোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. সৈয়দ আতিকুল হক চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞান অর্জন ও ইভিডেন্স বেইজড মেডিসিন চর্চার ওপর জোর দেন।

সাংবাদিক শিশির মোড়ল চিকিৎসা সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনে দায়িত্বশীলতা ও সঠিক তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিন আরও বলেন, রোগীর মৃত্যুজনিত ঘটনায় প্রমাণ ছাড়া চিকিৎসকদের দায়ী করে মিডিয়া ট্রায়াল করা উচিত নয় এবং সাংবাদিকদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ বছর চিকিৎসক সপ্তাহ ২৪-৩০ এপ্রিল উদযাপিত হচ্ছে। সহস্র সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত বিনির্মাণে এ দেশের চিকিৎসকেরা যে ত্যাগ, পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে চলেছেন, তা সত্যিই অনন্য।

ভঙ্গুর এই স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার মূল চালিকাশক্তি চিকিৎসকেরা। বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সীমিত সম্পদের মধ্যেও তাঁরা সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। তবুও দুঃখজনকভাবে চিকিৎসকদের জন্য যথাযথ স্বীকৃতির ব্যবস্থা আজও গড়ে ওঠেনি। উপরন্তু, স্বীকৃতিহীন এই স্বাস্থ্যযন্ত্রের ওপর যেন শ্বাসরোধী হয়ে বসে আছে নিরাপত্তাহীনতা।

প্রতিবছর হরহামেশাই চিকিৎসকসহ সব শ্রেণির স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর অসংখ্য সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা, রোগীর সুরক্ষা কিংবা স্বাস্থ্যস্থাপনার নিরাপত্তায় রাষ্ট্র তার সর্বোচ্চ মনোযোগ দেবে—এটাই কাম্য।

পাশাপাশি রোগীর সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার—এই প্রতিশ্রুতিও চিকিৎসক সমাজ বরাবরের মতোই অটুট রেখেছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত চিকিৎসকদের মেধা ও মননের ওপর ভর করে শত বছর ধরে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলছে। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের ঐকতান একদিন এই স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত