অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে আন্তঃমন্ত্রণালয় যৌথ ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর
মেডিভয়েস রিপোর্ট: অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতা বাড়াতে ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (২০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের আয়োজনে এই ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারের ৩৫টি মন্ত্রণালয় এ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে। অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান ও স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু নিয়ে আমরা সবাই আজ একত্র হয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ বলছি এ কারণে যে—জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ দরকার। দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে না পারলে ব্যক্তিগত জীবন থেকে জাতীয় উন্নয়ন—কোনোটাই যথাযথভাবে করা যাবে না। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতেই হোক না কেন এবং যত চ্যালেঞ্জিংই হোক না কেন, আমাদের সুস্থ–সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতেই হবে।’
এ জন্য সরকারি, বেসরকারি, সুশীল সমাজ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা-সমাজের সকল শ্রেণি–পেশার মানুষ—সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল পারস্পারিক অংশীদারত্বের মাধ্যমেই এটা সম্ভব। আর সে কারণেই আজকের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যৌথ ঘোষণা বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি দরকার বেসরকারি উদ্যোগ। দরকার আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কারিগরি সহযোগিতা। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেল প্রয়োগ করে এ–সংক্রান্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে যৌথ ঘোষণা বাস্তবায়ন সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, ‘গত কয়েক বছরে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হারসহ বেশ কিছু বিষয়ে সাফল্য অর্জন করেছে। টিকাদান কর্মসূচিও আন্তর্জাতিক মহলের প্রশংসা পেয়েছে। কিন্তু এর পাশাপাশি একটি নীরব ঘাতক আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, সেটি হলো অসংক্রামক রোগ।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বীকার করতে হবে—স্বাস্থ্য কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। স্বাস্থ্য সার্বজনীন। এটি জাতীয় অঙ্গীকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যখন একটি পাঠ্যক্রম তৈরি করে, সেখানে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা সম্পর্কে সচেতনতা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় যখন কর্মসূচি ও কার্যক্রম গ্রহণ করে, তখন নিরাপদ প্রোটিনের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় যখন নীতি প্রণয়ন করে, সেখানে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা থাকবে।
এভাবে পরিবেশ মন্ত্রণালয়, সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সম্পর্কেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘স্বাস্থ্যকে আমাদের প্রতিটি নীতির কেন্দ্রে স্থাপন করতে হবে। এটিই আমাদের ‘হেলথ ইন অল পলিসিজ দৃষ্টিভঙ্গি’। অর্থাৎ শিক্ষা থেকে পরিবেশ, কৃষি থেকে শিল্প; প্রতিটি খাতেই স্বাস্থ্য হবে প্রথম বিবেচনা—যোগ করেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘আজকের এই ঘোষণার মাধ্যমে আমরা স্পষ্ট করে দিচ্ছি, আমরা আর আলাদা আলাদা খাতে বিভক্ত হয়ে কাজ করব না। আমরা কাজ করব একসাথে, এক উদ্দেশ্যে ও এক প্রতিশ্রুতিতে। আমাদের প্রতিজ্ঞা সুস্পষ্ট এবং দৃঢ়।’
প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর শতকরা ৭১ ভাগ ঘটে থাকে অসংক্রামক রোগের কারণে। এর মধ্যে শতকরা ৫১ ভাগ মানুষের মৃত্যু হয় ৭০ বছর বয়সের নিচে, যাকে অকালমৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের মানুষের ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয় (আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার) ৬৯ শতাংশ, যার বেশির ভাগ অসংক্রামক রোগের জন্য ব্যয় হয়।
এনএআর/
-
২১ মে, ২০২৬
-
২০ মে, ২০২৬
-
২০ মে, ২০২৬